১৫ শ’ বর্গফুটের বাসভবনের হোল্ডিং ট্যাক্স লাগবে না

মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দিলো ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের স্বাধীনতা অর্জনে অসামান্য অবদান রাখায় এক হাজার বীরমুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা দিয়েছে ঢাকা উত্তর ও দণি সিটি করপোরেশন। বিজয় দিবস উপলে গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে এ উপলে উভয় সিটি করপোরেশনের প থেকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা দণি সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্যানেল মেয়র মো: ওসমান গনি। অনুষ্ঠান থেকে দুই সিটি করপোরেশনের তরফ থেকে মোহাম্মদ সাঈদ খোকন ও ওসমান গনি মুক্তিযোদ্ধাদের ১৫০০ বর্গফুট আয়তনের বাসভবনের হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফ, বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা প্রদান, বিনামূল্যে রাজধানীর আধুনিক টয়লেট ব্যবহার ও বিভিন্ন সড়কের নামকরণ মুক্তিযোদ্ধাদের নামে করার ঘোষণা দেন। এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা আরো কিছু দাবি-দাওয়া তুলে ধরলে মেয়র সাঈদ খোকন সেসব দাবি লিখিত আকারে সিটি করপোরেশনে উপস্থাপনের পরামর্শ দেন। সিটি কপোরেশনের বোর্ড সভার মাধ্যমে সেগুলো পূরণ করার আশ^াস দেন। তিনি বলেন, তার মরহুম বাবা মোহাম্মদ হানিফও একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। বাবার কাছ থেকে যুদ্ধস্মৃতিগুলো শুনেছি। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে সামর্থের সবটুকু দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি পূরণ করব। মেয়র বলেন, আমি আপনাদের সন্তান সাঈদ খোকন। আমি আপনাদের জন্য সবকিছু করব।
স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের সাথে বর্তমান বাংলাদেশের আর্থিক পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে সাঈদ খোকন বলেন, আজ বাংলাদেশ পোশাক খাতে, চামড়া খাতে, ওষুধ শিল্পে বিপ্লব সৃষ্টি করেছে। আমেরিকা, লন্ডন, ইউরোপের বিপণি বিতানে বাংলাদেশের পণ্য বিক্রি হয়। এতে করে বেশি আনন্দিত হওয়ারও কারণ নেই। বাংলাদেশের কিছু সময় আগে স্বাধীনতাপ্রাপ্ত চীন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ভারত বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে গেছে। নতুন প্রজন্ম বাংলাদেশকে সেই জায়গায় নিয়ে যাবে তাদের কর্মের মধ্য দিয়ে। কারণ আজ বাংলাদেশ বিশ^ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। তিনি বলেন, গত ২ জুলাই এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। এখন থেকে ১৫০০ বর্গফুট আয়তনের বাসভবনের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো হোল্ডিং ট্যাক্স দেয়া লাগবে না। রাজধানীর টয়লেটগুলোতে তারা পরিচয়পত্র দেখালেই ব্যবহার করতে পারবেন। এ ছাড়া যেসব দাবি তারা করবেন প্রত্যেকটি বিষয় বোর্ডসভায় পাস করানোর ব্যবস্থা করবেন। 
মেয়র বলেন, যেসব বীরমুক্তিযোদ্ধা আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন, তাদের জন্য জুরাইন কবরস্থানে জায়গা সংরতি রয়েছে। প্রয়োজন পড়লে আজিমপুর কবরস্থানেও তাদের জন্য জমি বরাদ্দ দেয়া হবে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেনÑ সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের চেয়ারম্যান মে জে অব: কে এম শফিউল্লাহ, ভাইস চেয়ারম্যান আবু ওসমান চৌধুরী, ডিএনসিসির কাউন্সিলর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মোল্লা, ডিএসসিসির কাউন্সিলর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফী, মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান প্রমুখ। এ সময় দুই সিটি করপোরেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.