ঢাকা, সোমবার,২২ জানুয়ারি ২০১৮

ক্রিকেট

মাশরাফিদের সাফল্যের পেছনে

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৩ ডিসেম্বর ২০১৭,বুধবার, ১১:১২ | আপডেট: ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭,বুধবার, ১১:৩৯


প্রিন্ট
একজন অধিনায়ক হিসেবে মাঝে শুধু এক মৌসুম শিরোপা তুলে ধরতে পারেননি মাশরাফি বিন মুর্তজা।

একজন অধিনায়ক হিসেবে মাঝে শুধু এক মৌসুম শিরোপা তুলে ধরতে পারেননি মাশরাফি বিন মুর্তজা।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) প্রথমবারের মতো শিরোপা অর্জন করেছে মাশরাফি বিন মুর্তজার রংপুর রাইডার্স। তাদের প্রতিপক্ষ ছিল বিপিএলের পাঁচ আসরের তিনবারেরই শিরোপা জয়ী দল ঢাকা ডাইনামাইটস। কিন্তু কোন জাদুতে রংপুরের এ সাফল্য?

একজন অধিনায়ক হিসেবে মাঝে শুধু এক মৌসুম শিরোপা তুলে ধরতে পারেননি মাশরাফি বিন মুর্তজা। যে দলটির শেষ চারে ওঠা নিয়েই সন্দেহ দেখা দিয়েছিল সেই রংপুর রাইডার্সকে নিয়েই আবারও সেই শিরোপা এল তার হাতে। বিপিএলের পাঁচ আসরের মধ্যে চার আসরের শিরোপা জয়ী দলের অধিনায়ক তিনি। ধুকতে থাকা একটি দলের এমন সাফল্যের রহস্য কী? সেই গোপন রহস্য জানালেন অধিনায়ক মাশরাফি নিজেই।

১২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যেন ছয়ের বৃষ্টি হচ্ছিল। ১৮টি ছক্কা হাঁকিয়ে ক্রিস্টোফার হেনরি গেইলের বিধ্বংসী ১৪৬ রানের ইনিংসের পর ম্যাচ অনেকটাই হেলে পড়েছিল রংপুরের দিকে। আর বাকিটা সম্ভব করলেন বোলাররা। সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে ৫৭ রানের জয়ের পর ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিজয়ী অধিনায়ক মাশরাফি জানালেন পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ভাগ্যটাও অনেকটা সহায়তা করেছে দলের সাফল্যে, তাছাড়া খেলোয়াড়দের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘চতুর্থ দল হিসেবে যখন গ্রুপ পর্ব পার করলাম, একটিই বার্তা ছিল, আমরা যে সুযোগ পেয়েছি, সেটা কাজে লাগাতে হবে। আমরা যেন অলআউট ক্রিকেট খেলি, স্বাধীনতা নিয়ে। যেটা করতে মন চায়, সেটা যেন পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে করি। কোনো দোষাদোষী নেই। দায় চাপানো নেই। কেউ কাউকে দোষ দেয়নি। এগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কেউ কাউকে দোষারুপ না করে স্বাধীনভাবে খেলেছি, সফল হয়েছি।’

শেষ চার থেকে শুরু করে ফাইনালে এসে শিরোপা জয়ে প্রধান ভূমিকে পালন করেছেন দলের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। আগে থেকেই তাদের উপর আস্থা ছিল অধিনায়কের। আগেও বলেছেন এরা কিছু করে দেখাবেই। আবারও বললেন, ‘আমরা জানতাম আমাদের দুই তিন জন বড় ক্রিকেটার আছে। তারা যদি বিধ্বংসী ব্যাট করতে পারে, তাহলে অন্য দলের জেতা কঠিন। ওরা ওটাই করেছে। আমরা যা চাচ্ছিলাম তারা সেটাই করেছে।’

দলের এই সাফল্যে ক্রিকেটারদের দলগত পারফম্যান্সের পাশাপাশি ভাগ্যকেও কারণ হিসেবে মনে করেন রংপুর অধিনায়ক। বলেন, ‘আগেরবার তো সেমিফাইনালে উঠিনি। আসলে কোনো রহস্য নেই। ভাগ্য সাথে না থাকলে তো কোনো কিছুই পাওয়া সম্ভব না। আমি ভাগ্যে বিশ্বাস করি। ভাগ্য সমর্থন করছে তাই পারছি। অবশ্যই প্রচেষ্টা বড়। শুধুমাত্র ভাগ্যের উপর বসে থাকলে চলবে না। আপনি চেষ্টা করলেন না কিন্তু ভাগ্যের উপর বসে থাকলেন তাহলে চলবে না। আপনাকে চেষ্টা করতে হবে।’

মাশরাফির চার
আবারো বিপিএল শিরোপা উঠলো মাশরাফি বিন মোর্তজার হাতে। রংপুর রাইডার্সের হয়ে দারুণ আরো একটি মওসুম কাটালেন টাইগারদের ওয়ানডে অধিনায়ক। রংপুর রাইডার্সের এটি প্রথম শিরোপা হলেও মাশরাফির এটি চতুর্থ বিপিএল শিরোপা।

আগের তিনবার তিনি জিতেছে ভিন্ন দুটি দলের হয়ে। সব মিলে পাঁচটি আসরের মধ্যে চারটি শিরোপা উঠলো তার হাতে। বিশ্বের আর কোন ফ্রাঞ্চাইজি লিগেই এমন নজির আর নেই।

২০১২ সালে টুর্নামেন্টের প্রথম আসরে মাশরাফি শিরোপা জেতেন ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে। ফাইনালে বরিশালকে পরাস্থ করেছিলো তার দল। ব্যাট হাতে ইমরান নাজিরের ৭৫, এনামুল হকের ৪৯ এবং বল হাতে শহীদ আফ্রিদির জ্বলে ওঠাই হাসি ফুটিয়েছিলো নড়াইল এক্সপ্রেসের মুখে।

২০১৩ সালে দ্বিতীয় আসরে ফাইনাল খেলেছিলো ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স ও চিটাগং কিংস। এবারো ফাইনালে জ্বলে ওঠেন এনামুল হক বিজয়(৫৮)। সাথে ছিলেন সাকিব আল হাসান(৪১)। ঢাকা ম্যাচ জিতেছিলো ৪৩ রানে।

এক বছর বন্ধ থাকার পর ২০১৫ সালে ডিসেম্বরে আবার বসে বিপিএলের আসর। এবার নতুন দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে শিরোপা জিতে হ্যাটট্রিক করেন মাশরাফি। তবে টুর্নামেন্টের চতুর্থ আসরে কুমিল্লার হয়ে মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখতে হয় ম্যাশকে। তার দল গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। সেবার শিরোপা ওঠে ঢাকা ডায়নামাইটসের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের হাতে।

চলতি বছর বিপিএলের পঞ্চম আসরে মাশরাফির কাঁধে ওঠে রংপুরের নেতৃত্ব, যথারীতি আবারো দলকে শিরোপার স্বাদ এনে দিলে তিনি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫