মহাসড়কে ধান শুকানোয় বাড়ছে দুর্ঘটনা

মো. আব্দুল আউয়াল ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ)

ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে ধান শুকানোর কাজ। রোদে দেয়া ধানের উপর দিয়ে গাড়ী চলাচল ঠেকাতে দু’পাশে কলা গাছের খন্ড অথবা কাঠের গুড়ি ফেলে রাখা হচ্ছে । রাস্তার দু’পাশে এভাবে ধান শুকানোয় বাড়ছে দুর্ঘটনা। দুর্ঘনার বেশি শিকার হচ্ছে মোটরসাইকেল ও ত্রিহুইলারগুলো। দূরপাল্লার গাড়ী গুলো চালাতে হচ্ছে ধীর গতিতে যার ফলে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এ মাসেই মহাসড়কে প্রাণ গেছে ৫ জনের। আহত হয়েছে আরো অর্ধশত লোক।
সরেজমিন দেখা যায়, ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের কলতাপাড়া থেকে শুরু করে মুশুল্লি পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে ধান শুকাচ্ছে মহাসড়কের পাশের বাসিন্দারা। ধান রোদে দেয়ার পর দু’পাশে কলা গাছ অথবা কাঠের গুড়ি ফেলে রাখার কারণে রাস্তা সংকোচিত হয়ে যাওয়ায় গাড়ি চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। প্রায় সময়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। মোটরসাইকেল ও সিএনজি যাতীয় ত্রিহুইলার গুলো দুর্ঘটনার কবলে বেশি পড়ছে।
ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জ ও ভৈরব গামী শ্যামছায়া ও এমকে সুপারের গাড়ি চালকদের সাথে কথা হলে তারা জানান, ধান শুকাতে দিয়ে গাছের গুড়ি ফেলে রাখায় গাড়ি চালাতে হচ্ছে অপেক্ষাকিত ধীর গতিতে। প্রায় সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশে চলা ছোট গাড়িগুলোতে ধাক্কা লাগায় দুর্ঘটনায় পড়তে হচ্ছে। সিএনজি চালক আইয়ুব আলী জানান, রাস্তার দু’পাশে ধান রোদে দেয়ায় মাঝ রাস্তা দিয়ে সিএনজি চালাতে হয়। এতে প্রায় সময় বড় গাড়ি গুলো সিএনজিকে ধাক্কা দিয়ে উল্টে দিচ্ছে। ঈশ্বরগঞ্জ পরিবহন শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রয়েল বলেন, এ মৌসুমে রাস্তা ছাড়াও ধান শুকানোর প্রচুর জায়গা রয়েছে। একটু সচেতন হলে আমরা অনেক দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে পারি। এসব কারণে এ মাসেই ৫জনের প্রাণ গেছে এ মহাসড়কে। আহত হয়েছে আরো অর্ধশতাধিক। রাস্তায় ধান শুকাতে না দেওয়া ভাল।
উপজেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী বাবুল মিয়া জানান, সড়কে ধান শুকানোর কাজে কৃষকদের বাঁধা দেওয়া হলেও তারা তা মানছেন না। বিষয়টি নিয়ে যথাযত কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর রোকনুজ্জামান জানান, মহাসড়কের দু’পাশে ধান শুকানোর ফলে ছোট ছোট গাড়ি গুলো প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। দুর্ঘটনা কবলিত স্থানে উদ্ধার কাজে দ্রুত পৌছতেও তাদের সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া সড়কে যারা ধান শুকানোর কাজে ব্যস্ত ঝুঁকিটাতো তাদেরই বেশি। তিনি বলেন, আমার অনুরোধ থাকবে তারা যেন তাদের নিরাপত্ত্বার বিষয়টা নিজেরাই নিশ্চিত করে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.