স্থানীয় নেতাদের পাশাপাশি আছেন বাইরের প্রার্থীও

ঢাকা-১৩ আসন
মঈন উদ্দিন খান

রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা নগরের আংশিক নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৩ আসন। উত্তর সিটি করপোরেশনের মোহাম্মদপুরের ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড, আদাবরের ২৯ নম্বর ওয়ার্ড ও শেরেবাংলা নগরের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে আসনটির পরিধি বিস্তৃত। সংসদীয় তালিকায় ১৮৬ নম্বরে এ আসনটি।
১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ এলাকায় (তৎকালীন ঢাকা-৯ আসন, ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুর) বিএনপির প্রার্থী ছিলেন মরহুম মীর শওকত আলী। ওই নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী মকবুল হোসেনের কাছে পরাজিত হন। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মরহুম অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমাদ আওয়ামী লীগের প্রার্থী মকবুল হোসেনকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা নগরের আংশিক নিয়ে গঠিত হয় ঢাকা-১৩ আসন। ওই নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর কবির নানকের কাছে পরাজিত হন। আর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বয়কট করে বিএনপি।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা মাঠে নেমেছেন। ১৯৯১ সালের পর থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সব ক’টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোহাম্মাদপুর-আদাবর আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের কেউ এই এলাকার ভোটার ছিলেন না। এখন পর্যন্ত যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাতে আগামী নির্বাচনেও বাইরের কেউ মনোনয়ন পান কি না তা নিয়ে আলোচনা আছে নেতাকর্মীদের মধ্যে।
জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে জাতীয় নির্বাচন করেছিলেন এখান থেকে। তিনি ওই এলাকার ভোটার ছিলেন না। এমনকি আসনটি তিনি ছেড়ে দেয়ার পর উপনির্বাচনে নির্বাচিত ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারও ওই এলাকার ভোটার ছিলেন না। তবে এখন পর্যন্ত মনোনয়নপ্রত্যাশী যাদের নাম শোনা যাচ্ছে, তাতে এবার এই প্রবণতা ভাঙতেও পারে। কেননা বাইরের প্রার্থীর পাশাপাশি মাঠে সক্রিয় আছেন স্থানীয় নেতারাও। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেনÑ ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আব্দুস সালাম। তার বসবাস ঢাকার শান্তিনগরে, জন্ম ফকিরাপুলে। তিনিও ঢাকা-১৩ আসনের ভোটার নন।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তিনি এবার ঢাকার অন্য কোনো আসনে নির্বাচন করার চিন্তা করছেন বলে জানা গেছে। এর বাইরে ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসভাপতি আতিকুল ইসলাম মতিন ও সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডভোকেট খন্দকার জিল্লুর রহমান এ আসন থেকে নির্বাচন করতে আগ্রহী।
আগামী নির্বাচনে এ আসনটি পুনরুদ্ধারে বিএনপির প্রার্থীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। আব্দুস সালাম নির্বাচনী এ এলাকায় জনসংযোগ শুরু করেছেন। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন তিনি। ওয়ার্ড-ভিত্তিক নেতাদের সাথে মতবিনিময় চালিয়ে যাচ্ছেন আব্দুস সালাম। নয়া দিগন্তকে তিনি বলেন, দল মনোনয়ন দিলে তিনি এই আসন থেকে নির্বাচন করতে চান। নির্বাচনের জন্য এলাকায় তিনি নিয়মিত গণসংযোগ করছেন।
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান এ আসনে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী। জিল্লুর রহমান ৩০ বছরেরও অধিক সময় মোহাম্মদপুরে বসবাস করছেন। এলাকার বহু শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক তিনি। বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের সাথেও তার সুসম্পর্ক আছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। নয়া দিগন্তকে জিল্লুর রহমান বলেন, বিএনপির একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে আমি গর্বিত। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে মোহাম্মদপুর- আদাবরের এ আসনটি আমি পুনরুদ্ধার করে বেগম খালেদা জিয়াকে উপহার দিতে পারব।
মহানগর উত্তর বিএনপির সহসভাপতি আতিকুল ইসলাম মতিন এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী। তিনিও গণসংযোগ করে যাচ্ছেন।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলেছেন, তারা গ্রহণযোগ্য প্রার্থী চান। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে থেকে কাউকে মনোনয়ন দেয়ার দাবিও তাদের।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.