ঢাকা, মঙ্গলবার,২৩ জানুয়ারি ২০১৮

স্বাস্থ্য

শীতে শিশুর গলা ব্যথা

নিরাময় প্রতিবেদন

১২ ডিসেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৭:৪৪


প্রিন্ট
শিশুর  গলা ব্যথা

শিশুর গলা ব্যথা

শীতকাল এলে কোনো শিশু কমপক্ষে একবার গলাব্যথার সমস্যায় ভোগে না এমন ঘটনা বিরল। সুতরাং আপনার শিশু যদি শীতকালে আপনাকে বলে যে, তার গলার ভেতরটা চুলকাচ্ছে কিংবা ঢোক গেলার সময় ব্যথা লাগছে, আপনি ভয় পাবেন না। কারণ অনেক গলা ব্যথাই ভাইরাসজনিত সংক্রমণের কারণে হয়, এসব ব্যথা মাত্র অল্প কয়েকদিন থাকে এবং এরপর আপনা আপনি চলে যায়।

ভাইরাসজনিত গলা ব্যথার চিকিৎসার সহজ উপায় হলো সাময়িক উপসর্গগুলো দূর করা। তবে আপনার শিশুর গলা ব্যথা যদি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণে হয়, তাহলে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হবে। এ কারণে, শিশুর গলা ব্যথা হলে চিকিৎসক ডাকবেন। স্ট্রেপটোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমণ ঘটার ঝুঁকি সবসময় থাকে। এই জীবাণুটি গলা ব্যথা এবং টনসিলের প্রদাহের জন্য দায়ী। আপনার চিকিৎসক গলার লালার কালচার পরীক্ষা করে দেখবেন এই জীবাণুটি আক্রমণ করেছে কিনা।

আর যদি আপনার শিশুর গলা ব্যথা কোনো মামুলি ভাইরাসজনিত সংক্রমণের করণে হয়, তাহলে আপনি শিশুকে আরাম ও উপসর্গ থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য নিচে বর্ণিত কিছু ঘরোয়া ব্যবস্থার চেষ্টা করতে পারেন-

মুখে পানি তৈরির চেষ্টা করুন
শিশুর থুথু যাতে বেশি হয়, আপনি সেই চেষ্টা করবেন। এর জন্য শিশুকে মেডিকেটেড লজেন্স চুষতে দিন। এতে ব্যথা কমবে এবং প্রদাহজনিত প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট বর্জ্য পদার্থও ধুয়ে যাবে।

আদা মেশানো পানীয় দিন
শিশুর গলা ব্যথায় তাকে দীর্ঘ সময় আদা মেশানো পানীয় পান করতে দিন। অন্যান্য কিছু সোডা এ ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে, তবে তা পরিবেশনের আগে কোমল করে নিন। যদি এই পানীয়তে বেশি বুদ্বুদ থাকে, তাহলে শিশুর গলা জ্বালাপোড়া করতে পারে। কার্বোনেশন খুবই জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে।

বেশি টকজাতীয় পানীয় দেবেন না
গলা ব্যথায় শিশুকে এমন কোনো পানীয় দেবন না যা খুব টক- এগুলো শিশুর কাছে শিরিস কাগজের মতো মনে হতে পারে। আপনার শিশু ভালোবোধ না করা পর্যন্ত তাকে কমলা, আনারস, মোসাম্বলেবু কিংবা টমেটোর রস দেবেন না। এ ক্ষেত্রে শিশুর জন্য আপেলের রস খুব চমৎকার হবে। সুতরাং শিশুকে আপেলের রস দিন।

চামচে করে আরামদায়ক কিছু খেতে দিন
অন্য কোনো ‘ওষুধ’ শিশু কিছুতেই মন থেকে গ্রহণ করতে চায় না। গলা ব্যথায় স্বস্তি দিতে যেকোনো বস্তুর চেয়ে আইসক্রিম ভালো কাজ করে। তবে এটা পরিবেশনের আগে কয়েক মিনিট আপনি ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে দিতে পারেন। যেকোনো ঠাণ্ডা খাবারই গলা দিয়ে নামানো অস্বস্তিকর হতে পারে। যাই হোক, আপনার শিশু যদি ঠাণ্ডা কিছু খেতে চায় এবং সেটা সহ্য করতে পারে, তাহলে তাকে সেটা খেতে দিন। কোনো কোনো শিশু গলাব্যথার সময় ঠাণ্ডা কিছু খেতে পছন্দ করে। এটা সবই শিশুর উপর নির্ভর করে।

বোতলে ফিরে যান
যদি আপনার শিশু কাপ থেকে পান করার মতো যথেষ্ট বড় হয়েও থাকে, তবু গলা ব্যথার সময়টুকু আপনি বোতলে ফিরে যান। এ সময়ে বোতলে পান করা ভালো। কারণ এতে গলার পেছনটা পরিষ্কার হয় এবং ভেজা থাকে। আপনার শিশু যে পানীয় পান করবে, সেটা বোতলে ভরে দিন।

শুকনো বাতাস আর্দ্র রাখুন
কিছু গলা ব্যথার সৃষ্টি হয় মুখ দিয়ে শ্বাস টানার জন্য, বিশেষ করে ঘুমানোর সময়। আর এ সমস্যা বেশি ঘটে যদি ঘরের মধ্যকার বাতাস অতিরিক্ত শুকনো থাকে। আপনার শিশুর ঘরে হিউমিডি ফিয়ার অথবা ছোট বাস্প ভ্যাপোরাইজার রাখলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।

ব্যথানাশক ওষুধ দিন
এসিটামিনোফেন বা প্যারাসিটামল শিশুর গলা ব্যথা উপশম করতে সাহায্য করে এবং এতে শিশু আরাম পাবে। শিশুকে প্যারাসিটামল সিরাপ দেয়ার সময় মোড়কের গায়ে লেখা শিশুর বয়স ও ওজন অনুযায়ী সঠিক মাত্রা দেখে নিন এবং সে অনুযায়ী তাকে ওষুধ দিন। যদি আপনার শিশুর বয়স দুই বছরের কম হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরমার্শ নিন।

কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন
যদিও শিশুর গলা ব্যথা খুব তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যায়, তবু শিশু গলা ব্যথার অভিযোগ করার শুরুতেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। আপনার চিকিৎসক শিশুকে পরীক্ষা করে নির্ণয় করবেন এটা মারাত্মক গোছের কিনা। যদি স্ট্রেপটোকক্কাসজনিত সংক্রমণের কারণে গলা ব্যথা হয়, আপনার চিকিৎসক উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক দেবেন। আর যদি তা না হয়, তাহলে তিনি ঘরোয়া চিকিৎসার পরামর্শ দেবেন।

যাই হোক, আপনার শিশুর যদি নিচের উপসর্গগুলো থাকে, তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন-
• ব্যথা যদি দুই থেকে তিন দিনের বেশি স্থায়ী হয়।
• শিশু যদি কিছু পান করতে না চায়।
• শিশুর জ্বর যদি ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইটের চেয়ে বেশি থাকে।
• শিশুর গলার মধ্যে পেছন দিকে যদি সাদা সাদা দাগ লক্ষ করেন।
• শিশুর গলার স্বর যদি পরিবর্তিত হয়।
• শিশুর যদি শ্বাস নিতে বা কিছু গিলতে কষ্ট হয়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫