আতঙ্কের নাম আইবিএস
আতঙ্কের নাম আইবিএস

আতঙ্কের নাম আইবিএস

ডা: এস এম আব্দুল আজিজ

কথায় বলে পেট ঠিক তো দুনিয়া ঠিক। যার পেট আছে তার সমস্যাও আছে। যার পেটে সমস্যা তার শরীরে সমস্যা লেগেই থাকবে। চোখের সামনে সুন্দর সুস্বাদু খাবার থাকলেও পেটের সমস্যার কারণে জিহ্বা সামলে নিতে হয়। আর মনের ভেতরের আফসোস চাপা রেখে, না খেয়ে হাত ধুয়ে উঠতে হয়। পেটের সমস্যাগ্রস্ত রোগীর ভোগান্তির অন্ত নেই। আইবিএস অনেকের কাছে একটি আতঙ্কের নাম। আইবিএসের (ইরেটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম) রোগীরা দীর্ঘ মেয়াদি পেটের সমস্যা, অর্থাৎ বদহজম ও আমাশা চির জীবনের সঙ্গী হয়ে যায়। পেটে হঠাৎ করে কামড় দেবে এবং সাথে সাথে বাথরুমে যেতে হবে।

এমনও ব্যক্তি আছে যারা দিনে চার-পাঁচবার বাথরুমে যাওয়া লাগে। ভোর বেলা একবার, ঘুম থেকে উঠার পর একবার, সকালে নাশতা খাওয়ার পর একবার, বিকেলে ও রাতে একবার করে, অনেক সময় খাবার খাওয়ার পরপরই বাথরুমে যেতে হয়। সারা দিন পেট ডাকে ও পেটের মধ্যে ভুটভাট করে। পেটের অশান্তি বড়ই অশান্তি। যার সমস্যা হয় সে-ই জানে পেটের জ্বালা কি জ্বালা।

ইরেটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম (আইবিএস) : এই রোগ নির্ণয়ের জন্য সাধারণত কোনো পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। রোগী যে সমস্যা বা রোগের বর্ণনা দেয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাতেই রোগ নির্ণয় হয়ে যায়। রোগীর মুখের কথায় যাবতীয় লক্ষণ পাওয়া যায়।

আইবিএসের উপসর্গ : বদ হজম, পেটের মধ্যে ভুটভাট শব্দ করে, পেটের মধ্যে কোক কোক করে ডাকা বা আহারের পর পেটের অশান্তি বৃদ্ধি, পায়খানার সাথে বিজল যায়, পেটে কামড় দিয়ে ব্যথা করে ও বাথরুম সারার পরও মনে হয় যেন এখনো ভেতরে কী যেন আটকে আছে। বাথরুম করার পর কিছু সময়ের জন্য আরাম অনুভব হবে। মাঝে মধ্যে বাথরুম নরম হবে, আবার কিছু দিন কোষ্ঠকাঠিন্য হবে।

বিষণ্নতা ও উদ্বিগ্নতাকে এ রোগের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইবিএসের রোগীরা অনেকে নিজেদের সমস্যা নিজেরা চিহ্নিত করতে পারে। কোন খাবার খেলে সমস্যা বাড়ে এবং পেটের সমস্যা কমে তা রোগীরা অনুভাব করতে পারে।

নিষেধ : আইবিএসের রোগীদের আমরা চর্বিযুক্ত খাবার, তৈলাক্ত খাবার, আঁশযুক্ত খাবার, যব, গম, গমের তৈরি খাবার না খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকি। এর সাথে শাকসবজি, ফল, সালাদ ইত্যাদিও নিষেধ। হোটেলের খাবার, দুধ ও দুধের তৈরি খাবার বন্ধ তবে ছানা খাওয়া যাবে। অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার ও গুরুপাক বর্জন করতে হবে।

চেম্বার : আল-আজিজ হেলথ সেন্টার, ৫৫বি, পুরানা পল্টন, নোয়াখালী টাওয়ার (১৩ তলা-ডি) ঢাকা
ফোন : ০১৭১০-২৯৮২৮৭

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.