কংগ্রেসের সভাপতি হলেন রাহুল গান্ধী

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

ভারতের প্রাচীনতম দল কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন রাহুল গান্ধী। সোমবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসের সভাপতি পদে নির্বাচিত বলে ঘোষণা করা হয় ৪৭ বছর বয়সী রাহুলকে। ১৬ ডিসেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
সোমবার ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। বেলা ৩টা পর্যন্ত ছিল সময়সীমা। একমাত্র রাহুলই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তাতে স্বার করে সায় দিয়েছিলেন ৮৯ জন। প্রত্যাশিতভাবে কেউ তাকে চ্যালেঞ্জ জানাননি। রাহুলকে কংগ্রেসের ডার্লিং বয়ের খেতাব দিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। সেই ডার্লিং বয়ই বসলেন ১৩২ বছরের পুরনো দলটির শীর্ষে।
শতবর্ষ পুরনো দলটির শীর্ষে যে ১৫ জন বসেছেন, তাদের মধ্যে গান্ধী পরিবারের সদস্য বলতে চারজনই। স্বাধীনতার পর থেকে গান্ধী উত্তরাধিকারেই চালিত হয়েছে কংগ্রেস। পণ্ডিত জওয়াহেরলাল নেহরু নেতৃত্ব দিয়েছেন তিন বছর। ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধী দু’জনেই আট বছর করে দলকে পরিচালনা করেছেন। এরপর দলের ভার এসে পড়ে সোনিয়া গান্ধীর হাতে। যে সময় তিনি এ দায়িত্বভার পান সে সময় রাজনীতিতে একরকম অপরিণতই বলা যায় তাকে। তার ওপর বিপর্যস্ত গান্ধী পরিবার। নরসিমা রাও, সীতারাম কেশরীদের তখন দাপট। কিন্তু ‘অন্তরাত্মার’ ডাকে সোনিয়া রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকেননি। বরং দিনে দিনে পরিণত হয়েছে তার রাজনৈতিক বোধ-বুদ্ধি। দেশ তার সাী থেকেছে। কংগ্রেসের মতো দলে দীর্ঘকালীন নেতৃত্ব দেয়ার রেকর্ডটিও তাই তারই দখলে। টানা ১৯ বছর কংগ্রেসের সভাপতির পাশাপাশি তার নেতৃত্বে কেন্দ্রে দু’বার মতায় এসেছিল কংগ্রেস। সে যুগের অবসান হলো আজ। কংগ্রেসের প থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাহুলের নাম নতুন সভাপতি হিসেবে ঘোষিত হলো। গান্ধী পরিবারের পঞ্চম ব্যক্তি হিসেবে এ পদে আসীন হলেন তিনি।
আগামী ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে রাহুলের হাতে কংগ্রেসের সভাপতি পদের চুক্তিপত্র তুলে দেয়া হবে। তবে একেবারে মগডালে ওঠেননি সোনিয়া পুত্র। সাধারণ সম্পাদক, সহসভাপতি এবং সভাপতি। বাবার মতো ধাপে ধাপে উত্থান হয়েছে রাজীব তনয়ের। তবে তিনি এমন একটি সময় ব্যাটন পেলেন যখন কংগ্রেস বিরোধী দলের মর্যাদাটুকু পায়নি। লোকসভা নির্বাচনের পর উপর্যুপরি নির্বাচনগুলোতে হাত চিহ্ন ক্রমশ বিভিন্ন রাজ্য থেকে ফিকে হচ্ছে। গুজরাট নির্বাচনের মধ্যগগনে রাহুলের এ মুকুট। তার ভার বহন করা সহজ নয়। তবে দলের ব্যর্থতার দায়ও যেমন তার কাঁধে বর্তাবে সেভাবে সাফল্যের ভালো দিকগুলো ভারতীয় রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা দেবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.