ঢাকা, শুক্রবার,১৯ জানুয়ারি ২০১৮

গল্প

দু'টি পরোটা এবং ক্যাম্পাস জীবন

সাইফুল্লাহ হিমেল

১১ ডিসেম্বর ২০১৭,সোমবার, ১৫:২২


প্রিন্ট
দু'টি পরোটা এবং ক্যাম্পাস জীবন

দু'টি পরোটা এবং ক্যাম্পাস জীবন

'বাবা এই দুই হাজার টাকা দিয়েই মাসটা পার করে দিও। তোমার কষ্ট হবে জানি। কিন্তু তোমার বাবা তো'...বলতে গিয়ে থেমে গেলেন মা। ফের শুনতে চাইল না হিমেল। শুনলে মনটা আরো বেশি খারাপ হবে। বাবা কিভাবে সংসার চালায় তা ভালো করেই জানে হিমেল।

'মা, তুমি চিন্তা করো না। আমার কাছে কিছু টাকা আছে। মাসটা আমি চালিয়ে নিতে পারব। তুমি কিন্তু ঠিকঠাক খেয়ে নিবে। আমাকে নিয়ে চিন্তা করে শরীরটা নষ্ট করো না।' বলে ফোনের লাল বাটনটা চেপে চোখের পানি মুছতে মুছতে পড়ার টেবিল থেকে বেলকনিতে গেল হিমেল।

ঘরে এক মণ ধান ছিল। গত সোমবার পুস্পপাড়া বাজারে বিক্রি করে আধা কেজি আলু আর দশ টাকার ছোট মাছ নিয়ে বাড়ি ফেরে হিমেলের বাবা। 'হায় আল্লাহ... সেকি তুমি শুধু আলু'... থেমে গেলেন মা। কারণ আগামীকাল ছেলে টাকা পাঠাতে হবে। তিন দিন আগে হিমেল টাকার কথা বলেছে। ধান বেচা টাকার সাথে পাশের বাড়ি হিমেলের বড় চাচার কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে দুই হাজার টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা হয়েছে।

আফজাল মামার দোকানে রাতের খাবার খেতে গিয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা জমে উঠেছে। কে কি খাবে? কেউ গরুর গোস্ত ভাত... কেউ পোল্ট্রি, কেউ ডিম। সবার খাওয়া শুরু। টিউবওয়েল থেকে হাত ধুয়ে হিমেল একটা প্লেট নিয়ে খাবারের টেবিলে...। কোনটা খাব... মাছ ৪০ টাকা গোস্ত ৫০। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পকেটে হাত দিয়ে দেখল ৫০ টাকা আছে। সকালে খেতে হলে...। মামা দু'টা পরোটা দেন। সাথে ডাল। নিজের খাবার ইচ্ছেটাকে গলাচেপে ধরে পরাটা দিয়ে রাতের খাবারটা শেষ হলো হিমেলের।

মাসের শেষের দিকে রুম থেকে বেশি বাইরে আসা হয় না। কারণটা পাঠক মহলের যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রেখেছেন বা যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে জড়িত তারাদের বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

২৫ তরিখ মায়ের ফোনে ছেলের কল, ক্রিং...ক্রিং...। ফোন রিসিভ করার আগে মা ভাবছেন কিছু হলো নাকি ছেলেটার। না, আজ তো ২৫ তারিখ। সালাম বিনিময় করে, বাবা...তুই কেমন আছিস? আমি ভালো আছি, তোমার শরীর ভালে তো মা...। টা...কা লাগবে তোর? ছোট করে জিজ্ঞাস করলেন মা। তোর বাবার কাছে তো...। নিজেকে সামলে নিয়ে মন শক্ত করলেন মা। কত...টাকা লাগবে বাবা? মায়ের কন্ঠস্বর আর বলার ভঙ্গিতে পরিস্থিতি বুঝতে মোটেও বাকি নেই। না... আমার টাকা লাগবে না। আমি তোমার খবর নিতে ফোন দিয়েছি। হাজার হলেও মায়ের মন...। তোর বাবা আসলে আমি বলব। আমার কাছে গরুর দুধ বিক্রি করা তিন দিনের টাকা আছে। তোর বাবা জানে না। আমি বিকেলে পাঠিয়ে দিব।

মা-ছেলে ফোন আলাপে পরিবেশ ভারী হয়ে গেছে। মা-ছেলের ফোন আলাপ পুরোটাই শুনে ফেলেছে পাশের রুমের বড় ভাই নাঈম। আমি কথাগুলো শুনেছি বুঝতে পাড়লে হিমেল কষ্ট পাবে। এই ভেবে নিজের রুমে প্রবেশ করল নাঈম। ততোক্ষণে নাঈমের চোখের কোনায় ট..ল..ম..ল.. করছে পানি।

ছেলের মুখে কোনো কথা নেই। কথা ঘুরানোর চেষ্টায় হিমেল। মা, নাজিবা কেমন আছে? নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে তো? আগামী মাসের ১০ তারিখে আমি বাসায় আসব তুমি...। নিজের শরীরের প্রতি খেয়াল রাখিস বাবা...।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫