ঢাকা, মঙ্গলবার,২৩ জানুয়ারি ২০১৮

রাজশাহী

মাঠের পর মাঠ হলুদ রঙের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য

শফিউল আযম, বেড়া (পাবনা) সংবাদদাতা

১১ ডিসেম্বর ২০১৭,সোমবার, ১৪:১৭


প্রিন্ট

পাবনা-নাটোর-সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের কৃষকরা বণ্যায় আমনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যাপকভাবে সরষে আবাদ করেছেন। চলতি মওসুমে তিন জেলায় প্রায় ৬৫ হেক্টর জমিতে আগাম ও নাবী জাতের সরসের আবাদ হয়েছে। এ অঞ্চলের ফসলের মাঠগুলোতে এখন সরষের হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে। মাঠের পর মাঠ জুড়ে বিরাজ করছে থোকা থোকা হলুদ ফুলের দৃষ্টিনন্দন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। সরষের ফুল আকৃষ্ট করছে মৌমাছিসহ প্রকৃতি প্রেমীদের। গোটা অঞ্চল মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠেছে। মৌচাষিরা মধু আহরনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আবহাওয়া অনুকুল থাকলে চলতি মওসুমে এ অঞ্চলে প্রায় তিন লাখ টন সরষে ও দুই হাজার টন মধু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পাবনা জেলার বেড়া, সাঁথিয়া, ফরিদপুর, ঈশ্বরদী, আটঘড়িয়া, সুজানগর চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম, গুরুদাসপুর, লালপুর, সিংড়া, সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া, তারাশ, চৌহালী, রায়গঞ্জ, শাহজাদপুরসহ ২৬টি উপজেলায় চলতি রবি মওসুমে প্রায় ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন আগাম ও নাবী জাতের সরষে চাষ হয়েছে। সরষে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রতি হেক্টরে দুই টন হিসেবে দুই লাখ হেক্টর জমিতে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার টন। উল্লাপাড়া-তারাশ সড়কের দু’ধারে মাঠের পর মাঠ দৃষ্টিনন্দন মনোমুগ্ধকর থোকা থোকা হলুদ ফুলের চাদর বিছানো। সেই হলুদ ছুঁয়েছে দিগন্তরেখায়। চলতি মওসুমে সরষের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পাবনা ও সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলায় প্রায় ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে সরষে আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবছর সরষের আশাতীত ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে কৃষকেরা জানিয়েছেন।
বেড়া উপজেলার যমুনা নদী বেষ্টিত ঢালরচরের কৃষক রমজান আলী জানান, এক একর জমিতে সরষে চাষ করতে খরচ হয় এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে প্রতি বিঘা ছয় থেকে সাত মন সরষে উৎপাদন হয়। প্রতি মন সরষের বাজার মূল্য এক হাজার ৯০০ থেকে দুই হাজার টাকা। অন্যান্য ফসল আবাদ করে প্রতি বিঘায় যে পরিমান লাভ হয় তার চেয়ে ওই পরিমান জমিতে সরষে চাষ করে দ্বিগুণ লাভ করা যায়। এ অঞ্চলে সরষের আবাদ বৃদ্ধির সাথে সাথে বেড়েছে মওসুমি মৌচাষিদের তৎপরতা। সরষে যেমন দিচ্ছে তেল, সাথে দিচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এছাড়া সরষের ফুল ও পাতা ঝরে তৈরি হয় জৈবসার। ফলে কৃষকেরা এখন ধান ও অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি সরষে চাষের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েছে। পাবনার হান্ডিয়াল এলাকার কৃষক ছলিম খা জানন, তিনি পাঁচ একর জমিতে সরষে আবাদ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। সাত বছর ধরে সরষে চাষ করে তিনি প্রতি মওসুমে পৌনে দুই থেকে দুই লাখ টাকা লাভ করেছেন। চলতি মওসুমে আরো বেশি লাভের আশা করছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
ইউরোপিয়ান হাইব্রীড মৌমাছির মৌ মৌ গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠেছে গোটা বিলাঞ্চল। চলতি মওসুমে যদি আবহাওয়া অনুকুল থাকে তাহলে তিন জেলায় দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ টন মধু আহরণের সম্ভাবনা রয়েছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রতি কেজি সর্বনিম্ন ২৫০ টাকা হিসেবে ৪৩ থেকে ৪৫ কোটি টাকা।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫