সন্তানের মোবাইল আসক্তির কারণে আলাদা ঘরে ঘুমাই
সন্তানের মোবাইল আসক্তির কারণে আলাদা ঘরে ঘুমাই

সন্তানের মোবাইল আসক্তির কারণে আলাদা ঘরে ঘুমাই

মেহেদী হাসান

আমার এক সন্তানের বয়স সাড়ে তিন বছর। ঘুম থেকে ওঠার পর শুরু হয় মোবাইল টেপাটিপি আর এ অবস্থা চলে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত। সন্তানের কারণে আমি এখন আলাদা ঘরে ঘুমাই। কারণ আমরা ঘুমিয়ে গেলেও সে মোবাইলে ভিডিও দেখতে থাকে, গেম খেলে। এতে আমার ঘুমের সমস্যা হয়। সন্তানের হাত থেকে মোবাইল নিয়ে গেলে এমন চিৎকার শুরু করে যে, তা থামাতে লাগে আধা ঘণ্টা।

শেষে বাধ্য হয়ে মোবাইল দিয়ে দেই। ভিডিও দেখতে দেখতেই সে একসময় ঘুমিয়ে পড়ে। সন্তানের ঘুমাতে ঘুমাতে অনেক রাত হয়ে যায়। তাই আমি চলে গেছি অন্য রুমে। কারণ আমাকে তো সকালে উঠতে হবে। অফিসে যেতে হবে। রাতে নিরিবিলি ঘুমানো দরকার। কিন্তু সন্তান সাথে থাকলে তার মোবাইল টেপাটিপিতে ঘুমানো যায় না।

কথাগুলো জানান রাজধানীর কমলাপুরের বাসিন্দা রাশেদ। রাশেদ জানান, এক কথায় মোবাইল থেকে আলাদা করা যায় না তার এ ছোট সন্তানকে। মোবাইল ছাড়া তাকে দিয়ে কিছু করানো যায় না। প্রযুক্তির প্রতি তার আসক্তি এতই যে, মোবাইল নিয়ে গেলে তাকে টিভিতে কার্টুন দেখতে দিতে হবে।

রাশেদ জানান, আগে সে টিভির প্রতি বেশি আসক্ত ছিল কিন্তু এখন মোবাইলে বেশি। সাড়ে তিন বছরের সন্তান স্মার্টফোন হাতে নিয়ে ঠিক বড়দের মতো ব্রাউজিং করে। নিজে নিজেই ভিডিও গেম বের করে খেলতে থাকে। কখনো যদি মোবাইল হাত থেকে নেয়া হয় তাহলে টিভি দেখতে দিতেই হবে। না হলেই কান্না। মোবাইল বা টিভি যা-ই দেখুক একদম চোখের সামনে থাকে। ভাত খেতে খেতে কার্টুন দেখতে হবে। দেখতে না দিলে ভাতও খাবে না।

রাশেদের বড় মেয়ের বয়স সাড়ে সাত বছর। প্রথম শ্রেণীতে পড়ে। বড় মেয়ের প্রযুক্তি আসক্তি বিষয়ে তিনি জানান, স্কুল বাদে বাসায় যতক্ষণ থাকে ততক্ষণই সে হয় টিভির সামনে বসে কার্টুন দেখবে অথবা মোবাইলে কার্টুনসহ বিভিন্ন ভিডিও দেখবে। মোবাইলে সে নিজেই ইউটিউব থেকে কার্টুন, গান, গেমসহ যাবতীয় জিনিস ডাউনলোড করতে পারে।

রাশেদ জানান, আমার বাসায় ইন্টারনেট নেই। পাশের বাসায় ওয়াইফাই আছে। সেখান থেকে পাসওয়ার্ড এনে আমরা ব্যবহার করি। সন্তানদের আসক্তির কারণে এটা করতে বাধ্য হচ্ছি। সন্তানদের কাছে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি বলতে পারেন।

রাশেদ জানান, বড় মেয়েকে আমি মাঝে মধ্যে কার্টুন বা টিভি দেখতে নিষেধ করি। সে জন্য আমাকে আমার বড় মেয়ে সহ্য করতে পারে না। আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। টিভি বা মোবাইল দেখতে নিষেধ করলে চিৎকার করে সারা বাড়ি একাকার করে। শেষে বাধ্য হয়ে দেখতে দিতে হয়। তার কারণে আমি বাসায় টিভিতে খবরও দেখতে পারি না। কার্টুন বন্ধ করে অন্য চ্যানেলে গেলেই চিৎকার শুরু করে।
রাশেদ জানান, আমার বড় মেয়ে নিয়মিত প্রতিদিন সাত-আট ঘণ্টা হয় টিভি না হয় মোবাইলের সামনে থাকে। কখনো কখনো ১১-১২ ঘণ্টাও দেখে। বিশেষ করে স্কুল বন্ধের সময় সারা দিন এসব নিয়ে থাকে। স্মার্টফোন, টাচস্ক্রিন মোবাইল ফোন আসার পরে টিভির প্রতি সন্তানদের আকর্ষণ কিছু কমেছে। এখন মোবাইলের প্রতি তাদের আগ্রহ বেশি।

রাশেদ জানান, বড় মেয়েকে স্কুলের পড়া, হোমওয়ার্ক করাতে হয় তার দেয়া শর্ত মেনে। এক ঘণ্টা পড়ালেখা করলে দুই ঘণ্টা মোবাইল ব্যবহার করতে দিতে হবে। মোবাইলে ভিডিও দেখতে দিতে হবে, গেম খেলতে দিতে হবে। তা না হলে সে পড়বে না।

রাশেদ আরো জানান, আমার বড় মেয়ে একেবারে সামনে গিয়ে টিভি দেখে। মোবাইলেও কোনো কিছু দেখার সময় একদম চোখের সামনে ধরে রাখে। এ কারণে তার চোখে সমস্যা হয়েছে। স্কুল থেকে শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, সে একটু পেছনের দিকে বেঞ্চে বসলে বোর্ডের লেখা দেখতে পায় না। ফলে তাকে ডাক্তারের কাছে নিতে হয়েছে। চশমা দিতে হয়েছে। ছোট মেয়েও একদম মোবাইলের ওপর উপুড় হয়ে কার্টুন দেখে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.