ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৮ জানুয়ারি ২০১৮

পাঠক গ্যালারি

বাঙালি কেলা... বহুত মিঠা...

ওহাব ওহী

০৯ ডিসেম্বর ২০১৭,শনিবার, ১৮:১৮


প্রিন্ট
বাঙালি কেলা... বহুত মিঠা...

বাঙালি কেলা... বহুত মিঠা...

আমরা ছিলাম সাত ভাই-বোনের একটি বিশাল পরিবার। একদিন খুব কষ্ট করে আব্বা বড় বোনটিকে বিয়ে দিলেন। বড় ভাই তখনো পড়াশোনা করেন। উপার্জন বলতে একমাত্র তিনিই। চার দিকে শুধু অভাব আর অভাব। আমরা তখন খুব কম সময়ই ভাত খেতে পারতাম। শুধু রুটি আর রুটি। এভাবে প্রত্যহ সকাল-বিকেল আমাদের লাল মরিচবাটা আর আটার রুটি খেয়েই কোনোরকম দিন কাটতে লাগল।

মুক্তিযুদ্ধের শেষ ভাগ। সর্বত্র জ্বালাও-পোড়াও আতঙ্ক। পাকসেনাদের ভয়ে ঢাকার অনেক অনাত্মীয়ও আত্মীয় হয়ে আমাদের বাড়িতে আসতে লাগলেন। সব মিলিয়ে সেই দুর্যোগময় সঙ্কটাপন্ন সময়ে সেকি হাহাকার অবস্থা আমাদের অভাব-অনটনের সংসারে।
এরই মধ্যে আব্বা একদিন কাঁচামাল বিক্রি করতে কাওরানবাজার গেলেন। আমরা ভাইবোনেরা অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছি, তিনি কখন আসবেন। কেননা কোনো কিছু বিক্রি করতে যাওয়া মানেই তিনি আমাদের জন্য কিছু-না-কিছু নিয়ে আসবেন। আমরা তার আসার রাস্তায় তীর্থের কাকের মতো দাঁড়িয়ে থাকতাম।

গাবতলী বড়বাজার ব্রিজের পাশেই লাগোয়া বেইলি ব্রিজ, তার ওপর দিয়ে আব্বা হাঁটছেন। ব্রিজে দুইজন সশস্ত্র পাক আর্মি দাঁড়িয়ে। আব্বার হাতে একফানা সাগর কলা। কাছে আসতেই একজন আব্বার পথ আটকালেন।
-এই বাঙালি আদমি STOP! এদারমে আও...
হাতের দিকে ইঙ্গিত দিয়ে বললেন- তোমহারা হাত মে কিয়া হে?
আব্বা এমনিতেই ভীতু মানুষ। কষ্টার্জিত হাসি দিয়ে থতমত খেয়ে বললেন- এইড্যা হইলো কলা স্যার... কলা।
-আচ্ছা কেলা? এই বলেই ওই পাকসেনা ফানা থেকে একটি কলা ছিঁড়ে খেতে লাগলেন। তৃপ্তির ঢেঁকুর দিয়ে আরো বলতে লাগলেন- বাঙালি কেলা বহুত আচ্ছা হ্যায়... মিঠা মিঠা।
পরে অন্যজনও এতে শামিল হলো। সে-ও এক ঝটকায় পুরো ফানা কেড়ে নিলো। কলা খেতে খেতে বলতে লাগল- হুম... বহুত আচ্ছা... বহুত মিঠা কেলা হ্যায়।

ফানায় অবশিষ্ট কলা আছে পাঁচটি। আব্বা অসহায়ের মতো তাকিয়ে তা দেখছেন, আর বাড়িতে অপেক্ষারত তার ছেলেমেয়েদের কথাই মনে করছেন। তাই যেই সেটিকে ধরতে গেলেন; ওমনি হাত ঘুরিয়ে দুলাতে দুলাতে সেটি নদীতে ফেলে দিলো।
আর দুইজন হাসতে হাসতে একে অপরের সাথে ঢলাঢলি করতে করতে বলতে লাগল- কেলা... বাঙালি কেলা... বহুত মিঠা... বহুত আচ্ছা হ্যায়।

দক্ষিণ শ্যামপুর, সাভার, ঢাকা

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
সকল সংবাদ

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫