ঢাকা, মঙ্গলবার,২৪ এপ্রিল ২০১৮

প্রিয়জন

বিচিত্র জলজ উদ্ভিদ

০৯ ডিসেম্বর ২০১৭,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

প্রিয় ফিচার
আমাদের সুন্দর ও রূপময় পৃথিবীর প্রকৃতিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্য। মানুষের প্রয়োজনেই এর বেশির ভাগ ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এদের যতœ করে ক্ষেত-খামারে চাষ করা হয় না। কিংবা চাষের কথা ভাবাও হয় না। আজ এরকমই অযতেœ বেড়ে ওঠা জলজ উদ্ভিদ শ্যামকোলা ও চাঁদমালা সম্পর্কে জানাচ্ছেন - শ্রাবণী মুকুল


শ্যামকোলা

জলে যা জন্মে তাকেই আমরা জলজ বলে জানি । শ্যামকোলা এরকম একটি বীরুৎজাতীয় জলজ উদ্ভিদ। শ্যামকোলা চাষ করতে হয় না। এটি সাধারণত প্রাকৃতিকভাবেই আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে জন্মে। এটি এলিছম্যাটালিছ বর্গের অন্তর্ভুক্ত। শ্যামকোলার অনেক নাম। এটি এলাকা ভেদে পানিকোলা, রাম করোলা বা কাক্কোলাই নামে পরিচিত। শ্যামকোলা মাটিতে মূলীবদ্ধ থাকে। এর পাতা ভাসমান ও স্বচ্ছ। চার পাশ খাড়া ও প্রশস্ত । দেখতে অনেকটা ডিম্বাকার। এরা সাধারণত ১০ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। উপবৃত্তাকার এই পাতাগুলোর শিরা ৭ থেকে ১২টি। এর অভিসারি এবং মূলীয় অংশ ক্রমশ একত্র হয়ে একটি বৃন্ত গঠন করে। শ্যামকোলার বৃত্যংশ তিনটি। পাপড়ি সংখ্যাও তিন। রঙ হচ্ছে সাদা। নিম্নাংশ হলুদ দাগযুক্ত। এর দ্বিখণ্ডিত পুংকেশরের সংখ্যা ৬ থেকে ১৫টি। বর্ষাকাল হচ্ছে এর প্রস্ফুটন মওসুম। ফল তিন থেকে চার সেন্টিমিটার লম্বা হয়ে থাকে। ফলের শীর্ষ দেখতে সরু। ফলে বীজ হয় অনেক। বীজগুলো দীর্ঘায়িত ও পুরু। শ্যামকোলা সাধারণত সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। গাছের বৃন্ত ও ফলকে সবজি হিসেবে নির্বাচন করা হয়ে থাকে। শিশুরা শ্যামকোলার বীজ শুকিয়ে ভেজে খেতে খুবই পছন্দ করে।

চাঁদমালা

চাঁদমালা চাঁদ দিয়ে গাঁথা মালা কিংবা চাঁদের জন্য বানানো কোনো মালা নয়। চাঁদমালা হচ্ছে একটি জলজ উদ্ভিদের নাম। পাতা দেখতে অনেকটা গোলগাল চাঁদের মতো। হয়তো তাই এই নাম। চাঁদমালার ইংরেজি নাম ঈৎবংঃবফ ভষড়ধঃরহম যবধৎঃ, ডযরঃব ধিঃবৎ ংহড়ভিষধশব, ডযরঃব ংহড়ভিষধশব. এটা মেনান্থাসি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এর বৈজ্ঞানিক নাম ঘুসঢ়যড়রফবং যুফৎড়ঢ়যুষষধ. চাঁদমালা বাংলাদেশ ও ভারতের স্থানীয় জলজ উদ্ভিদ। লতানো এ জলজ উদ্ভিদের গিঁট থেকে শিকড় গজায়। এর ভাসমান পাতা প্রায় গোল। এর ওপর মসৃণ, নিচে একটা শিরাজাল। পাতা পাঁচ থেকে আট সেন্টিমিটার চওড়া এবং বোঁটা চার সেন্টিমিটার লম্বা। এ উদ্ভিদে ছোট ছোট সাদা ফুল ফোটে। ফুলে পাপড়ি সংখ্যা পাঁচটি। চাঁদমালার ফলের আকারও গোল।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫