প্রি য় জ ন প ঙ্ ক্তি মা লা

মো: ওবায়দুল হক
বেসামাল হেমন্ত চাওয়া

আকাশের প্রশ্রয়ে কমজোরি হাত আমার
রাতজাগে চাঁদ ছোঁয়ার স্বপ্নে
অনিন্দ্য সুন্দরতম হাসির জোছনায় নিষিদ্ধ স্নান;
রাতের জ্যোৎস্নাময় প্রকৃতির উসকানিÑ
বেসামাল হেমন্ত চাওয়া।
বাতায়ন ঘেঁষে আনমনা, নির্ঘুম যুবতী চোখ;
বোতাম খোলা শার্টের গল্পে আঙুল হেঁটে যাওয়া স্পর্শ সুখ!
মন না চোখে, কোথায় বসতি তোমার?
রাতের আকাশ ভারী অচেনা প্রশ্নঘোর?
তুমি জাগিয়ে রাখো না আমি জেগে থাকি
অন্ধকারের ব্যাকরণে ব্যাখ্যা খুঁজি।
শীতের বার্তা বিলিয়ে যায় হেমন্তের হীমবাতাস
হেমন্তিক নিঃশ্বাসে ঝরেপড়া হলদে পাতার
মড়মড় শব্দ ভেঙে শালিক পায়ে হেঁটে চলা
চাওয়া-পাওয়ার ঘোরে দেউলিয়া স্বপ্নপ্রেমী
হৃদয় আমার...
এতঘুম হরণ করে কোথায় রাখো তুমি?
খুঁজতে গিয়ে ফের রাত হারাই;
নতুন করে প্রেমে পড়ে যাই তোমার চোখের...
ঘুমনাশিনী, তুমি কৌশলী না সরলা?

ওয়ালীউল্লাহ
বিতার গল্প

নির্জন কুহেলি রাত, একটানা রিমঝিম বৃষ্টি
কিংবা একটি বিষণœ বিকেল;
বুকভরা কষ্টেরা যেমন কবিতার যোগান দেয়
মাঝে মাঝে একলাটি ওই তারার মতো
এরাও কবিতার পসরা সাজায়।
আমার যখন একটুও দুঃখ নেই
হারাবার কোনো যন্ত্রণা নেই
অথবা যদি স্মৃতিকাতরতাও না থাকে আমার,
তবুও কবিতার শূন্যতা অনুভব করি না আমি।
অন্ধকারে জোনাকির মতো এরা আমাকে পথ দেখায়
আমার তখন একটু একটু দুঃখ হয়
বুকের একপাশে কেমন চিনচিন করে
আর আমি ধীরে ধীরে কেমন কবি হয়ে উঠি।

রুমান হাফিজ
হেমন্ত এলো তাই

হেমন্ত এলো তাই মাঠে পাকা ধান
চারদিকে সোনালি ফসলের ঘ্রাণ।
হিম হিম বাতাসে ভোরের বেলা
সবুজ ঘাসের বুকে শিশিরের মেলা।
ভেসে আসে কৃষকের সুমধুর গান
ধান পেয়ে কৃষাণীরা খুশি অফুরান।
ঘরে ঘরে উৎসব আয়োজন হয়
গান, ছড়া, গল্পতে আনন্দময়
সাথে আরো পিঠাপুলি মিঠাই সন্দেশ
জমে উঠে সবুজের বাংলাদেশ।

শাহ আলম শেখ শান্ত
কবির রানী

হালকা শিশির চাদর পড়ে
চুপি চুপি কে এলে?
ভোর আঁধারে হেসে হেসে
দূর্বাঘাসে পা ফেলে
শ্যামল ফসল স্বর্ণ হলো
তোমার গায়ের সুবাস পেয়ে
কাটছে চাষি তুলছে ঘরে
মনের সুখে গান গেয়ে!
মুগ্ধ করে দিলে ধরা
শিউলি ফুলের সুবাস দিয়ে
কবি হলো মাতোয়ারা
উঠল মেতে কলম নিয়ে!
কোন লেখিয়ে থাকবে বসে
পেলে এমন নেমন্তন
দোরে এসে নাড়লে করা
কবির রানী হেমন্ত।


নূর মোহাম্মদ দীন
ছন্দপতন

ধীরে ধীরে গুটিয়ে নেবো নিজেকে
জীবনের ছন্দ-মাত্রার ফ্রেম থেকেÑ
নিঃশেষ হবো চিরতরে।
শুধু সাক্ষী থেকো ছন্দমালা
তুমি নিরাশ করনি আমায়Ñ
বরং আমি নিজেই হয়েছি নিরাশ!
কবিতায় চাল-চুলো জ্বলে না
তুমি সহ্য করো না এমন হাদীস;
উত্তর দিয়ো,আনন্দ দিয়ো
ছন্দে ছন্দে।
তবু সহ্য করো না ছন্দপতন।


শফিকুল ইসলাম শফিক
প্রেমের কাঙ্গাল

আমার বেদনার প্রতিটি রাতে শিউরে ওঠে আকাশ,
না পাওয়ার প্রহরে বিরহের অনলে
জ্বলে পুড়ে যায় বুকের জমিন।
নির্মম পরিহাস উপলব্ধি করে জাগতিক সংসার।
রাতের কোলে চাঁদের আলোয় খুঁজি সাত্ত্বিক প্রেম।
এখন আমি রাতকেই ভালোবাসি।
রাতের গভীরে নিজেকে উজাড় করে দিয়ে
মিছিল করি তিন প্রহর।
প্রেমালাপে মেতে থাকে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক।
ধরাধামে শেষ নিঃশ^াস তোমার বুকেই ফেলতে চাই।
সেই ঠাঁইটুকু তুমিহীন কে দেবে আমায়?
আজন্মকাল আমি যে তোমার প্রেমেরই কাঙ্গাল।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.