কী হচ্ছে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে
কী হচ্ছে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে

কী হচ্ছে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে

ইকতেদার আহমেদ

বুধবার থেকে ঢাকায় শুরু হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় তথ্যপ্রযুক্তি প্রদর্শনী ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৭’। চার দিনের এই মেলা চলছে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের এবারের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল রোবটমানবী সোফিয়া। 

সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ আয়োজিত চার দিনব্যাপী এই আয়োজনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘রেডি ফর টুমরো’। এবারের ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের বড় চমক রোবট সোফিয়ার উপস্থিতি। সোফিয়ার সঙ্গে ঢাকায় এসেছিলেন সোফিয়ার ডিজাইনার ড. ডেভিড হ্যানসন। মেলার প্রথম দিনই দেখা মিলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট সোফিয়ার। বুধবার সকাল থেকেই বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ছিল সোফিয়া। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগ দেয় রোবটমানবী সোফিয়া। পরে তাকে সঙ্গে নিয়েই এ তথ্যপ্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সময় শেখ হাসিনা কিছু কথাও বলেন সোফিয়ার সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী সোফিয়াকে বলেন, হ্যালো সোফিয়া, কেমন আছ? উত্তরে সোফিয়া জানায়, হ্যালো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ভালো আছি। ধন্যবাদ। তোমার সঙ্গে দেখা হয়ে খুব ভালো লাগল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ও আচ্ছা, তুমি আমাকে কিভাবে চেন? সোফিয়া বলে, আমি তোমার ব্যাপারে জেনেছি, তুমি মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মেয়ে। তোমাকে মাদার অব হিউম্যানিটিও বলা হয়, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে চাও তুমি। আমি আরো জানি, তোমার নাতনীর নাম আর আমার নাম একই, সোফিয়া। হলুদ-সাদা রঙের জামদানির পোশাক পরা সোফিয়ার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ইংরেজিতে কথোপকথন চলে।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সোফিয়ার কাছে জানতে চান, একটি জাতিকে বদলানোর জন্য ডিজিটালাইজেশনের ভূমিকা কী হতে পারে? সব জান্তা রোবট সোফিয়া বলে, একটি জাতিকে বদলাতে হলে ডিজিটালাইজেশনের বিকল্প নেই।

হংকংয়ের হ্যানসন রোবোটিকসের তৈরি সোফিয়া ঢাকায় এসে পৌঁছেছে সোমবার রাত ১টায়। তার সঙ্গে এসেছেন রোবটচালক জিওভান লায়ন। সোফিয়ার চালক হংকং পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওভানি লায়ন জানান, হ্যানসন রোবোটিকসের সঙ্গে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ প্রকল্প রয়েছে। জিওভানি বললেন, ‘আমি শুধু সোফিয়াকে চালাই। এর সফটওয়্যারে প্রয়োজনীয় তথ্য, কথাবার্তা ঢুকিয়ে দিই। সোফিয়া যে সৃজনশীল অভিব্যক্তি দেয়, তার স্রষ্টা ডেভিড হ্যানসন।

সোফিয়া দেখতে হলিউড অভিনেত্রী অড্রে হেপবার্নের মতো। কোনো প্রশ্ন করলে সে স্মিত হেসে গুছিয়ে উত্তর দিয়েছে। তবে এখনো পরিপূর্ণ নয় সে। মাথার পেছনের দিকটি চিপ আর যন্ত্রপাতিতে ঠাসা। মূলত মানুষের সঙ্গে কথাবার্তা চালানোর উদ্দেশ্যে প্রোগ্রাম করা হয়েছে সোফিয়াকে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন সোফিয়া বিভিন্ন মুখভঙ্গি ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি কৌতুকও করতে পারে। কোনো প্রশ্নের উত্তর জানতে চাওয়া হলে ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের সাহায্যে বিশাল তথ্যভাণ্ডার থেকে ‘মেশিন লার্নিং’ পদ্ধতিতে প্রশ্নের জবাব দেয়। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় রোবট সোফিয়া ঢাকায় এসেছিল।

ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের উদ্বোধনের পরে সোফিয়াকে নিয়ে একটি বিশেষ সেশন ‘টক উইথ সোফিয়া’ আয়োজনে অংশ নিতে আগে থেকেই নিবন্ধন করেছিল দুই হাজার আগ্রহী দর্শনার্থী। তবে আয়োজন শুরুর ঘণ্টাখানেক আগে থেকেই সেশনটিতে অংশ নিতে ঢল নামে কয়েক হাজার মানুষের। এন্ট্রি কোড দিয়ে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করার দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও কার্ড না পাওয়ায় উত্তেজিত দর্শনার্থীরা নিবন্ধন বুথের কম্পিউটার ভাঙচুর করে। এ ছাড়া সম্মেলন কেন্দ্রের ভেতরে চলন্ত সিঁড়িও ভাঙচুর করে তারা। এরপর নিবন্ধিত দর্শনার্থীদের পাশাপাশি অনিবন্ধিত দর্শনার্থীরাও ঢুকতে থাকে হল অব ফেমে, যেখানে সোফিয়ার সেশনটি অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ সময় ভিড়ের মধ্যে থেকেও অনেকেই প্রবেশ করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মিরপুর থেকে আগত রানা নামের একজন দর্শনার্থী বলেন, সোফিয়াকে নিয়ে আয়োজকদের আগে থেকেই বোঝা উচিত ছিল এখানে বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমন ঘটবে। সেই হিসেবে যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাব লক্ষ্য করা গেছে। এত বড় একটি আয়োজনে এমন অব্যবস্থাপনা সত্যিই দুঃখজনক।

উদ্যোক্তাদের সমস্যার সমাধান
‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ’ নামে একটি পর্ব ছিল ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের দ্বিতীয় দিনে। এতে দেশীয় উদ্যোক্তারা নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তারা উত্তর পান আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে। পাওয়া যায় বিভিন্ন নির্দেশনাও।

প্রোগ্রামিং ও ডেভেলপার সম্মেলন
মাধ্যমিক পড়ুয়া প্রোগ্রামারদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘হাইস্কুল প্রোগ্রামার কনফারেন্স’। এতে সারা দেশ থেকে আগত খুদে প্রোগ্রামাররা অংশগ্রহণ করে। তারা এতে তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে। এটি হয়েছে ৭ ডিসেম্বর। ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সম্মেলনে দেশের ডেভেলপাররা অংশ নেয়। তারা এতে তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরার সুযোগ পান।

ফেসবুক ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবসায় বৃদ্ধি
‘গ্রো ইয়োর বিজনেস ইউজিং ফেসবুক/ক্লাউড সার্ভিস ফর দ্য ই-কমার্স এন্ট্রাপ্রেনিউরস’ শিরোনামের একটি পর্ব অনুষ্ঠিত হয় উদ্বোধনী দিনে। বিকেল ৫টায় শুরু হবে দুই ঘণ্টার এই পর্ব। এতে ফেসবুক ব্যবহার করে কিভাবে ব্যবসায় প্রসার করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া বর্তমানে যারা ফেসবুক ব্যবহার করে ব্যবসায় করছেন, এ বিষয়ে তাদের কোনো সমস্যা থাকলে তা তুলে ধরেন। এর পাশাপাশি ক্লাউড সেবার মাধ্যমে ই-কমার্স সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়।

অস্কার বিজয়ী নাফিসের গল্প
ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে নিজের জীবনের কথা তুলে ধরেন প্রথম অস্কার বিজয়ী বাংলাদেশী নাফিস বিন জাফর। দুইবার কারিগরি অস্কার পুরস্কার পাওয়া নাফিস বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দর্শকদের শোনান তার উঠে আসার গল্প। কিভাবে তিনি শুরু করেছিলেন, তার কাজের ধরন এবং কী প্রতিবন্ধকতা ছিল এসব কথা জানা যায় ‘মিট দ্য নাফিস বিন জাফর-দ্য একাডেমি উইনার’ শিরোনামের পর্বে।

গেম নিয়ে আলোচনা
স্মার্টফোনের গেম নিয়ে আলোচনাভিত্তিক একটি পর্ব ছিল এবারের ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে। আর তা অনুষ্ঠিত হবে মেলার প্রথম দিনেই। গেমিং শিল্পে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার এবং মোবাইল অ্যাপ ও গেম মনিটাইজেশনের সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হবে এতে। মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাংরি বার্ডসের গেম উন্নয়ন কর্মকর্তা লরি লুকা। এ ছাড়া গেম তৈরি করেন এমন দেশীয় প্রতিষ্ঠানের ডেভেলপাররাও উপস্থিত ছিলেন।

ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে কোনো প্রবেশ ফি নেই। তবে এতে যেতে চাইলে www.digitalworld.org.bd এ ঠিকানায় গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। অবশ্য মেলা প্রাঙ্গণেও নিবন্ধন করা যাবে।

শনিবার মেলার শেষ দিন, মেলা চলবে সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.