নিজ খেতে শিম তুলছেন মাছুয়াডাঙ্গার সোফিয়া খাতুন
নিজ খেতে শিম তুলছেন মাছুয়াডাঙ্গার সোফিয়া খাতুন

ঈশ্বরগঞ্জে শিম চাষে ২০ কোটি টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন চাষীরা

মো: আব্দুল আউয়াল, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ)

শিমের সবুজ ডগায় সাদা-বেগুনি ফুলে ছেয়ে গেছে মাঠ। কচি শিমের গন্ধ বাতাসে ভাসছে চারদিকে। বিস্তৃত দিগন্তে শোভা পাচ্ছে অসংখ্য শিমের বাগান। এ দৃশ্য এখন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে।

মাঠে গিয়ে দেখা যায়, শিম চাষীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ বছর উপজেলার শুধু রাজিবপুর ইউনিয়নেই বিভিন্ন গ্রামে ৫শ হেক্টর জমিতে শিম চাষ হয়েছে। খামার পদ্ধতিতে চাষকৃত ৫শ’ হেক্টর জমিতে এবার খরচ বাদে ২০ কোটি টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন চাষীরা।

এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমিতে শিমের মাচায় পরিচর্যা কাজে ব্যস্ত চাষীরা। কেউ আবার বাজারে নেয়ার জন্যে শিম তুলছেন। অল্প সময়ে অধিক লাভ হওয়াতে বর্তমানে অনেকেই শিম চাষে ঝুঁকছেন। গ্রামীণ পথের দু’পাশের জমিতে অসংখ্য বাগানে ফুটন্ত সাদা-বেগুনি ফুল চাষিদের হৃদয়ে আনন্দের ঢেউ তুলছে। কচি শিমের গন্ধ আকৃষ্ট করে পথিকের মন।

রাজিবপুর ইউনিয়নের মাছুয়াডাঙ্গা গ্রামের চাষিরা জানান, গত কয়েক বছর ধরে শিমের ফলন বৃদ্ধি ও দাম ভালো পাওয়ায় এবার যেন চাষিদের উৎসাহের শেষ নেই। সারাদিন খামারে পরিচর্যায় ব্যস্ত তারা। এলাকার প্রায় সব জমিতেই এখন শিম চাষ হচ্ছে। পরিত্যক্ত, অপেক্ষাকৃত নিচু জমিতে মাচা করে খামরা পদ্ধতিতে চলছে শিম চাষ। শিমের পাশাপাশি আলু, বেগুন, লাউ চারষও হয়েছে তবে শিমের তুলনায় একেবারে কম। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে অন্যান্য মৌসুমী সবজির চাষও করা হয়ে থাকে চরাঞ্চলের এসব এলাকায়।

চাষিরা আরও জানান, শিম চাষের জন্য প্রথমে জমি নির্বাচনের মাধ্যমে বীজ বপনের জন্য উঁচু করে মাটি প্রস্তুত করতে হয়। পরিমিত সার ও অন্যান্য উপাদান প্রয়োগের মাধ্যমে সময়মত বীজ রোপণ করতে হয়। এছাড়া বাঁশ ও পলিথিন সুতায় মাচা তৈরি করা হয়। মাচার উপরে বেড়ে উঠে শিমের লতা। সাধারণত ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যেই লতায় ফুল আসে। বর্তমানে গাছে ফুল থেকে শিম ধরা শুরু হয়েছে। অনেকেই আবার সেই শিম হাটে তুলতে শুরু করেছে করেছেন।

এবছর রাজিবপুর ইউনিয়নে ৫শ হেক্টর জমিতে শিম চাষ করা হয়েছে। প্রতিবিঘা শিম চাষে খরচ পড়েছে ২৫ হাজার ৫০০ টাকা। প্রতি বিঘায় শিম উৎপাদন হবে ১৩৫ মণ। ১৫ টাকা কেজি ধরে ১৩৫ মণ শিমের মূল্য আসে ৮১ হাজার টাকা। চাষির খরচ ব্যয় বাদে বিঘাপ্রতি আয় হবে ৫৫ হাজার ৫শ’ টাকা। প্রতি হেক্টরে শিম উৎপাদন হবে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭০ টাকার। খরচ বাদে আয় হবে ৪ লাখ ১৪ হাজার ৫শ’ ৮৫ টাকা। এ হিসেবে ৫শ হেক্টর জমিতে প্রায় ৩০ কোটি ২৫ লাখ ২৫ হাজার টাকার শিম উৎপাদন হবে খরচ বাদে আয় হবে ২০ কোটি ৭২ লাখ ৯২ হাজার ৫শ’ টাকা।

মাছুয়াডাঙ্গা গ্রামের শিম চাষি সুফিয়া খাতুন জানান, তিনি ৫ বছর যাবত শিমসহ বিভিন্ন সবজির চাষ করছেন। এবছর ১ একর ৫০ শতক জমিতে শিমের চাষ করেছেন। এতে প্রয় ১ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আশা করছেন এবার ৩ লাখ টাকার উপরে বিক্রি হবে তার। লাভ থাকবে ২ লাখ টাকারও বেশি।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে ফুল থেকে শিম আসতে শুরু হয়েছে। পৌষের প্রথম থেকে মাঘের শেষ পর্যন্ত শিমের পরিপূর্ণ মৌসুম থাকবে। বর্তমানে অনেক কৃষকই শিম তুলতে শুরু করেছেন। পোকা মাকড়ের আক্রমণ কম থাকায় এবার শিমের বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন এই নারী কৃষক।

একই গ্রামের শিম চাষি শহিদুল ইসলাম ও আবু তাহের জানান, শিমের ফলন এবছর ভালো হবে বলে মনে হচ্ছে। গত বছর লাভ হওয়াতে এবার আরো বেশি জমিতে শিমের আবাদ করেছেন তারা। উৎপাদন খরচ পুষিয়ে লাভবান হবেন এমনটাই আশা তাদের।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা রহিমা খাতুন জানান, এ উপজেলায় প্রায় সব গ্রামেই কম বেশি শিম চাষ হয়েছে। তবে সিংহভাগ শিম চাষ হয়েছে রাজিবপুর ইউনিয়নে। আমরা চাষিদের বিভিন্ন রোগবালাই সম্পর্কে ধারণা ও পরামর্শমূলক সহায়তা অব্যাহত রেখেছি। এবছর বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শিমের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.