ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৪ ডিসেম্বর ২০১৭

আরো খবর

রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তায় ৫ পুলিশ ক্যাম্প ও কাঁটাতারের বেড়া

হুমায়ুন কবির জুশান (উখিয়া কক্সবাজার)

০৮ ডিসেম্বর ২০১৭,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট

উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের আবাসনের জন্য বরাদ্দকৃত তিন হাজার একর জমিতে পাঁচটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের অনুমতি চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ। রোহিঙ্গাদের জানমালের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই ক্যাম্পের চার পাশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে সদ্য বাংলাদেশে প্রবেশকারী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর একটি অংশ। এমন পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন জরুরি। ৫টি ক্যাম্পে ৫ জন ওসির অধীনে ৫০০ জন পুলিশ আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে বলে জানিয়েছে সূত্র। এ বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খালেদ মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, উখিয়ায় বর্তমানে ২০টি ব্লকে রোহিঙ্গারা অবস্থান করছেন। প্রতি ৪ ব্লকে একটি ক্যাম্পে একজন ইন্সপেক্টরের (ওসি) অধীনে প্রাথমিকভাবে ১০০ জন পুলিশ সদস্য কাজ করবে। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে অনুমতি চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি মিললেই আরআরআরসি ও ইউএনএইচসিআরের সহযোগিতায় সেখানে ক্যাম্প নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরাজুল হক টুটুল বলেন, উখিয়ার কুতুপালংয়ে ৫টি পুলিশ ক্যাম্প করা হবে। এর জন্য জায়গাও নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ওই ৫টি ক্যাম্প উখিয়া থানা পুলিশের সহযোগিতায় কাজ করবে বলেও তিনি জানান। এ দিকে স্থানীয়রা দাবি করছে পুলিশ ক্যাম্প করার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে দ্রুত তাদের জন্য সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করার। তিনি বলেন, উখিয়ার বালুখালী লম্বাশিয়া, তাজমিয়ারঘোনা, কুতুপালংয়ের লম্বাশিয়া ও তাজমিয়ারঘোনার মাঝখানে একটিসহ মোট পাঁচটি ক্যাম্প করা হবে। এ বিষয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় রোহিঙ্গাদের দ্রুত রাখাইনে ফেরত পাঠানো দরকার। এর ব্যত্যয় ঘটলে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা দুঃসহ হয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, যত দিন তাদেরকে ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না তত দিন তাদেরকে এক জায়গায় রাখতে হবে। এর জন্য রোহিঙ্গা বস্তির চার পাশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ জরুরি। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো: আলী হোসেন বলেন, এত অল্প সময়ে বিশ্বের কোনো দেশ এত আশ্রয়হীন মানুষকে আশ্রয় দেয়নি। মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের আমরা খাবার, আশ্রয় ও চিকিৎসাসেবা দিয়েছি। এবার তাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সেখানে ৫টি পুলিশ ক্যাম্প করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী দুই মাসের মধ্যে পুলিশ ক্যাম্পের সব কাজ শেষ করা হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫