ঢাকা, শুক্রবার,১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

প্রথম পাতা

তিন দিনেও সন্ধান মেলেনি রাষ্ট্রদূত মারুফ জামানের

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৮ ডিসেম্বর ২০১৭,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট

তিন দিনেও সন্ধান মেলেনি সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামানের। কোথায়, কী অবস্থায় রয়েছেন সে ব্যাপারেও কেউ নিশ্চিত হতে পারছেন না। তার জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে গোটা পরিবার। এ দিকে মারুফ জামান নিখোঁজ হওয়ার পরপরই যে তিন ব্যক্তি তার বাসায় প্রবেশ করেছিল তাদের সম্পর্কেও কোনো তথ্য সংগ্রহ করতে পারেনি পুলিশ। তারা কারা ছিল, কেন মারুফ জামানের বাসায় ঢুকে তার কম্পিউটার-ল্যাপটপ নিয়ে গেছেন সে ব্যাপারেও অন্ধকারে রয়েছে সবাই। পুলিশ বলছে, ওই তিন ব্যক্তি কৌশল অবলম্বন করে সিসি ক্যামেরার সামনে মাথা নিচু করে চেহারা আড়াল করায় তাদের চেনা যাচ্ছে না। তা ছাড়া তাদের প্রত্যেকের মাথায় ক্যাপ থাকায় তা আরো অস্পষ্ট হয়েছে। তবে তারা তিনজনই ছিলেন সুঠামদেহী।
মারুফ জামানের স্বজনেরা বলছেন, মেয়েকে বিমানবন্দরে আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন তিনি। এরপরই বাসায় নিজেই ফোন করে গৃহপরিচারিকাকে বলেন, ‘বাসায় কেউ যাবেন, তাকে যেন ল্যাপটপ ও কম্পিউটার দিয়ে দেয়। এর পর থেকেই ফোন বন্ধ তার। ঠিক তার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিনজন লোক বাসায় প্রবেশ করেন। তারা ৮ থেকে ১০ মিনিট ধরে বিভিন্ন জায়গা তল্লাশি করেন। শেষ পর্যন্ত মারুফ জামানের শয়নকক্ষে গিয়ে কম্পিউটার-ল্যাপটপ নিয়ে যান। পরিবারের সদস্যদের বলেন, এরা করা ছিল। মারুফ জামানের নিখোঁজের সাথে কি এদের কোনো সম্পর্ক রয়েছে। এসব কোনো প্রশ্নেরই জবাব মিলছে না।
গত ৪ ডিসেম্বর সোমবার মেয়েকে বিমানবন্দর থেকে আনতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ধানমন্ডির ৯/এ সড়কের ৮৯ নম্বর বাসা থেকে বেরিয়ে যান মারুফ জামান। এর পর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। পরদিন দুপুরে ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয় (জিডি নং ২১৩)। ওই দিন সন্ধ্যায় তার গাড়িটি (ঢাকা মেট্রো-গ-২১-১৩৯৯) পুলিশ খিলক্ষেত থেকে উদ্ধার করে।
পুলিশ বলছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। বাসা থেকে সিসি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। একই সাথে সোর্স ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মারুফ জামান রাষ্ট্রদূত হিসেবে ৬ ডিসেম্বর ২০০৮ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০০৯ পর্যন্ত ভিয়েতনামে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি কাতারে রাষ্ট্রদূত, যুক্তরাজ্যে কাউন্সিলর, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কোরের (ষষ্ঠ শর্ট কোর্স) ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৩ সালে তিনি অবসর নেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫