ঢাকা, সোমবার,১১ ডিসেম্বর ২০১৭

প্রথম পাতা

আত্মসমর্পণের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৮ ডিসেম্বর ২০১৭,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট

৭ ডিসেম্বর রাত ১০টায় আকাশবাণী থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মানেকশ পাকিস্তানের প্রতি আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। হিন্দি, উর্দু ও পশতু ভাষায় তার এ ভাষণ সম্প্রচার করা হয়। ৮ ডিসম্বের সকালেও আকাশবাণী এটি আবার প্রচার করে। বিভিন্ন ভাষায় এ দিন লিফলেট আকারে এটি ছড়িয়ে দেয়া হলো। আত্মসর্পণের আহ্বান জানিয়ে জেনারেল মানেকশ বলেন, ‘তোমাদের যুদ্ধ করার ক্ষমতা ও যুদ্ধাস্ত্রের শক্তি অকেজো হয়ে গেছে। এমনকি বাইরে থেকে বিমানের সাহায্য আসার সম্ভাবনাও নেই। অতএব, তোমরা অস্ত্র ত্যাগ কর। তোমাদের বাঁচার কোন পথ নেই। একমাত্র পথ হচ্ছে সম্মিলিত বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করা।’
যুদ্ধের এ পর্যায়ে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে মিত্রবাহিনী তিনটি ব্যবস্থা গ্রহণ করে। প্রথমত, সেনাবাহিনীকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। দ্বিতীয়পর্যায়ে জেনারেল জগৎ সিং অরোরাকে দ্রুত ঢাকার দিকে এগিয়ে যেতে বলা হয়। তৃতীয় ব্যবস্থায় একটি ব্রিগেডকে হালুয়াঘাট থেকে ময়মনসিংহের দিকে নিয়ে আসা হয়।
পূর্ব সীমান্ত থেকে সবক’টি ডিভিশন ঢাকার দিকে এগিয়ে যায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া দখল করে একটি দল এগিয়ে যায় আশুগঞ্জের দিকে। অন্য দিকে পাকিস্তান বাহিনী পিরোজপুর ছেড়ে চলে যায়। এ দিন শত্রুমুক্ত হয় চাঁদপুর ও কুমিল্লা। পাকিস্তান বাহিনী আশ্রয় নেয় কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে। মানচিত্রখচিত বাংলাদেশের পতাকা উড়তে শুরু করে কুমিল্লায়। এ দিকে কুমিল্লা ক্যান্টমেন্টে মিত্রবাহিনী বিমান হামলা চালায়।
বিভিন্ন রণাঙ্গনে সম্মিলিত বাহিনীর অগ্রাভিযান অব্যাহত থাকে। হিলি, সুনামগঞ্জ, ছাতক, জৈন্তাপুর, লালমনিরহাট, দুর্গাপুর, হালুয়াঘাট ও আখাউড়ায় তীব্র সংঘর্ষ চলে। ঢাকায় মিত্রবাহিনী ১০ বার বিমান হামলা চালায় আজকের দিনে। হামলার লক্ষ্যস্থল ছিল সামরিক স্থাপনাগুলো। ঢাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ক’টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের লক্ষ্যে পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে পিন্ডি ত্যাগ করেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫