ঢাকা, মঙ্গলবার,১২ ডিসেম্বর ২০১৭

অন্যদিগন্ত

গুজরাট নির্বাচনে কঠিন পরীায় মোদি

বিবিসির বিশ্লেষণ

০৮ ডিসেম্বর ২০১৭,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট

ভারতের রাজনীতিতে যাবতীয় মনোযোগ এখন গুজরাটের আসন্ন নির্বাচনে। যেখানে বিজেপির একটানা প্রায় ২৩ বছরের শাসন অুণœ রাখতে অকান্ত প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অন্য দিকে গুজরাট দখলে আনার মরিয়া চেষ্টায় রীতিমতো ওই রাজ্যের মাটি কামড়ে পড়ে আছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও।
গুজরাটে সাম্প্রতিক বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলন কিংবা নোট বাতিল-জিএসটির মতো বিতর্কিত অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজ্যে তীব্র ােভ আছে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তা ভারতে বিজেপির সবচেয়ে বড় দুর্গে ফাটল ধরানোর জন্য যথেষ্ট কি না তা নিয়েও চলছে ব্যাপক বিশ্লেষণ।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও গুজরাট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হিতেশ প্যাটেল বলেন, শাসক দল বিজেপির জন্য সারা দেশে তাদের যাবতীয় আদর্শগত পরীা-নিরীার ল্যাবরেটরি হলো গুজরাট। জাতীয় স্তরে গুজরাটের গৌরব নিয়েও এ রাজ্যের মানুষ খুব ভাবে। ফলে ২০১৭ সালের নির্বাচনেও বিজেপির গুজরাটে মতায় আসা নিয়ে সংশয়ের কোনো কারণ থাকার কথা ছিল না। কিন্তু গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি ঘটনা বা দুর্ঘটনা সেই সহজ সমীকরণকেই বেশ জটিল করে তুলেছে।
এ রাজ্যের পথে প্রান্তে কান পাতলেই এখন শোনা যায় বিজেপির সরকার ধনীদের জন্য। গরিবের জীবন যেন এখানে আটার চাকিতে পিষে ফেলা হচ্ছে। রাজ্যের বস্ত্রশিল্পে কাজ করেন কয়েক লাখ শ্রমিক। গত সাত মাসে নোট বাতিল আর জিএসটি কর চালুর ধাক্কায় তাদের রুটি-রুজি বন্ধের উপক্রম হয়েছে।
আহমদাবাদ শহরে নেহরুনগর মার্কেট রাতারাতি বন্ধ হয়ে গেছে, পথে বসেছেন দুই শতাধিক শ্রমিক পরিবার। এর সাথে যোগ হয়েছে রাজ্যে তিন তরুণ নেতার সামাজিক আন্দোলন।
অল্পেশ ঠাকোর, হার্দিক প্যাটেল ও জিগনেশ মেহভানি নামে গুজরাটের তিন তরুণ নেতা যথাক্রমে নেতৃত্বে দিচ্ছেন ওবিসি, পাতিদার ও দলিত শ্রেণীর অধিকার আদায়ের আন্দোলনে। আর ভোটের মুখে তারা তিনজনেই হাত মিলিয়েছেন বিরোধী কংগ্রেসের সাথে।
এবার গুজরাটের ক্ষমতা থেকে সরানো একেবারে অসম্ভব নয়, সেটি টের পেয়েই তিন মাস ধরে এ রাজ্যে লাগাতার প্রচারণা চালাচ্ছেন ভাবী কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। আর তিনি সরাসরি আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করেছেন গুজরাটে বিজেপির তথাকথিত উন্নয়নের মডেলকে।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫