ঢাকা, রবিবার,১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

বাংলার দিগন্ত

গোয়ালন্দে ব্রিজ আছে সড়ক নেই

মেহেদুল হাসান আক্কাছ গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)

০৮ ডিসেম্বর ২০১৭,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট

গোয়ালন্দ উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিষ্ণপুর এলাকায় সাড়ে ২৬ লাখ টাকায় নির্মিত একটি ব্রিজের সংযোগ সড়ক না থাকায় বাঁশের সাঁকো দিয়ে লোকজন ব্রিজে ওঠানামা করছেন। তা ছাড়া এক পাশে দেয়াল থাকায় ব্রিজের অর্ধেক অংশ ব্যবহার হচ্ছে না। এতে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
জানা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩৪ ফুট দৈর্ঘ্যরে ওই ব্রিজটি দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ২৬ লাখ ৫৪ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়। স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স খান এন্টারপ্রাইজের বাস্তবায়ন করে। চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত নির্মাণকাজের সময়সীমা ছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্রিজটি নির্মিত হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। এ ছাড়া ব্রিজটিতে ওঠানামার এক পাশের অনেকটা জায়গাজুড়ে ফজর আলী নামে এক ব্যক্তি দেয়াল দিয়েছেন। দেয়ালটি না ভাঙলে ওই ব্রিজ দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। তবে ফজর আলীর দাবি, ব্রিজের জন্য তিনি অনেকটা জায়গা দিয়েছেন। আর দিতে পারবেন না।
এ দিকে ব্রিজে সংযোগ সড়ক না থাকায় এলাকাবাসী টাকা তুলে বাঁশ ক্রয় করে সাঁকো তৈরি করেছেন। এই সাঁকো ব্যবহার করে ব্রিজ দিয়ে কোনো রকম চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন। তবে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা নেই। এলাকাবাসী ঝুঁকি নিয়েই ওই সাঁকো দিয়ে চলাচল করছেন।
স্থানীয় শামীম দেওয়ান ও মনোয়ার হোসেন বলেন, ব্রিজ হয়েছে কিন্তু এই ব্রিজ দিয়ে আমরা কোনো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি না। এ ব্রিজ দিয়ে বয়স্করা চলাচল করতে পারেন না। অসুস্থ রোগী নিয়ে চলাচল করা সম্ভব হয় না।
৩ নম্বর ছোট ভাকলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে জানান, ব্রিজটি তৈরি করার সময় জুন মাস ছিল। তখন বৃষ্টির কারণে ব্রিজের সংযোগ সড়কের মাটি দেয়া যায়নি। তবে দ্রত সংযোগ সড়ক নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মো: আবু সাঈদ মণ্ডল জানান, ব্রিজটির সংযোগ সড়ক ছাড়াও আরো কিছু কাজ বাকি আছে। ঠিকাদারকে এ পর্যন্ত ৩০ শতাংশ বিল দেয়া হয়েছে। পুরো কাজ শেষ করার পর বাকি ৭০ শতাংশ বিল দেয়া হবে। ব্রিজের এক পাশে দেয়াল কেন প্রশ্ন করলে প্রকল্প কর্মকর্তা বলেন, ব্রিজের কাজ যখন শুরু হয় তখন কোনো দেয়াল ছিল না। ব্রিজের কাজ শুরু হওয়ার পর দেয়াল দেয়া হয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫