ঢাকা, রবিবার,১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

বাংলার দিগন্ত

শীতে অসহায় ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ

ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা

০৮ ডিসেম্বর ২০১৭,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট

উত্তর জনপদের হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত ঠাকুরগাঁও জেলা। অন্য সব জেলার আগেই শীতের আগমন ঘটে এখানে। আর শীত এলেই অসহায় হয়ে পড়েন জেলার দুস্থ শীতার্ত লোকজন।
সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রতি বছর শীতজনিত রোগে দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। শিশুসহ নানা বয়সের মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়।
ঠাকুরগাঁওয়ে শীতের তীব্রতা অনেক বেশি। গ্রামাঞ্চলের মানুষ খড়খুটা জ্বালিয়ে বেশির ভাগ সময় শীত নিবারণের চেষ্টা করেন। জেলার বেশির ভাগ মানুষ হতদরিদ্র দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিক। তারা শীতের জন্য গরম কাপড় কিনতে পারেন না। তাই অনেকে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হন। সরকারিভাবে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক যে পরিমাণ শীতবস্ত্র বিতরণ করেন তা অপ্রতুল।
এ ছাড়া ঠাকুরগাঁও সীমান্তবর্তী এলাকায় শীতবস্ত্র তেমন পায় না দরিদ্র মানুষ এমন অভিযোগ সীমান্তবর্তী এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর। তারা বলেন, জেলা শহর থেকে আমাদের এখানের দূরত্ব বেশি হওয়ায় শীতবস্ত্র আমাদের এখানে আসার আগেই শেষ হয়ে যায়।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ইয়াকুবপুর গ্রামের সাদেকুল হক নামে ৭৫ বছরের এক বৃদ্ধ জানান, আমাদের গ্রামে অনেক শীত। বিকেল হলেই শীত অনুভব হয়। কিন্তু আমার কপালে কখনো একটি শীতের কাপড় জোটেনি।
হতদরিদ্র মোমেনা খাতুন জানান, ভিা করে জীবন চালাই। শীতে ভিা করতে পারি না ঠাণ্ডার কারণে। সরকার গরিবদের শীতবস্ত্র দেয় না। শীতবস্ত্র তো পায় বড়লোকেরা।
ঠাকুরগাঁও শহরে ভিক্ষা করার সময় ভিক্ষুক রাবেয়া বলেন, শীতকালে সরকারি যে কম্বল পাই তা দিয়ে শীত পালায় না। এত পাতলা কম্বল দিয়ে কি করব আমরা। মোটা কম্বল হলে একটাতেই খুশি হইতাম।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর ঠাকুরগাঁও জেলায় ৬০ হাজারের বেশি শীতবস্ত্রের চাহিদা পাঠানো হয়। গত বছর প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে প্রায় ২০ হাজার শীতবস্ত্র পাওয়া গেছে। এ ছাড়া অনেক বেসরকারি এনজিও সংস্থা থেকে প্রায় ১০ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ জানান, এ বছর শীতের শুরুতেই পুলিশ প্রশাসন থেকে সদর উপজেলায় এতিম শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে এক হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়। আমরা আরো চেষ্টা করে যাচ্ছি।
ঠাকুরগাঁও জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুস সালাম জানান, জেলার অনেক মানুষ হতদরিদ্র। আমরা যে পরিমাণ চাহিদা পাঠাই তার অর্ধেক শীতবস্ত্র পাওয়া যায়। গত বছরের চেয়ে এ বছর আরো বেশি শীতবস্ত্রের চাহিদা পাঠানো হবে।
ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা: আবু মোহাম্মদ খায়রুল কবীর জানান, হিমালয়ের পাদদেশে ঠাকুরগাঁও জেলা অবস্থিত হওয়ার কারণে জেলায় শীতের তীব্রতা অনেক বেশি। তাই শিশু ও বিভিন্ন বয়সের মানুষ তাড়াতাড়ি শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। শীতের তীব্রতা থেকে রার জন্য গরম কাপড় পরিধান করতে হবে। শিশুদের ঠাণ্ডা না লাগানোর জন্য মায়েদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল জানান, এবার হেমন্তের শুরুতেই জেলায় শীতের আগমন ঘটেছে। জেলায় শীতবস্ত্রের চাহিদা অনেক বেশি। কিন্তু সরকারিভাবে আমরা তা দিতে পারি না। যা পাওয়া যায় তা গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। তাই বেসরকারি সংস্থাগুলো যদি প্রতি বছরের মতো এবার আরো এগিয়ে আসে তাহলে অনেকটা শীতবস্ত্রের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫