ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৪ ডিসেম্বর ২০১৭

সিনেমা

জয়ের জন্য আমি শাকিবকে চাই : অপু

আলমগীর কবির

০৭ ডিসেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ২১:৪৬ | আপডেট: ০৮ ডিসেম্বর ২০১৭,শুক্রবার, ০৬:৪০


প্রিন্ট
ছেলে জয়ের সাথে অপু বিশ্বাস।

ছেলে জয়ের সাথে অপু বিশ্বাস।

শোবিজ অঙ্গন এখন শাকিব-অপুময়। আগেও ছিলেন, এবার পার্থক্য গড়ে দিয়েছে দুজনের নেতিবাচক কিছু সিদ্ধান্ত। পর্দায় বাইরে তারকাদের ব্যাক্তিগত জীবনও যে অন্যের কাছে অনুকরণীয় সেটা খেয়াল না রাখার কারণেই বোধয় এমনটি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দু’জনেই কথা বলছেন আড়াল থেকে। একজন ভারতের হায়দারবাদ অন্যজন রাজধানীর নিকেতনের বাসা থেকে। তাই যোগাযোগ মাধ্যম হিসাবে মোবাইলই ভরসা।

গত সোমবার শাকিব কর্তৃক অপুর কাছে তালাকনামার নোটিশ পাঠানোর খবর প্রকাশ হওয়ার পর বুধবার নাগাদ সেই নোটিশ অপুর হাতে পৌঁছায়। হাতে নোটিশ পেয়ে বিস্মিত হয়েছেন অপু। আর যে দুটি প্রধান কারণ দেখিয়ে এই তালাকনামা তৈরি করা হয়েছে, সেটার জবাব দিয়েছেন অপু। উত্থাপিত দুটি অভিযোগের প্রথমটি হলো- তাদের একমাত্র সন্তান আব্রাম খান জয়কে ঘরে তালাবন্দি করে কলকাতায় ঘুরতে গেছেন। আর দ্বিতীয় কারণ সঙ্গে ছিল তার বয়ফ্রেন্ড।

অপু বিশ্বাস এসব প্রসঙ্গে বিস্ময়পূর্ণ কণ্ঠে বলেন, যে দুটি কারণ দেখিয়ে আমাকে ডিভোর্স লেটার পাঠানো হয়েছে সেসব সত্যিই আমার কাছে বোধগম্য নয়। ১৭ নভেম্বর আমি আব্রামকে রেখে ভারতে যেতে বাধ্য হয়েছিলাম।

কারণ আমার বেশ শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তাই ওইদিন সকালেই আমি রিজেন্ট এয়ারওয়েজে ভারতে যাই। আমার ইচ্ছে থাকলেও ছেলেকে সাথে নেয়া সম্ভব ছিল না। কারণ তাকে দেখাশোনার জন্য আমার বাসায় সেলিনা আক্তার (শেলী) নামে যে মেয়েটি থাকে তাকেসহ নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তার ভারতীয় ভিসার মেয়াদ ছিল না।

তাই বাধ্য হয়ে একদিনের জন্য আমি একাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার জন্য ভারতে যাই। ডাক্তার দেখানোর পর ১৮ নভেম্বর বাংলাদেশে ফিরে আসি। এমনকি ভারতে যাওয়ার আগে মনির ভাইয়ের (শাকিবের কাজিন) সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করি। কিন্তু তিনি ওই সময় ব্যাংককে শাকিবের সাথে ছিলেন। আমার শারীরিক অবস্থা খারাপ না থাকলে আমি দ্রুত চলে যেতাম না। এটা ডিভোর্সের কোনো ইস্যু হতে পারে না। একদিনের জন্য গেলেও আমি বাসার কাজের মেয়েসহ আমার কাজিন শেলীর কাছে আব্রামকে রেখে গিয়েছিলাম।

অপু আরো বলেন, আর কথিত বয়ফ্রেন্ড বলে নায়ক বাপ্পিকে ঘিরে আমাকে নিয়ে যে মন্তব্য করা হচ্ছে এটা শুনে আমি বিস্মিত। আমি একা ভারতে চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলাম। কোনো বয়ফ্রেন্ডের সাথে না। এটা কেন সাজানো হচ্ছে আমি জানি না। এটার প্রমাণ কি শাকিব খান দিতে পারবেন? আর বাপ্পির কথা এখানে কীভাবে এলো। বাপ্পি তো আমার জুনিয়র। আমাকে দিদি ডেকে সে সবসময়ই সম্মান করে।

এদিকে, ডিভোর্সের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক করণীয় নিয়ে কথা বলতে আরো ক’দিন সময় চেয়েছেন অপু। তিনি বলেন, একটু সময় নিচ্ছি। আর একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে একটা সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের সামনে হাজির হব। হুটহাট করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। আমি এদেশের একজন প্রথম শ্রেণির নাগরিক। আমার সাথে কোনো অন্যায় হবে এটা আমি মানতে পারি না। যদি আমার সাথেই অন্যায় হয় তাহলে আমাদের যারা আইডল মনে করে বা অনুসরণ করে চলে তারা লাইফে কতটুকু হ্যাপি হতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি আবেদন জানাব। আমার আবেদনের ভাষায় থাকবে, তিনি একজন মেয়ে। আর তিনি সহনশীল এবং হৃদয়বান প্রধানমন্ত্রী। একটা মেয়ের সাথে অন্যায় বা অবিচার হবে এটা নিশ্চয়ই তিনি চাইবেন না। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।

অপু বিশ্বাস আরো বলেন, ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করার পর আজ আমাকে শাকিব তালাক দিতে চাইছে। আমি এখন কোথায় গিয়ে দাঁড়াব। মানবাধিকার ও নারী সংগঠনগুলোকেও পাশে চান অপু।

তিনি বলেন, সেলিব্রেটি হলেও আমার সামাজিক মর্যাদা রয়েছে। সংসারে নানান ঝামেলা থাকে তা নিজেদের মধ্যে সমাধান করা যায়। ডিভোর্সের নোটিশ পাঠানোর বিষয়টা অপুর কাছে এখনো অবিশ্বাস্য।

প্রশ্ন ছিল এতো কিছুর পরও কী শাকিবের সাথে একসাথে দেখা যাবে আপনাকে? ‘এখন আমি যাই করি মাথায় থাকে জয়ের (ছেলে) কথা। জয়ের জন্য আমি মৃত্যু মেনে নিতে পারি। আর এই যে কম্প্রোমাইজের কথা বলছেন এটাও জয়ের জন্য। হ্যাঁ, শাকিবকেও আমি সেই প্রথম দিনের মতোই ভালোবাসি। কিন্তু জয়ের ভবিষ্যৎ ভেবেই আমি এ ডিভোর্স মানি না। একটা ব্রোকেন ফ্যামিলির বাচ্চা হয়ে জয় বেড়ে উঠুক, আমি এটা চাই না। এজন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব সমাধানের। সহজ করে বললে, জয়ের জন্য আমি শাকিবের সাথে থাকতে চাই।’

উল্লেখ্য, ভারতের হায়দ্রাবাদের রামুজি ফিল্ম সিটিতে এখন রাশেদ রাহা পরিচালিত ‘নোলক’ ছবির শুটিং করছেন শাকিব খান। সেখানে যাওয়ার আগেই তিনি ডিভোর্স লেটারে স্বাক্ষর করেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫