ঢাকা, রবিবার,১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

নগর মহানগর

নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ : লাঙ্গল ও ধানের শীষ প্রতীকের

রংপুর সিটি নির্বাচন

সরকার মাজহারুল মান্নান রংপুর অফিস

০৮ ডিসেম্বর ২০১৭,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে লড়াইয়ের মাঠে থাকা নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন লাঙ্গল ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর মিডিয়া উইংয়ের প্রধান।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তফার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক এস এম ইয়াসির নয়া দিগন্তকে জানান, আমরা নির্বাচন কমিশনের নিয়মানুযায়ী লাঙ্গল প্রতীক তৈরি করে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খুল্লামের মোড় এলাকায় রেখেছি। সেখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর লোকজন আমাদের কর্মীদের এ নিয়ে অনেক কথা বলেছে। তাদেরকে লাঙ্গল সরিয়ে নেয়ার জন্য বলেছে। থ্রেট দিয়েছে। অথচ নৌকা প্রতীকই আইন ভেঙে অনেক বড় নৌকা অটোর মধ্য করে নগরী চষে বেড়াচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সব সময় আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে। অথচ তারা আমাদের নামে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করছে। নির্বাচন কমিশনকে এ ব্যাপারে মাঠপর্যায়ে আরো সচেতন হওয়ার দাবি জানান তিনি।
অন্য দিকে ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব শহিদুল ইসলাম মিজু নয়া দিগন্তকে জানান, আমাদের কর্মীদের বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে। নৌকা ও লাঙ্গল প্রতিটি ওয়ার্ডে ক্যাম্প করে অফিস করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কিছুই দেখছেন না। তারা আমরা কেন পার্টি অফিসে নির্বাচনী মিটিং করছি সে ব্যাপারে আমাদের কাছে ব্যাখ্যা চাচ্ছে। এ কারণে আমরা মনে করছি এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হবে না।
তবে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টুর নির্বাচনী মিডিয়া সেলের প্রধান রিয়াজ আহমেদ হিমন নয়া দিগন্তকে জানান, নৌকা প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনেই প্রচারণা চালানো হচ্ছে। প্রতিপক্ষের বন্ধুরা নৌকা প্রতীকের ভোট জোয়ার দেখে এসব রটাচ্ছে।
এ দিকে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী গতকাল সকালে নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড় থেকে গ্র্যান্ড হোটেল মোড় এবং বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত জুগিটারী, পানবাড়ি, গোদা শিমলা, পাকার মাথা এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করেছেন। এ ছাড়াও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী কামাল কাছনা গুপ্তপাড়া, ককুরুলসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেছেন।
আর ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সন্ধ্যায় নগরীর মাহিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন।
এ দিকে হাইপ্রোফাইল এই তিন প্রার্থী ছাড়াও অন্য ৪ মেয়রসহ কাউন্সিলর প্রার্থীরা বৃহস্পতিবার বিকেলে রংপুর জেলা স্কুল অডিটোরিয়ামে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার জানান, আমরা কারো প্রতি কোনো পক্ষপাতিত্ব করছি না। লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে। সেটা ধরে রাখা হবে। কাউকেই কোনো ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই আমাদের।
সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া কোনো রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে হয়রানি করা হবে না : সিইসি
এ দিকে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো: নুরুল হুদা বলেছেন, নির্বাচনে বিঘœ সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীকে হয়রানি করার জন্য কোথাও কোনো অভিযান করা হবে না। রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন ভালো হবে। সুষ্ঠু হবে। গ্রহণযোগ্য হবে। সবার জন্য, সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে।
তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন ২০১৭ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার পর সাংবাদিকদের সাথে এ কথা বলেন। রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু সংক্রান্ত হাই প্রোফাইল কমিটির প্রধান রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কাজী হাসান আহমেদের সভাপতিত্বে বৈঠকে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ। অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আব্দুল মজিদ, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মিনু শীল, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, বিজিবি-৭ ব্যাটালিয়নের সিওসি লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহফুজুর রহমান, র‌্যাব-১৩ কোম্পানি কমান্ডার নজরুল ইসলাম, রিটার্নিং কর্মকর্তা সুভাষচন্দ্র সরকারসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে সিইসি এ প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, এ নির্বাচন নিয়ে যেমন এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসব বিরাজ করছে, ঠিক তেমনিভাবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য উৎসবের আমেজে কাজ করছেন। সবার জন্য, সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে।
সাংবাদিকের উদ্দেশে সিইসি বলেন, আশা করি আপনারা এমন কোনো শব্দ লিখবেন না বা প্রচার করবেন না যা সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যা যা দরকার তা তা আপনারা করবেন। তবে সমালোচনা থাকলে তা সেভাবেই করবেন।
আচরণবিধি মানাতে মাঠে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সেভাবে তৎপর নন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মকর্তারা মাঠে তৎপর সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, শুক্রবার থেকে মাঠে ৩৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করবেন। সবাই নির্বাচন সুষ্ঠু করতে কাজ করছেন।
সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে বিএনপি প্রার্থীর আশঙ্কার বিষয়ে সিইসি বলেন, তাদের অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন করব। ৪ স্তরের নিরাপত্তা থাকবে এ ভোটে। বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে পুলিশের অভিযান সংক্রান্ত বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, কারো কাছে যদি অস্ত্র থাকে, নির্বাচন বিঘিœত হয় এমন কোনো বিষয় থাকে, তাহলেই কেবল সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। কাউকে বা রাজনৈতিক কোনো দলের নেতাকর্মীর বাড়িতে হয়রানি করার জন্য কোনো অভিযান হবে না।
প্রসঙ্গত আগামী ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ভোট। এখানে মেয়র পদে ৭ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৬৫ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫