ঢাকা, শুক্রবার,১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

নগর মহানগর

পার্বত্যাঅঞ্চলে আয়বর্ধক কর্মসূচি

উৎপাদিত চারা মরা : প্রশিক্ষণ নেই উপকারভোগী চাষিদের

এক বছরে প্রকল্পের অগ্রগতি ৪ শতাংশ ; পরিচর্যার অভাবে মরে গেছে কঞ্চি কলাম চারা

হামিদ সরকার

০৮ ডিসেম্বর ২০১৭,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট

হাতে গোনা কয়েকটি প্রকল্প ছাড়া উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বেশির ভাগই প্রকল্পই চলছে ঢিমেতালে। অনেক প্রকল্পই অনুমোদনের পর আর তেমন কোনো তদারকি হয় না। এতে প্রকল্প ও কর্মসূচির অগ্রগতি অসন্তোষজনক। এসবের মধ্যে একটি কর্মসূচি হলোÑ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর আয়বর্ধক কর্মসূচি হিসেবে উন্নত জাতে বাঁশ উৎপাদন প্রকল্প। এতে উৎপাদিত চারাগুলো পরিচর্যার অভাবে মরে গেছে। গত এক বছরেও উপকারভোগী চাষীরা কোনো প্রশিক্ষণ পাননি। এক বছরে প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ বলে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকল্পের অগ্রগতিতে তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে, দেশের মোট জমির প্রায় ১০ শতাংশ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবস্থিত। এই অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকার সাথে বাঁশ, বেত ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই এলাকাতে প্রায় এক লাখ হেক্টর বনভূমিতে বাঁশ রয়েছে। তবে জমি দখল, অধিক পরিমাণে বনজসম্পদ আহরণ, জমি চাষের ধরণ পরিবর্তন, অবৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা, জুম চাষ, ফলদ বাগান ইত্যাদির কারণে বাঁশ উৎপাদনকারী জমি বছরে ২ দশমিক ৬ শতাংশ হারে কমছে। এই এলাকার মাটির ধরণ ও আবহাওয়া বাঁশ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ভৌগোলিক ও আর্থসামাজিক অবস্থার কারণে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকে পার্বত্য অঞ্চল অনেক পিছিয়ে আছে। এই অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নসহ এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৬ সালে এই প্রকল্পটি শুরু হয়। ২০২১ সালের জুনে শেষ করার কথা। সম্প্রতি প্রকল্পের ওপর সরেজমিন পরিদর্শন শেষে আইএমইডির পক্ষ থেকে একটি প্রতিবেদন দেয়া হয়। তাতে প্রকল্পের বিভিন্ন অনিয়ম ও ঢিমেতালে কাজের চিত্র উঠে আসে।
সরেজমিন প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পের কাজ হলোÑ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে ছয় প্রজাতির ১৩ হাজার বাঁশ বাগান তৈরি করা, উপকারভোগীদের মধ্যে ২৮ লাখ ৬০ হাজার উন্নত জাতের বাঁশের চারা-কলম বিতরণ, ২৬০ট বাঁশভিত্তিক ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প স্থাপনে সহায়তা এবং ১৩ হাজার ২৬০ জন চাষি ও উদ্যোক্তাকে দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ প্রদান করা। প্রকল্পে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছয় কোটি ৯৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকা বরাদ্দের বিপরীতে জুন পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৯৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বা ৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
কঞ্চি কলম চারা উৎপাদনের কথা থাকলেও রাঙ্গামাটিতে একটি পাঁচ একর জমির ওপর নার্সারি প্রতিষ্ঠিত। সেখানে প্রায় তিন লাখ চারা উৎপাদন করা হয়েছে। চারাগুলো বীজ থেকে উৎপাদন করায় কিছু চারা বড়, কিছু চারা ছোট। কোনো কঞ্চি কলমের মাধ্যমে উৎপাদিত চারাগাছ পরিলক্ষিত হয়নি। নার্সারি-২ তে আড়াই লাখ চারা উৎপাদন করা হয়। উপযুক্ত প্রশিক্ষণের অভাবে ও যথাযথ পরিচর্যা না করায় কলমের মাধ্যমে উৎপাদিত কিছু চারা মরে গেছে। যা খুবই হতাশাজনক।
আইএমইডি বলছে, ২৮ লাখ ৬০ হাজার চারা বিতরণের মধ্যে গত অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র প্রায় ছয় লাখ উৎপাদন করা হয়েছে। তবে সুবিধাভোগী চাষিদের তালিকা এখনো করা হয়নি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পরিকল্পিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চাষিদের মধ্যে চারা কলম সরবরাহ করার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত তাদের মধ্যে কোনো বাঁশের চারা প্রদান করা হয়নি। উপকারভোগী চাষিদের তালিকা করে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা থাকলেও অদ্যাবধি সেটাও হয়নি। এই সব সঠিকভাবে মনিটরিং করার জন্য আইএমইডির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫