ঢাকা, মঙ্গলবার,১২ ডিসেম্বর ২০১৭

দিগন্ত সাহিত্য

দিগন্ত সাহিত্য কবিতা

০৮ ডিসেম্বর ২০১৭,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট

গাউসুর রহমান
বাবা দূরযাত্রায় গেছেন

বাবা দূরযাত্রায় গেছেন ফিরবেন না বলে
যাবার আগে ঘুমের ঘোর দেখিয়ে গেছেন
সময়ের ছিপে সুতো পেঁচিয়ে
বাবা আকস্মিক উধাও হয়ে গেলেন।

বাবা যখন উধাও হলেন
আমি তখন কোনো প্রতিষ্ঠানে কম টাকায় নফরগিরি করছি :
সেলফোনে ভেসে আসলো বাবার উধাও হওয়ার খবরটা।
বাবার সঙ্গে দেখা হলো না শেষ সময়েও
জীবনের সব প্রশ্ন ফাঁস করে দিয়ে
বাবা মৃত্যুর উত্তরপত্রে যখন ক্রমাগত লিখছেন
তখন বাবার মতো খাঁটি মণিমাণিক্য হারিয়ে
আমি নিঃস্ব, সময়ের ফন্দিফিকিরের কাছে অসহায়।

বাবা আমার রক্তে ভাবুক রোদন হয়ে আছেন
আমার শব্দের ভাসান দেখে বাবা হাসেন,
বাবার সব দিন রাত্রি আর বাতাসে শব্দ করে না
বাবা একটি শব্দও উচ্চারণ করেন না।
কান পেতে শুনি বাবা আমাকে নাম ধরে ডাকছেন
বুকের অতল গভীরে কষ্টের দানা বেঁধে আমার জীবন
বাস্তবতায় লুটোপুটি খাচ্ছে।

বাবা নেই বলে জমার খাতা শূন্য
বাবা নেই বলে আলো নেই।

শাওন আসগর
পথ আমাকে ডাকে

প্রাসাদের সিঁড়ি বেয়ে যে পথ গেছে পূবে
গেছে পশ্চিম উত্তর দক্ষিণে, সেই পথ আমাকে ডাকে
পথ গেছে বিদ্যালয় ভার্সিটি ছেড়ে হাসপাতাল ফাইওভার রেললাইন ধরে
আঁকাবাঁকা পথ বুক চিতিয়ে কত সব চক্রান্ত ভেদ করে বহু দূর।

সূর্যের আলোয় রাতের চন্দ্রালোকে আঁধারীর নেশায় চলা পথ
শরীরে তার ভাঙা পাথর বালুকণা সুরকির নীরব স্তূপ
বুকে জমা অজস্র চাপাকান্নার জল
শ্রমিকের ঘাম জনতার সেøাগান মিছিল র‌্যালি মানববন্ধন
আছে দ্রোহ ন্যায়বিচারের আর্তি নতজানু প্রার্থনার বিনম্র অনুযোগ
পথ যেন বলতে চায় নিবিড় কোনো কষ্ট কথা রক্তাক্ত ইতিহাস
পথে পথে ঘটে যাওয়া কোনো সুখ-দুঃখ আলাপন বিশ্রাম ক্ষণে।

পথ ডাকে সবুজের ভেতর ধূসর মাটির টিলায়
ডাকে বৃক্ষের ডালে পুষ্পে গন্ধে
অর্ধশতাব্দীর অতিক্রম করা পথ আমার
হেঁটে হেঁটে যার ভৌগোলিক সীমারেখা সংক্ষেপ করেছি আমি
সেই পথ সহজেই ছাড়ে না আমাকেÑ তাকে, তাকে-আমাকে
কেবলি ডেকে যায় সকাল দুপুর অপরাহ্ন রাত্রির গোপন প্রহরে
মাথায় বাতাসের ছোঁয়া নিয়ে নিরন্তর হেঁটে যাই কান্তির পথে
শীতের তীব্রতায় মরা নদীর পাড় ঘেঁষে যাই
তীর্থের কাকের মতো একটু জিরিয়ে আবারো চলি
যাপিত জীবনের ব্যারিকেড ভেঙে পথে পথে হাঁটি : তার কাছে যাই।

নাসরিন সিমি
নির্জন দ্বিতীয় জীবন

কেন এত টুকরো টুকরো ভালোবাসা দাও
আবার বিরহে পোড়াও জ্বালামুখীর মতো
আমি চিরকাল অনলে পুড়ে পুড়ে মানুষ
হয়েছিলাম শেষবারের মতো বুঝি এ সময়।

জীবনের শুরুতে আবার মৃত্যু দিও না প্রিয়
আমি আরেকটু জীবনের স্বাদ নিতে চাই
আমি একটি প্রেমের কবিতা লিখব বলে
তোমায় নিয়ে দেখেছিলাম কোজাগরী স্বপ্ন।

চাঁদ ডুবে গেছে বলে কালো মেঘের আড়ালে
আমি তোমার হাতের আঙুল ধরেছিলাম
চুপি চুপি পদ্মাসনে করেছিলাম একনিষ্ঠ ধ্যান
তোমার ছবি ছিল বন্ধ চোখের স্থির পাতায়।

তারপর লিখেছিলাম শেষ প্রেমের কবিতা
উৎসর্গ করেছিলাম নিজেকে ধ্যানের অবস্থায়
তারপর আমি শুধুই ভালোবেসে তোমাকে
বসবাস এই নির্জন দ্বিতীয় জীবনে।

পৃথ্বীশ চক্রবর্ত্তী
আদিমতা

সবাই যখন সভ্যসমাজ বলে
চিল-শকুনের লড়াই কেন চলে?
খাদ্য নিয়ে যুদ্ধ লেগেই রয়
কাক-কুকুরের মতোই মনে হয়।

সিংহ-বাঘের হিংস্র আচরণে
বনহরিণী শিকার করি বনে।
মাছরাঙা ও বক ধ্যানে যাই
তরুণীমাছ জাপটে ধরে খাই।

জ্ঞান-বিজ্ঞানের যুগে বসে আজও
কেনো করি বর্বরতার কাজও?
ভাবতে গেলেই শঙ্কা বেড়ে যায়
অন্ধকারে ফিরে যাচ্ছি হায়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫