ঢাকা, মঙ্গলবার,১২ ডিসেম্বর ২০১৭

ইসলামী দিগন্ত

মেহমানের হক ও মর্যাদা

এ জে ইকবাল আহমদ

০৮ ডিসেম্বর ২০১৭,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট

কেউ বেড়াতে এসেছেন আত্মীয়স্বজনের বা বন্ধুবান্ধবের বাসায়। কেউ আসছে কাজের খোঁজে কেউ বা চাকরির লিখিত বা ভাইভা দেয়ার জন্য। এসে কোথায় উঠবে? হোটেলে থাকার সামর্থ্য বেশির ভাগ মানুষের নেই। সে জন্য কেউ কেউ পরিচিত আত্মীয় বা বন্ধুর মেসে উঠে থাকেন। কিন্তু কাজ শেষ হলে অনেকেই যেতে চান না। আরো কিছু দিন ঢাকা শহরে ঘুরেফিরে দেখতে চান তারা। ইসলাম মেহমানকে সম্মান করতে বলেছে। তবে মেহমানেরও উচিত মেজবানকে বিরক্ত না করা। সম্পর্ক সুন্দর রাখতে মেহমান ও মেজবানÑ উভয়েরই সমান দায়িত্ব রয়েছে।

যিনি মেহমানদারি করবেন অর্থাৎ মেজবানের কর্তব্য
মেহমান এলে তাকে স্বাগত জানাবেন। হজরত ইবনে আব্বাস রা: হতে বর্ণিত, যখন আবদুল কায়েস গোত্রের প্রতিনিধিরা মহানবী সা:-এর কাছে আগমন করে, তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমরা কারা?’ তারা বলল,‘আমরা আবদুল কায়েস গোত্রের লোক।’ মহানবী সা: বললেন, ‘ওই জাতিকে মারহাবা! এটা তোমাদের অপরিচিত কোনো জায়গা নয়। এখানে লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই’ ( বুখারি ৫৩, মুসলিম ১৭)।

উপস্থিত যা আছে তা দিয়েই আপ্যায়ন করাবেন
মেহমানের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা করবেন। হজরত ইবনে মাসউদ রা: হতে বর্ণিত, মহানবী সা: এরশাদ করেছেন, ‘কেউ কারো ঘরে গিয়ে অনুমতি ছাড়া তার নির্দিষ্ট আসনে বসবে না (মুসলিম ২৮৩)।
মেহমান আলেম হলে তাকে অধিক সম্মান করা। আল্লাহ কালামে পাকে এরশাদ করেছেন, ‘যাদের ধর্মীয় জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদায় উন্নীত করবেন (সূরা মুজাদালা : ১১)।
খাবার নিয়ে কোনো লৌকিকতা প্রদর্শন করবে না। হজরত আনাস রা: হতে বর্ণিত, ‘আমরা উমর রা:-এর কাছে ছিলাম। তিনি বললেন, ‘আমাদেরকে লৌকিকতা প্রদর্শন করতে নিষেধ করা হয়েছে’ (বুখারি ৭২৯৩)।

মেহমানের করণীয়
মেহমানের উচিত তার চক্ষু সংযত ও দৃষ্টি অবনত রাখা। আল্লাহ বলেন, ‘মুমিনদের বলে দাও, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে’ (সূরা নূর : ৩০)।
অনেকেই কোথাও বেড়াতে গেলে সোফায় বসে কারো সাথে বা দূরে অন্যের সাথে মোবাইলে চেঁচিয়ে কথা বলে। এটি নিষেধ। হজরত লোকমান আ:-এর কথা উল্লেখ করে আল্লাহ পাক বলেন, ‘তুমি তোমার কণ্ঠস্বর নিচু রেখো। নিশ্চয়ই কণ্ঠস্বরের মধ্যে গাধার কণ্ঠস্বরই সবচেয়ে অপ্রীতিকর’ (সূরা লোকমান : ১৯)।
খানা শেষ হলে মেহমান এই দোয়া পাঠ করবেনÑ
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি তাদের রিজিকে বরকত দান করুন, তাদের ক্ষমা করুন এবং তাদের ওপর অনুগ্রহ করুন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কাজ শেষে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রস্থান করা।
মেহমানের উচিত দীর্ঘদিন অবস্থান করে মেজবানকে বিরক্ত না করা। মহানবী সা: এরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে সে যেন মেহমানকে সম্মান করে। মেহমানের পারিতোষিক (বিশেষ মেহমানদারি) এক দিন ও এক রাত। স্বাভাবিক মেহমানদারি তিন দিন। এর অতিরিক্ত মেহমানদারি সদকাস্বরূপ। মেহমানের জন্য বৈধ নয় যে, সে মেহমান হতে হতে মেজবানকে বিরক্ত করে ফেলবে’ (বুখারি ৬১৩৫, মুসলিম ৪৮)।
মেহমান এলে আমরা খুশি হই। বেড়াতেই আসুক বা কোনো জরুরি কাজেই আসুক। তবে তাদের যতœ করে যেমন খাওয়াব তেমনি তাদেরও উচিত নির্দিষ্ট সময় পরে নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়া।
লেখক : প্রাবন্ধিক

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫