ঢাকা, শনিবার,১৬ ডিসেম্বর ২০১৭

সম্পাদকীয়

ছাত্রীদের ওপর ছাত্রলীগের নির্যাতন

অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে

০৮ ডিসেম্বর ২০১৭,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট

ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড দেশজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠছে যে, শিক্ষক-ছাত্র কারো ক্যাম্পাসে অবস্থান আর নিরাপদ নয়। কখনো কখনো তারা ছাত্রীদের ওপরও চড়াও হচ্ছে। বখাটেদের মতো হামলে পড়তে চাইছে তাদের ওপর। রাজশাহী ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে (আইএইচটি) এমন নির্লজ্জ কর্মকাণ্ডের একপর্যায়ে কর্তৃপক্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। যারা ছাত্রীদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষ যেন একেবারেই অসহায়। তাই কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প খুঁজে পায় না। এতে করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। অন্য দিকে প্রতিকার পান না নির্যাতিতরা। আর অপরাধীরা চলে বুক ফুলিয়ে।
সংবাদমাধ্যমের খবরে প্রকাশ, বহিরাগতসহ ছাত্রলীগের নেতাদের উৎপাতের প্রতিবাদে ও নিরাপত্তার দাবিতে ছাত্রীরা বুধবার আইএইচটির অধ্যক্ষের অফিসের সামনে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে মারমুখো মিছিল বের হয়। মিছিলটি পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ছাত্রীদের ওপর হামলা চালায়। ওই হামলায় ছাত্রলীগের বহিরাগত সদস্যরাও অংশ নেয়। সন্ত্রাসীদের হাতে বেশ কয়েকজন ছাত্রী লাঞ্ছিত হন। তাদের অনেকে নির্দয় মারধরের শিকার হয়েছেন। আন্দোলনকারীদের মধ্যে ছাত্রলীগের নারী কর্মীরাও ছিলেন। তারাও সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রেহাই পাননি। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সংবাদমাধ্যমে অধ্যক্ষের যে বক্তব্য এসেছে, তাতে বোঝা যায় তিনি অপরাধীদের ব্যাপারে কিছু বলতে রাজি নন। তার বক্তব্য হচ্ছে বিভিন্ন দাবি নিয়ে ছাত্রীরা আমার কাছে এসেছিল। দাবি মানার আশ্বাস দিয়ে তাদের হলে পাঠানো হয়। কিন্তু হলের সামনে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। বুধবার ছাত্রলীগের সদস্যরা আন্দোলনকারী ছাত্রীদের ওপর হামলা করার ঘটনা সবাই জানেন। এমনকি ছাত্রলীগের মেয়েরাই জানাচ্ছেন, ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের অনুসারীরা বিভিন্নভাবে ছাত্রীদের আগে থেকেই নির্যাতন করত। প্রতিবাদে ছাত্রলীগের নারী কর্মীরা নিজেদের সংগঠনের কর্মসূচি বর্জন করেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে ছাত্রলীগের নেতারা স্থানীয় হোস্টেলে থাকা ছাত্রীদের ওপর যৌননির্যাতন চালালেও এর প্রতিবাদও করা যাচ্ছে না। তবে ছাত্রলীগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আইএইচটি শাখা বিলুপ্ত করে। জানা যায়, এই নেতাদের বিরুদ্ধে আরো কঠিন সিদ্ধান্ত হতে যাচ্ছে। বাস্তবতা হচ্ছে, ছাত্রলীগ তার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এমন ‘অ্যাকশন’ সবসময় নিচ্ছে যা কার্যত লোক দেখানো কিছু তৎপরতা ছাড়া অন্য কিছু নয়। কারণ, অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতারা শেষ পর্যন্ত বহাল তবিয়তেই থাকে।
অপরাধীদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়নি। তারা কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানাননি। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা যখন অন্যায় করছে তাদের জন্য দেশের কোনো আইন প্রযোজ্য হচ্ছে না কিংবা তাদের বিরুদ্ধে পুলিশি তৎপরতা নেই কেন? পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতীয়মান হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সর্বময় ক্ষমতা যেন এখন ছাত্রলীগের হাতে। শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য এমন অবস্থার পরিবর্তন দরকার। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজশাহী আইএইচটির ঘটনাটির উপযুক্ত বিচার হওয়া প্রয়োজন। এ ব্যাপারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের সাহসী ভূমিকা নিতে হবে।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫