ঢাকা, শুক্রবার,১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

প্রশাসন

সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

বিশেষ সংবাদদাতা

০৭ ডিসেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ২০:১৪


প্রিন্ট

নতুন বছরে দশম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ২০১৮ সালের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির প্রদেয় ভাষণের খসড়ায় এই অনুমোদনের কথা জানিয়ে বলেন, সংবিধানের ৭৩ (২) ধারা অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম অধিবেশনের সূচনায় এবং প্রতি বছরের প্রথম অধিবেশনের শুরুতে রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণ বরাবরই আমরা দুই ফর্মে তৈরি করে থাকি। একটা মূল ভাষণ ও আরেকটা পড়ার জন্য সংক্ষিপ্ত ভাষণ। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেয়ার জন্য রাষ্ট্রপতির ভাষণে নয়টি বিষয়কে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। মূল ভাষণে ৭২ হাজার ৩৮৬টি শব্দ সংকুলান করা হয়েছে আর সংক্ষিপ্ত ভাষণে রাখা হয়েছে সাত হাজার ৪৫৭টি শব্দ। সংশোধনী শেষে ভাষণের প্রকৃত আকার জানা যাবে। কারণ কিছু সংযোজন-বিয়োজন হবে। আগামী ৪ জানুয়ারির মধ্যে ভাষণ চূড়ান্ত করা হবে। ৩১ ডিসেম্বর পার হওয়ার পর কিছু তথ্য-উপাত্ত পরিবর্তন করা হবে।

খসড়া ভাষণে নয়টি বিষয় বিস্তারিতভাবে এসেছে জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, এর মধ্যে রয়েছে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও সামষ্টিক অর্থনীতির চিত্র, দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপ ও সাফল্য, রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে বিভিন্ন খাতে গ্রহণ করা কর্মসূচির রূপরেখা। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, দেশি ও বিদেশি কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির প্রসারের বিষয়ও ভাষণে এসেছে।

তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি, বৈদেশির সম্পর্কের ক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্য এবং প্রশাসনিক নীতি, কৌশল, উন্নয়ন দর্শন ও অগ্রযাত্রার দিক নির্দেশনার বিষয়টিও এসেছে রাষ্ট্রপতির ভাষণে।

শফিউল জানান, চলতি বছর ২০১৭ সালে রাষ্ট্রপতি এক ঘণ্টার মধ্যে ভাষণটি শেষ করেছিলেন। সেটা ছিল পাঁচ হাজার ৮০৬ শব্দের। এটাও আমরা এই সাইজের মধ্যে আনার চেষ্টা করব, যাতে পঠিতব্য অংশটি সহজে পড়া যায়। ২০১৮ সালের জন্যও ভাষণ ওই আকারে আনার চেষ্টা করা হবে।

কম্বোডিয়ায় বঙ্গবন্ধুর নামে সড়ক হবে
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, মন্ত্রিসভার আজকের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কম্বোডিয়া সফর সম্পর্ক অবহিত করা হয়। বৈঠকে জানানো হয় কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনের একটি সড়কের নামকরণ করা হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে। আর ঢাকার বারিধারার পার্ক রোডের নামকরণ কম্বোডিয়ার সাবেক রাজা নরাদম সিহানুকের নামে হবে।

শীতলপাটির বিশ্ব স্বীকৃতিতে সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশের শীতলপাটির জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থার (ইউনেস্কো) স্বীকৃতিতে সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়েছে মন্ত্রিসভা।

তিনি বলেন, সিলেটের ঐহিত্যবাহী শীতলপাটি ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে যে স্বীকৃতি পেয়েছে সেটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়। মন্ত্রিসভা এজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।

এর আগে বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপে ইউনেস্কোর ইন্টারগভার্নমেন্টাল কমিটি ফর দ্য সেফগার্ডিং অব দ্য ইনটেনজিবল কালচারাল হেরিটেজ কমিটির ১২তম অধিবেশনে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটিকে বিশ্বের নির্বস্তুক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য (ইনটেনজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি) হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে মন্ত্রিসভার শোক
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জননন্দিত মেয়র, খ্যাতিমান টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব, সফল উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী নেতা আনিসুল হকের মৃত্যুতে মন্ত্রিসভা গভীর শোক প্রকাশ করে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থনে মেয়র নির্বাচিত হন আনিসুল হক। প্রায় দুই বছর ধরে ওই দায়িত্ব পালনের মধ্যেই চলতি বছর জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিসে আক্রান্ত আনিসুল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ নভেম্বর তিনি মারা যান।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫