ঢাকা, শুক্রবার,১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

আদর্শ বিস্তার ও প্রতিষ্ঠায় যে জ্ঞান ও গুণ দরকার

শাহ্ আব্দুল হান্নান

০৭ ডিসেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৭:২৭


শাহ্ আব্দুল হান্নান

শাহ্ আব্দুল হান্নান

প্রিন্ট

এখানে ‘আদর্শ’ বলতে ইসলামকে বোঝাচ্ছি। এ সম্পর্কে আমি বিভিন্ন বই পড়েছি, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লেখক হিশাম আল তালিবের। তাঁর লেখা বই ‘ইসলামের দিকে আহ্বান : যথাযথ পদ্ধতি’ (Inviting to Islam : Ethics of Engagement)। তিনি তার নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে এই বইটি লিখেছেন।

ইসলামি আদর্শ প্রচারে কাজ করতে হলে ইসলাম সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে; বিশেষ করে এর মূলনীতিগুলো। তাওহিদ হচ্ছে ইসলামের প্রধান মূলনীতি। তাওহিদ শুধু বিশ্বাস নয়, তাওহিদ হচ্ছে পুরো ইসলামি জীবনবিধানের ভিত্তি।

ইসলামের বিশ্বজনীনতা সম্পর্কে জানতে হবে। আল্লাহ তায়ালা ইসলামকে সব মানুষের ধর্ম হিসেবেই মনোনীত করেছেন। তবে ইসলাম গ্রহণ করা বা না করা ব্যক্তির ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। ইসলাম মানবজাতিকে এক পরিবার মনে করে। সব মানুষ মূলত সমান। রাসূল সা: বিদায় হজের ভাষণে বলেছেন, ‘আরবের উপর অনারবের শ্রেষ্ঠত্ব নাই, অনারবের উপর আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নাই, কালোর উপর সাদার শ্রেষ্ঠত্ব নাই, সাদার উপর কালোর শ্রেষ্ঠত্ব নাই।’ এর মানে হচ্ছে সব মানুষ, পুরুষ ও নারী নির্বিশেষে সমান; কেননা আরবের মধ্যেও পুরুষ আছে, নারী আছে, অনারবের মধ্যেও পুরুষ ও নারী আছে।

ইসলামি আদর্শের জন্য যারা কাজ করতে চান, তাদেরকে ইসলামের মূল উৎস কুরআন ও সুন্নাহকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। ইসলামের লক্ষ্যগুলো জানতে হবে। তা হচ্ছে- জীবন রক্ষা করা; ঈমান রক্ষা করা; ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করা, সম্পদ রক্ষা করা, আদল বা সুবিচার রক্ষা করা। তাদেরকে আধুনিক বাস্তবতা ও পরিবর্তন (ফিকহ আল ওয়াকি) সম্পর্কে জানতে হবে। কাজের পরিণতি সম্পর্কে জানতে হবে। কলাকৌশল (Strategy) সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকতে হবে।

ইসলামকে অগ্রসর করার জন্য যিনি কাজ করেন, তাকে আদর্শ (role model) হতে হবে। ‘আল্লাহর জন্য জীবনের’ অর্থ হচ্ছে ইসলামের জন্য কোনো প্রচেষ্টাকেই বাদ না দেয়া। পৃথিবীর সম্পদের উন্নয়ন, মানুষের যোগ্যতাকে ভালো কাজে লাগানো, মুসলিম সমাজকে আদর্শ সমাজ বানানো ইত্যাদি।
সত্যিকার ধর্মীয় জীবন হচ্ছে ইবাদতকে গুরুত্ব দেয়া, মানুষের প্রতি কর্তব্য পালন করা, ক্ষুদ্র কাজের পরিবর্তে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোয় গুরুত্ব দেয়া এবং বিতর্কে না জড়ানো।

কাজে সহনশীলতা ও মধ্যপন্থা গ্রহণ করতে হবে। বৈরাগী হওয়ার দরকার নেই, তবে ভোগবাদী হওয়া যাবে না। ইসলামের কাজে আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে; শান্ত থাকতে হবে এবং অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া (over-reaction) থাকা উচিত নয়।

আশাবাদী (Positive) হওয়া উত্তম। সমস্যা আসবে, পরীক্ষা আসবে। তখন সবর করতে বা ধৈর্য ধরতে হবে এবং সাবধানতার সাথে আরো বেশি কাজ করতে হবে। তাহলে মুসলিমরাই জিতবে।
মুসলিমদের সব সমস্যার কারণ তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র- তা ভাবা ঠিক নয়। ষড়যন্ত্র আছে; তবে বেশির ভাগ সমস্যাই আমাদের নিজেদের অযোগ্যতা ও ব্যর্থতার কারণে। নম্রতা থাকতে হবে আমাদের। নেতৃবৃন্দকে মর্যাদা দিতে হবে। তাদের কাজকে গুরুত্ব দিতে হবে। তবে অন্ধভক্ত হওয়া উচিত নয়।

সবাইকে ওপরের কথাগুলো বিবেচনা করতে বলি। সঠিক মনে তাকে আমল করতে বলছি। হিশাম আল তালিব তার জীবনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এসব বলেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামিক ব্যক্তিত্ব এবং ‘ট্রেনিং গাইড ফর ইসলামিক ওয়ার্কাস’-এর লেখক।
লেখক : সাবেক সচিব, বাংলাদেশ সরকার

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
সকল সংবাদ

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫