ঢাকা, রবিবার,১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

অভিমত : বিকৃত বাংলা এবং কিছু কথা

মো: দুলাল মিয়া

০৭ ডিসেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

যেকোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নের সময়টা ছাত্রজীবন। এটা জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যে সময়ে একজন নিজেকে তৈরি করে আগামী দিনের জন্য। পরিবার, দেশ, জাতি ও বিশ্ববাসীর কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করার লক্ষ্যে যোগ্য করে গড়ার উপযুক্ত সময় এটা। ছাত্রজীবন শেষে কর্মজীবন শুরু। তখন পরিচয় দিতে হয় নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী হিসেবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি যদি হয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধ্যয়নকালীন কোর্সটি যদি গ্র্যাজুয়েশন বা স্নাতক কোর্স হয়, ওই কোর্স সাফল্যের সাথে সম্পন্ন করার পর গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি অর্জন করা হয়। আমাদের দেশের নিয়ম অনুযায়ী, চাকরির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন পদে যোগদানের শিক্ষাগত যোগ্যতা হলো চার বছরমেয়াদি স্নাতক সম্মান ডিগ্রি বা সনদ। ২০০১-০২ সেশন থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্নাতক সম্মান কোর্স চার বছরমেয়াদি করা হয়েছে।
ছাত্রছাত্রী গ্র্যাজুয়েশন, স্নাতক ও বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানÑ এই ক’টি শব্দ যেমন সর্বজন স্বীকৃত, তেমনি আইনগতভাবে বৈধ এবং বাংলা ভাষায় প্রতিষ্ঠিত। আর কোনো ছাত্রছাত্রী গ্র্যাজুয়েট বা স্নাতক হিসেবে পরিচিতি পাবেন, এটা তার অধিকার ও অর্জন।
আমাদের ভাষা আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন, সংগ্রাম ও ঘটনার পরিক্রমায় বিভিন্ন অর্জন এসব কিছুর সাথে বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ছাত্রসংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ আছে।
প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী যারা বর্তমানে গ্র্যাজুয়েট বা স্নাতক, অনেকে নিজেদের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী কিংবা গ্র্যাজুয়েট বা স্নাতক হিসেবে পরিচয় দেন না। তারা পরিচয় দেন বিকৃত বাংলা শব্দ ব্যবহার করে। এমনকি বর্তমান শিক্ষাথী অনেকেই নিজের পরিচয় ছাত্রছাত্রী হিসেবে না দিয়ে সাধারণ বিকৃত বাংলা শব্দ ব্যবহার করে পরিচয় দিচ্ছেন।
এভাবে বিকৃত বাংলা ব্যবহারের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শকে পর্যন্ত অপমানিত করা হচ্ছে। অপমান করা হচ্ছে হাজার বছরের স্বাধীনতার সব দিকপালকে, একই সাথে বাংলা সাহিত্যের দিকপালদেরও। এর মাধ্যমে ছাত্রজীবনে অর্জিত সনদ পরোক্ষভাবে কি অস্বীকার করা হচ্ছে না? বিভিন্ন বিকৃত শব্দ ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপ, পেজ ও ওয়েব পোর্টাল চালু হয়েছে, যার মাধ্যমে পরিচয়ের কারচুপি চলছে।
বিকৃত বাংলা শব্দগুলো অনেকটা এ রকম : দানেশিয়ান, হাবিপ্রবিয়ান, এইসএসটিউয়ান, হাপ্রিবি পরিবার অনলাইন, www.hstufamily.com, বুয়েটিয়ান, রুয়েটিয়ান, ঢাবিয়ান, রাবিয়ান, জাবিয়ান, জুসেফাইড, নরটডেমিয়ান, সাস্টটিয়ান... ইত্যাদি। শব্দগুলো যেমন বিকৃত, তেমনি স্বীকৃত নয় সরকার, বাংলা একাডেমি কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃক যদি স্বীকৃত কিংবা অনুমোদিত হয়ে থাকে, তাহলে আমার লেখা প্রত্যাহার করে নেব। বর্তমানে এ ধরনের বিকৃত ও অস্বীকৃত বাংলা শব্দগুলো প্রত্যাহারের অনুরোধ করছি।
লেখক : কৃষিবিদ, জীবন সদস্য,
কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটশন, বাংলাদেশ
ই-মেইল : dulalbwdb@yahoo.com

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫