ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৪ ডিসেম্বর ২০১৭

অর্থনীতি

বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহবান

সফররত সৌদি ব্যবসায়ীদের সাথে এফবিসিসিআইর বৈঠক

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

০৬ ডিসেম্বর ২০১৭,বুধবার, ১৯:৪৩


প্রিন্ট

বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য চমৎকার স্থান মন্তব্য করে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, এখানে অনেক কম খরচে বিশ্বমানের পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব। সৌদি ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে লাভবান হবেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এসইসি) বিনিয়োগ করার জন্য সৌদি বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহবান জানান তিনি।

আজ বুধবার ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর পক্ষ থেকে বাংলাদেশে সফররত সৌদি আরবের উচ্চ পর্যায়ের ২১ সদস্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সাথে গুলশানের একটি হোটেল আয়োজিত বিজনেস মিটিং-এ প্রধান অতিথির বক্তব্য এ আহবান জানান তিনি।

সফররত ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল এফবিসিসিআই ছাড়াও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের সাথে বৈঠকে মিলিত হয়।

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন সফররত ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের নেতা সৌদি আরবের ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি গ্রুপ লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট মোশাবাব আব্দুল্লাহ আলখাহতানি, সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম. আমিনুল ইসলাম ও এফবিসিসিআইয়ের প্রথম সহসভাপতি শেখ ফজলে ফাহীম।

দেশে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির জন্য সুবিধাজনক বিভিন্ন স্থানে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এসব জোনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে। সৌদি বিনিয়োগকারীরা চাইলে পৃথক একটি স্পেশাল ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগ করতে পারেন বলেও জানান তিনি।

সৌদি আরবের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য বৃদ্ধির প্রচুর সুযোগ রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বর্তমানে উভয় দেশের বাণিজ্য ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে সীমাবন্ধ। উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এলে এ বাণিজ্য অনেক বাড়ানো সম্ভব।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ১৯৭২-৭৩ সালে বাংলাদেশ শুধু পাট, চা ও চামড়াসহ মাত্র ২৫টি পণ্য রফতানি করে আয় করেছে ৩৪ কোটি ৮৪ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। আজ সেই বাংলাদেশ সাড়ে সাতশ’ পণ্য বিশ্বের প্রায় সব দেশে রফতানি করে সার্ভিস সেক্টরসহ আয় করছে ৩৮.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন তৈরীপোশাক রফতানিতে বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। দেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে ২০২১ সালে বাংলাদেশের রফতানি দাড়াঁবে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগকারীরা এখন শতভাগ বিনিয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই যে কোনো সময় লাভসহ বিনিয়োগের পুরো অর্থ ফিরিয়ে নিতে পারেন। বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য রফতনির ক্ষেত্রে দ্বৈত শুল্কনীতি প্রত্যাহার করা হয়েছে। সৌদি ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে এ সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন। বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগকারীদের চাহিদা মোতাবেক প্রয়োজনীয় সবধরনের সহযোগিতা করছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সৌদি প্রতিনিধি দলের প্রধান মোসহাবাব আব্দুল্লাহ আল কাহতানি বলেন, এই বৈঠক দুই দেশের মধ্যে আরো বেশি মুক্ত বাণিজ্যের সম্ভাবনা জাগাবে। দুই দেশের বেসরকারি খাতের সংযুক্তি দীর্ঘদিনের ভাতৃ সম্পর্ককে আরো জোরদার করবে। সৌদি আরবে শিক্ষা, পর্যটন ও গৃহায়ণে বিনিয়োগ করতে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ বলেন, সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি কমার্সিয়াল অফিস অচিরেই চালু করা হবে। সৌদি ব্যবসায়ীদের সাথে সরাসারি আলোচনা করে দেশের আগ্রহী ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসার নতুন পথ তৈরি করতে পারেন।

বিডার চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, সৌদি আরবের সাথে বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ দীর্ঘদিনের। দেশটির সাথে নতুন ব্যবসার কৌশল ঠিক করার সুযোগ এসেছে এখন। সৌদি আরব যেমন একটি ভিশন (ভিশন২০৩০) নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশও অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটা ভিশন ঠিক করেছে।

সৌদি প্রতিনিধিদলে ছিলেন রাগেব আল-সানওয়ানি ট্রেডিংয়ের স্বত্ত্বাধিকারী রাগেব মোস্তফা আল-সানওয়ানি, আল সানওয়ানি ট্রেডিং অ্যান্ড কন্ট্রাকটিংয়ের সিইও নওরাস মোস্তফা আলসানওয়ানি, সুলতান নাসের অকসনারিজের মহাব্যবস্থাপক সুলতান নাসের আল মওয়ালি, রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি আল সাফির আল মাসির মহাব্যবস্থাপক খালিদ আব্দুল আজিজ আল সালিম, কটন হাউজের এমডি নায়িফ বন্দর আল হারথি, ক্যাডার রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির সদস্য বদর সাদ্দাদ আলাদিলাহ, পোশাক প্রতিষ্ঠান রেমি জেন্ট টেইলরিং স্টোরের রামি সালেহ আল আবুদি, আওজান কোংয়ের সোলায়মান বদর আল বদর, গালফ শেলসের ডেপুটি ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আওয়াদ আলশামরানি, সাউদি এক্সপোর্ট মার্কেটিং স্পেশালিস্ট জায়েদ সালেহ বিন মুকালিব, একই প্রতিষ্ঠানের খালিদ রোমেহ আল রোমেহ, আল ফানার এনার্জির বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ ইরফান, সাউদি সালওয়া কোম্পানির সিইও নাবিল মারুফ জান এ তুর্কিস্তানি, সাউদি সালওয়া কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট রিয়াদ আব্দুল্লাহ এস আল ওয়াবিলসহ আরও কয়েকজন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫