ঢাকা, শুক্রবার,১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

বাঁধভাঙা উন্নয়ন

জসিম উদ্দিন

০৬ ডিসেম্বর ২০১৭,বুধবার, ১৮:৫৫ | আপডেট: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৭,বুধবার, ১৯:২১


জসিম উদ্দিন

জসিম উদ্দিন

প্রিন্ট

মালয়েশিয়ার পর্যটন ও সংস্কৃতিবিষয়কমন্ত্রী নাজরি আজিজ কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত সেকেন্ড হোম কর্মসূচি নিয়ে এক জাতীয় কর্মশালায় জানান, ২০০২ সালে ‘মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ড হোম’ (এমএস২এইচ) নামের বিশেষ কর্মসূচি চালুর পর এ পর্যন্ত ১২৬টি দেশের ৩৩ হাজার ৩০০ জন এ সুবিধা নিয়েছেন। এর মধ্যে শীর্ষ স্থানে রয়েছে চীন; দেশটির ৮ হাজার ৭১৪ জন এ সুবিধা নিয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান; দেশটির ৪ হাজার ২২৫ জন এ সুবিধা নিয়েছেন। এ দু’টি দেশের সাথে পাল্লা দিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। দারিদ্র্যপীড়িত এ দেশটির ৩ হাজার ৫৪৬ জন এ কর্মসূচির আওতায় সেখানে বাড়ি বানিয়েছেন। ৬ অক্টোবর দৈনিক সমকাল এ বিষয়ে বিস্তারিত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। 

চীনের অর্থনীতির আকার এখন আমেরিকার পরেই বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তিদের বেশির ভাগের বাস এ দেশে। সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার বসবাসও এ দেশে। চীনের সাথে গভীর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে মালয়েশিয়ার। মুসলিমদের পরেই চায়নিজ বংশোদ্ভূত জনসংখ্যা এ দেশে বেশি। বিদেশী বিনিয়োগে চীন সেখানে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। সে জন্য তাদের পছন্দের তালিকায় মালয়েশিয়ার মাই সেকেন্ড হোম প্রকল্প জনপ্রিয়তা পাওয়া স্বাভাবিক।
অন্য দিকে জাপান বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশগুলোর একটি। চীনের আগেই এটি বিশ্বের দ্বিতীয় প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি ছিল। এ দেশের মানুষ এক কথায় সবচেয়ে ধনী। তাদের একটি দু’টি সেকেন্ড বা থার্ড হোম থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিবেশীদের সাজানো-গোছানো মালয়েশিয়াতেই তা হতে পারে।

গরিব বাংলাদেশের মানুষ কিভাবে এই ধনীদের সাথে পাল্লা দিয়ে সেকেন্ড হোম প্রকল্পটিকে জমিয়ে দিলো, সেটা বাকি বিশ্বের কাছে বিস্ময়কর। তবে বাংলাদেশের মানুষের কাছে তা মোটেও বিস্ময়কর নয়। এ দেশের মানুষ এখন অনেকটাই বুঝে গেছে, কিভাবে অর্থকড়ি কামাতে হয়। বেশির ভাগ মানুষের কাছে এই অবৈধ আয়ের পথ জানা না থাকলেও, এই তথ্যটুকু তাদের জানা হয়ে গেছে। যখন সেকেন্ড হোম প্রকল্পে বাঙালিদের (পশ্চিমবঙ্গ নয়) রমরমা তখন সামান্য ক’টা রিঙ্গিত কামানোর জন্য লাখ লাখ বাঙালি কী আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। হতদরিদ্র সে মানুষগুলো দেখলে অন্যরা নিশ্চই বিভ্রান্ত হবেন। একই দেশের এই বিপরীত চিত্র কেন? একদল সামান্য একমুঠো ভাত ও কাপড় কেনার জন্য বিদেশ বিভুঁইয়ে জীবন ক্ষয় করছেন। অন্য একদল অর্থ রাখার জায়গা পাচ্ছেন না। তারা কিনছেন প্রাসাদপোম হোম।

মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম করতে যাওয়া লোকদের কী পরিমাণ অর্থকড়ি রয়েছে, সেটা প্রকাশিত হওয়া পরিসংখ্যান থেকে আঁচ করা যায়। সেকেন্ড হোম কর্মসূচির আওতায় অংশ নেয়া ব্যক্তিরা স্থাবর সুবিধা ও রাজস্ব হিসেবে মোট ১২৮০ কোটি মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত জাতীয় অর্থনীতিতে যোগ করেছেন। এক লাখ ডলার জমা দেয়াসহ বিশেষ কিছু শর্ত পূরণ করে যেকোনো দেশের নাগরিক মালয়েশিয়ায় দীর্ঘ মেয়াদে বসবাসের সুযোগ পান। বিনিয়োগকারীদের আয়ের উৎস গোপন রাখে মালয়েশিয়া। দুর্নীতি আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়ার ক্ষেত্রে পৃথিবীর প্রায় সব দেশের একই ধরনের মানসিকতা। মানুষের হক মেরে কিংবা চুষে আনা হয়েছে কি না অর্থ, সেই প্রশ্ন তোলে না কেউ। ফলে জয় দুর্নীতিবাজদের করায়ত্তে রয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, পাঁচ লাখ রিঙ্গিত বা এক কোটি ২২ লাখ টাকা জমা দেয়ার পাশাপাশি মাসিক ১০ হাজার রিঙ্গিত বা ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা বৈদেশিক আয় দেখাতে পারলেই পাওয়া যায় মালয়েশিয়া সেকেন্ড হোমে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ। যে পরিমাণ অর্থের কথা বলা হচ্ছে, তা জমা করা বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষের জন্য এখন সামান্য ব্যাপার। লুটপাটের যে বাঁধভাঙা জোয়ার চলছে তাতে অনেকে লাল হয়ে গেছেন। উন্নয়নের একটা মতবাদ হয়েছে ট্রিকল ডাউন। তা হলো ছলকে পড়ে উন্নয়নে বান বয়ে যাওয়া। বাংলাদেশে হয়েছে দুর্নীতির ছলকে পড়া। যারা লুট করেছেন, তারা তো পুরোটাই নিয়েছেন; কিন্তু লুটেরাদের আশপাশে যা ছলকে পড়েছে সেগুলো যারা ধরতে পারছে, তারাও কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। সুতরাং মালয়েশিয়ার সেকেন্ড হোমে খরচের যে বহর সেটি বহন করতে পারে বাংলাদেশের অনেক দুর্নীতিবাজ। বরং এরচেয়ে অনেক বেশি খরচের কোনো থার্ড হোম প্রকল্প ইউরোপ যদি গ্রহণ করে, আশা করা যায় সেখানে চীন ও জাপানকে টেক্কা দিয়ে বাংলাদেশীরা প্রধান হয়ে যাবে। অলিম্পিকে একটা ব্রোঞ্জ জিততে পারলে বাংলাদেশ ধন্য হয়ে যায়। রুপা ও সোনা জিতলে সারা জাতি রঙের হোলি খেলায় মেতে উঠবে। ইদানীং ভারতীয় হোলি উৎসব বাংলাদেশে বেশ জোরালভাবে দেখা যায়।

বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন এখনো তার শৈশবে রয়েছে। তারা যেন কিছুই বোঝে না। দুনীতির অর্থ তাদের কাছে কেবলই বিরোধী দলের তহবিল তসরুপ। সেটি যদি প্রাগৈতিহাসিককালেও ঘটে থাকে। তার পেছনে পুরো টিমকে কাজে লাগিয়ে দিতে খুব তৎপর তারা। এর নজির হিসেবে আমরা দেখেছি তারা সরকারি দলের রাজনীতিকদের সাফসুতরো মানুষ হিসেবে সার্টিফিকেট দিতে। অন্য দিকে বিরোধী দলের মানুষের কাদা লেপটে দিতে। ব্যাংক খাতে যে লুটপাট হয়েছে সে দিকে লক্ষ করলে আমরা বুঝতে পারবো, দুদক কোন দিকে তাকিয়ে আছে। লুটেরাদের ব্যাপারে সরকার একেবারে নির্লিপ্ত। যেন কিছুই দেখছে না। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান দুদকও সরকারকে অনুসরণ করছে।
এই প্রথম আমরা দেখলাম, লুটপাটের দায়ে অভিযুক্ত বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চু দুদকে হাজিরা দিয়েছেন; কিন্তু যতটা রাজকীয় কায়দায় দুদকে তিনি এই সময় আসা-যাওয়া করলেন তাতে মনে হতে পারে তিনি একেবারে পরিশুদ্ধ একজন মানুষ। এতে তার ভাবমর্যাদা আরো যেন বেড়ে গেল। দুদক নিজে থেকে প্রণোদিত হয়ে বাচ্চুকে ডাকেনি। আদালতের আদেশে তাকে ডাকতে বাধ্য হয়েছে দুদক।

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার আদালতে ব্যাংকটির বরখাস্ত হওয়া জিএম জয়নুল আবেদীনের জামিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিকালে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার এক প্রশ্নের জবাবে জয়নুল আবেদীন বলেছিলেন, ওই সময় পরিচালনা পর্ষদের অনুমতিসাপেক্ষে ব্যাংকটির ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। এই ক্ষেত্রে জয়নুল আবেদীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বোর্ডের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে হয়েছে। এ ছাড়া ভিন্ন কোনো উপায় ছিল না। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। বরখাস্ত হওয়া জিএমের ওই বক্তব্যের পর সিনহা দুদকের আইনজীবীর উদ্দেশে বলেছিলেন, পর্ষদের যারা ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের সাথে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। এর মধ্যে যদি কেউ বাদ যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তার এই বক্তব্য দুদকের চেয়ারম্যানকে জানিয়ে দেয়ার কথা বলেছিলেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি।

ব্যাংকের অর্থ লুটেরাদের চিনিয়ে দিলো বেসিক ব্যাংকের বরখাস্ত হওয়া জিএম। তিনি কেন দুর্নীতিবাজ পর্ষদকে সহযোগিতা করেছেন তার উত্তরও তিনি দিয়েছেন। তার ভাষায় ‘অন্য কোনো উপায় ছিল না’। বাংলাদেশের ধনভাণ্ডারগুলো এখন কাদের হাতে গচ্ছিত রয়েছে বোঝা গেল। শুঁটকির বাজারে বিড়াল এখন চৌকিদার। শুধু তাই নয়, এই বিড়ালকে আবার শেল্টার দিচ্ছে সিংহ ও বাঘেরা। ফলে পরিচালনা পর্ষদের সব মেম্বার ধোয়া তুলসীপাতা হয়ে যাচ্ছেন। তাদের কেউ ধরাছোঁয়ার ক্ষমতা রাখেন না। আর চুনোপুঁটিদের সব দায় ঘাড়ে নিতে হচ্ছে।

আর দুদক কোথায় আছে সাবেক প্রধান বিচারপতির জোরাল অবস্থান গ্রহণ থেকে সেটাও বোঝা যায়। তবে মালয়েশিয়ায় বাড়ি কেনা নিয়ে এই দুদকও একটি তালিকা তৈরি করেছে। এক হাজার ৬৩ জনের ওই তালিকার মধ্যে ৬৪৮ জনের বিরুদ্ধে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে। এদের বিরুদ্ধে অধিকতর কোনো তদন্তের খবর জানা যায়নি। তবে এ উপলক্ষে একটি টিম মালয়েশিয়া সফর করবেন বলে তখন জানা গেছে! এটাকে একটা অগ্রগতি বলতে হবে। কানাডা ও আমেরিকার বেগমপাড়ার খবরও কি কিছু জানে দুদক? গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি তার জরিপে জানিয়েছিল, খোদ দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দুর্নীতির তথ্য পাওয়া গেছে। শস্যের ভেতর ভূত তাড়াবে কারা?

লুটপাটের উইন্ডো
নয়া দিগন্তে একটি খবর দিয়েছে, সরকারি মাধ্যমিক স্কুলে চলন্ত বৈদ্যুতিক সিঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। এ প্রকল্পের আওতায় ১১১৬ কোটি টাকার বিশাল ব্যয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১৬৩টি স্কুলে এই চলন্ত বৈদ্যুতিক সিঁড়ি স্থাপন করার প্রস্তাব দিয়েছে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতর। প্রতি জোড়া এসকেলেটরের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। স্কুলে চলন্ত বৈদ্যুতিক সিঁড়ি লাগানো হবে এটা গরিব বাংলাদেশের জন্য অনেকটাই উদ্ভট একটা খবর। একটি আজগুবি আইটেম হিসেবে কেবল এই খবরটি জোর দিয়ে প্রকাশ করা যেত; কিন্তু খবরের শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় নিয়েও অনেকটা বিস্তারিত বলা হলো। অর্থাৎ প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের আকার কতটা বড় সেটিও অত্যন্ত গুরুত্ব পেল। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প দেখেছে জাতি। প্রকল্পের আকার-আয়তন নিয়ে যে উৎপাত ও গসিপ রচিত হয়েছে সে অনুযায়ী উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়নি। এর বদলে বরং খবর পাওয়া যাচ্ছে সেকেন্ড হোম কিনতে বাংলাদেশ জাপানের সাথে প্রতিযোগিতা করছে।

ওই প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, শিক্ষার মান, শিক্ষাদানপদ্ধতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধার অপ্রতুলতা নিয়ে যখন বিতর্ক তুঙ্গে, তখন অবকাঠামো উন্নয়নের নামে এসকেলেটর নামক বিলাসী প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে খোদ সরকারের পরিকল্পনা কমিশন। একই সাথে এ ধরনের অদ্ভুত প্রস্তাবকে বিশাল আকারের লুটপাটের পরিকল্পনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, যেখানে দেশের বেশির ভাগ সরকারি, আধা সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের অবকাঠামো খুবই দুর্বল, ভবন ও ক্লাস রুমের সঙ্কট, বৈদ্যুতিক পাখা ও বাতির সঙ্কট, টয়লেটগুলো ব্যবহার অনুপযোগী, লাইব্রেরি, ল্যাব ও কম্পিউটার কক্ষ নেই বললেই চলে; সেখানে চলন্ত বৈদ্যুতিক সিঁড়ির মতো ব্যয়বহুল যান্ত্রিক সিঁড়ি স্থাপন শুধু গরিবের ঘোড়া রোগই নয়, বিপজ্জনকও বটে।

সরকারি স্কুল ভবনগুলো নির্মাণের ক্ষেত্রেও যথোপযুক্ত নিয়মনীতি ও উপকরণের ব্যবহারের বিষয়টিও যেখানে প্রশ্নবিদ্ধ, সেখানে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এসকেলেটরের ভার এসব ভবনের ছাদ ও মেঝে বহন করতে গিয়ে বিপর্যয়ের মুখে পতিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের সহজলভ্যতা ও নিয়মিত মেইনটেন্যান্সের প্রশিক্ষিত লোকবল নিয়েও যথেষ্ট কথা রয়েছে। সর্বোপরি যাদের জন্য এ এসকেলেটর স্থাপনের প্রস্তাব এসেছে, গ্রামগঞ্জের সেসব কোমলমতি শিশু এগুলো ব্যবহারে সুফল ভোগ করবে নাকি বিশ্বের কয়েকটি উন্নত দেশের মতো স্কুলশিক্ষার্থীরা এ যন্ত্র ব্যবহার করতে গিয়ে পা আটকে অথবা হঠাৎ চলন্ত অবস্থায় বৈদ্যুতিক কারণে বন্ধ হয়ে গেলে মর্মান্তিক মৃত্যুসহ আহতের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে; তা নিয়েও উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। গ্রামের শিশুরা এসব চলন্ত সিঁড়ির সাথে পা মেলাতে না পেরে হুমড়ি খেয়ে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাশের দেশসহ বেশির ভাগ উন্নত দেশেই স্কুলপর্যায়ে এ ধরনের এসকেলেটরের ব্যবহার নেই। আর দেশের বেশির ভাগ বিদ্যালয়ই দোতলার বেশি নয়। কাজেই দোতলায় ওঠানামার জন্য এসকেলেটরের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাহলে এ প্রকল্পের অর্থ কী? এই ধরনের প্রকল্প কি সেকেন্ড হোমের ক্রেতা বাড়িয়ে দিচ্ছে?

jjshim146@yahoo.com

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫