ঢাকা, শুক্রবার,১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

সিনেমা

‘ঢাকা উত্তরের মেয়র হতে দৌড়ঝাঁপের’ খবরে যা বললেন অনন্ত

নয়া দিগন্ত অনলাইন

০৬ ডিসেম্বর ২০১৭,বুধবার, ১১:৫২


প্রিন্ট
ব্যবসার পাশাপাশি বর্তমানে ধর্মীয় জীবনযাপন করছেন অনন্ত।

ব্যবসার পাশাপাশি বর্তমানে ধর্মীয় জীবনযাপন করছেন অনন্ত।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের জনপ্রিয় মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে সর্বস্তরের মানুষের ন্যায় সব পেশার মানুষ ব্যাথিত। সময়ের আলোচিত সফল শিল্পপতি ও ঢালিউডের জনপ্রিয় তারকা অনন্ত জলিল এর ব্যতিক্রম নন। প্রিয় মেয়রের মৃত্যুতে অনন্ত একটি দীর্ঘ লেখা তার ফেসবুক ফ্যান পেইজে পোস্ট করেন। আর সেই পোস্টেই এ জনপ্রিয় অভিনেতার ভক্তরা তাকে ঢাকার উত্তর সিটির মেয়র হিসেবে দেখতে চেয়ে মন্তব্য করেছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন অনন্ত মেয়র হলে একটি নিরাপদ ও সুন্দর বাসযোগ্য ঢাকা উপহার দিবেন।

ভক্তদের সে চাওয়ারই উত্তর দিয়েছেন নায়ক অনন্ত তার আরেক ফেসবুক স্ট্যাটাসে। মঙ্গলবার রাতে পোস্ট করা ওই স্ট্যাটাসে অনন্তের লেখাটি নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো,

‘বন্ধুগন, আসসালামু আলাইকুম । বন্ধুগন আমার প্রতি আপনাদের ভালোবাসায় আমি চির কৃতজ্ঞ।

বন্ধুরা, আমি কখনো রাজনীতি করিনি এবং করবোও না। কারন রাজনীতির জন্য আমি নই। আপনারা সবাই জানেন আমি একজন ব্যবসায়ী ও চলচিত্র অভিনেতা মাত্র।

আমার প্রতি ভক্তগনের ভালবাসার আবেগের কারনে বলেছিলো আমাকে মেয়র হিসেবে দেখতে চায় । কিন্তু আমি তা ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ক্লিয়ার করে দিয়েছি। আবারো স্পস্ট ভাবেই বলছি আমি রাজনীতিতে আসবো না। এমন কি কখনোও বি জি এম ই এ,বি কে এম ই এ এবং চলচিত্র পরিষদের কোন ইলেকশনও আমি করিনি, সেখানে রাজনৈতিক তো অনেক বড় বিষয়।

এ বিষয়ে পরিস্কার করার পরও দেশের বেশ কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় আমার ভুল উদ্ধৃতি ও ছবি দিয়ে মেয়র হওয়ার দৌড়ঝাঁপ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এতে আমি বেশ মর্মাহত। অনুরোধ রইলো আমার সাথে কথা না বলে মিথ্যা উদ্ধৃতি প্রকাশ করে এই ধরনের সংবাদ প্রকাশ করবেন না।

আমি অতি সামান্য একজন মানুষ, তাই আপনাদের ভালোবাসা নিয়ে সবসময় আপনাদের পাশেই থাকতে চাই। ইনশাল্লাহ। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।’

বেশ কিছুদিন ধরেই অভিনয় থেকে দূরে রয়েছেন এই অভিনেতা। সম্প্রতি তিনি ধর্মীয় কাজে মনোনিবেশ করেছেন সাথে ভক্ত অনুরাগীদের ইসলামের পথে আসার জন্য অনুরোধ করেছেন। ব্যবসার পাশাপাশি ধর্মীয় জীবনযাপন করছেন অনন্ত।

একটি বেসরকারি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনন্ত জলিল জানিয়েছিলেন, তিনি ও তার বড় ভাই মুন্সিগঞ্জ জেলায় বাবার কাছে বড় হয়েছেন। পাঁচ বছর বয়সে তার মা মারা যান। অপর একটি রেডিওকে দেয়া আরেক সাক্ষাৎকারে অনন্ত তার নাম ‘আব্দুল জলিল’ নামের গৃহশিক্ষকের অণুপ্রেরণায় তার বাবা রেখেছেন বলে জানান।

অনন্ত জলিল ও লেভেল আর এ লেভেল করেছেন ঢাকার অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে। এরপর ম্যানচেস্টার থেকে বিবিএ এবং ফ্যাশন ডিজাইনিং পড়েন।

জলিল ১৯৯৯ সালে একজন সফল ব্যবসায়ি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি ২০১০ সালে খোঁজ-দ্যা সার্চ সিনেমার মাধ্যমে ঢালিউডের চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন।

এম এ জলিল অনন্তর পূর্ব পরিচয় হলো, তিনি একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। তিনি গার্মেন্টস ব্যবসার পাশাপাশি চলচ্চিত্র ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন, নিজের প্রযোজনা সংস্থার মাধ্যমে। নতুনত্ব ও বৈচিত্র্য আনার জন্য রূপালীপর্দায় ঝুঁকেছেন অনন্ত জলিল।

অনন্ত জলিল সামাজিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে ৩টি এতিমখানা নির্মাণ করেছেন। মিরপুর ১০ নং, বাইতুল আমান হাউজিং ও সাভার মধুমতি মডেল টাউনে আছে এতিমখানাগুলো। এ ছাড়াও সাভারের হেমায়েতপুরের ধল্লা গ্রামে সাড়ে ২৮ বিঘার উপর একটি বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন অনন্ত জলিল। তিনি ঢাকার হেমায়েতপুরে অবস্থিত বায়তুস শাহ জামে মসজিদেরর নির্মাণকাজেও অবদান রাখেন।

২০১০ সালে খোঁজ-দ্যা সার্চের পর ২০১১ সালে করেন হৃদয় ভাঙ্গা ঢেউ। এরপর ২০১২-তে দ্য স্পী ও মোস্ট ওয়েলকাম। ২০১৩ সালে করেন নিঃস্বার্থ ভালবাসা, ২০১৪ সালে মোস্ট ওয়েলকাম ২।

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
সকল সংবাদ

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫