ঢাকা, মঙ্গলবার,১২ ডিসেম্বর ২০১৭

নিত্যদিন

ঝাঁপি

০৬ ডিসেম্বর ২০১৭,বুধবার, ০০:০০


প্রিন্ট

আজ তোমরা জানবে ঝাঁপি সম্পর্কে। এটি মাছ রাখা ও আনার জন্য বাঁশের তৈরি একটি বিশেষ ধরনের পাত্র। এ পাত্রে অন্যান্য জিনিসও বহন করা যায়। ছোট, মাঝারি, বড় ইত্যাদি নানা রকম ঝাঁপি তৈরি করা হয়।
লিখেছেন মৃত্যুঞ্জয় রায়
আমাদের দেশের সমতল এলাকায় যেমন মাছ ধরা ও আনার জন্য বাঁশের তৈরি খালই ব্যবহার করা হয়, তেমনি
পার্বত্য এলাকাতেও মাছ রাখা ও আনার জন্য বাঁশের তৈরি একটি বিশেষ ধরনের পাত্র ব্যবহার করা হয়। তাকে বলা হয় ঝাঁপি। সেসব ঝাঁপি দেখতে বেশ আকর্ষণীয়ও বটে। ঝাঁপির গড়ন অনেকটা বোতলের মতো। পেটটা চৌকাকার, বোতলের মতো নলাকার গলা, গলার ওপরে চোঙ্গার মতো বৃত্তাকার মুখ বন্ধ করে রাখার জন্য বাঁশের তৈরি আপেলের মতো একটি গুটি বা মুখটি। পাহাড়ি বাঁশ থেকে প্রায় এক সেন্টিমিটার চওড়া করে বেতি তোলা হয়। তারপর সেই বেতি জোড় ধরে একটার পর একটা ঘর ফাঁকা রেখে জালের মতো বুনুনি দিয়ে ঝাঁপি বোনা হয়। বোনা হয়ে গেলে বোঝাই যায় না যে কোথা থেকে শুরু হয়েছিল বোনা আর কোথায় গিয়ে শেষ হলো। বোনার পর সেটিকে একটি অপূর্ব শিল্পকর্ম বলেই মনে হয়। ঝাঁপির গলার সাথে বাঁশের তৈরি একটা আংটা থাকে। এই আংটার সাথে রশি বেঁধে মাছ ধরার সময় ঝাঁপি কোমরে ঝুলানো থাকে। মাছ ধরে ঝাঁপির মুখ দিয়ে তা ভেতরে রাখা হয়। মুখটি দিয়ে মুখ আটকে রাখার জন্য মাছ আর বেরিয়ে যেতে পারে না।
এভাবেই ঝাঁপিতে করে মাছ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এমনকি বাজারে বিক্রি করতেও নিয়ে যাওয়া হয়। বেচাকেনা শেষে কেউ কেউ পেঁয়াজ, মরিচ, রসুন কিনে ওই ঝাঁপিতে ভরেই বাড়ি ফেরেন। ছোট, মাঝারি, বড় ইত্যাদি নানা রকম ঝাঁপি তৈরি করা হয়। গোলাকার একধরনের ঝাঁপি আছে, যেগুলোকে বলা হয় ডুলি। বান্দরবানে মারমা উপজাতিদের মধ্যে ঝাঁপি ব্যবহারের প্রচলন বেশি দেখা যায়। সমতল বাংলায়ও ঝাঁপি আছে। লক্ষ্মীর ঝাঁপি, সাপের ঝাঁপি ইত্যাদি নামে সেগুলো পরিচিত।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫