কিশোর মুসা রবিনের অভিযান

রকিব হাসান

চব্বিশ.

বিরাট আলমারিটার কাছে নিয়ে এলো আমাকে কিটু।
জামার পকেট থেকে একটা চাবি বের করল। চাবিটা একটা সরু চেনে লাগানো। ঢুকিয়ে দিলো আলমারির দরজার তালায়। মোচড় দিতেই খুলে গেল তালা। হাতল ধরে টেনে একপাশে পাল্লাটা সরিয়ে দিলো ও।
এই সময় আরেকবার বিদ্যুৎ চমকাল। সেই আলোয় দেখলাম, আলমারির তাকে সারি দিয়ে রাখা অনেকগুলো পুতুল। পনেরো-বিশটার কম হবে না।
‘যেগুলো আমার সবচেয়ে প্রিয়, সেগুলোই আগে দেখাই।’ আলমারিতে হাত ঢুকিয়ে তিনটা পুতুল বেছে বের করল কিটু।
পুতুলগুলো সুন্দর। বাজারে যেসব পুতুল কিনতে পাওয়া যায়, সেগুলোর মতো নয়। একেবারেই আলাদা। মনে হচ্ছে ছোট ছোট মানুষ। প্রাণ ভরে দিলেই স্বাভাবিক মানুষের মতো চলতে আরম্ভ করবে, কথা বলবে।
একটা পুতুল আমার দিকে বাড়িয়ে দিলো কিটু। ‘এর নাম মায়া,’ গর্বিত ভঙ্গিতে বলল ও। ‘আমার প্রথম পুতুল। ধরে দেখতে চাও?’
কিটুর হাত থেকে পুতুলটা নিলাম। সাথে সাথে বুঝতে পারলাম, আজব কোনো জিনিস দিয়ে তৈরি এটা, প্লাস্টিক নয়। আর যদি প্লাস্টিক হয়ও, এ ধরনের প্লাস্টিক আমি জীবনে দেখিনি। অনেক নরম, অনেক মোলায়েম, একেবারে চামড়ার মতো, মানুষের চামড়া।
পুতুলটার রঙও অস্বাভাবিক। প্লাস্টিক কিংবা কাপড়ের পুতুলের যে রকম হয়, মোটেও সে রকম নয়। রঙটাও মানুষের মতো। একটা পুতুলের গোড়ালির ইঞ্চিখানেক ওপরে একটা কালো দাগ, জড়–লের মতো। গালে, নাকের পাশে একটা কালো বিন্দু, তিলের মতো।
(চলবে)

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.