ঢাকা, সোমবার,১৮ ডিসেম্বর ২০১৭

এশিয়া

'রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার হয়তো গণহত্যা চালিয়েছে' : জাতিসঙ্ঘ

বিবিসি

০৫ ডিসেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৯:২৩ | আপডেট: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৯:৫৪


প্রিন্ট
'রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার হয়তো গণহত্যা চালিয়েছে' : জাতিসঙ্ঘ

'রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার হয়তো গণহত্যা চালিয়েছে' : জাতিসঙ্ঘ

জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা জেইদ আল রাদ আল হুসেইন মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হয়তো গণহত্যার মতো অপরাধ সংঘটিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন।

এই প্রথম জাতিসঙ্ঘের কোনো গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার মতো অভিযোগ তুললেন। জেইদ আল রাদ আল হুসেইন এর আগে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চালানো সহিংসতাকে জাতিগত নির্মূল অভিযানের জ্বলন্ত উদাহারণ (টেক্সটবুক এক্সাম্পল অব এথনিক ক্লিনজিং) বলে বর্ণনা করেছিলেন।

জেনেভায় জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের এক জরুরী অধিবেশনে মঙ্ঘলবার এক ভাষণে তিনি 'গণহত্যার' আশঙ্কার কথা বলেন। বাংলাদেশের অনুরোধে মানবাধিকার কাউন্সিলের এই জরুরি অধিবেশন ডাকা হয়।

জাতিসঙ্ঘ কর্মকর্তারা সাধারণত জেনোসাইড বা গণহত্যা শব্দটি হালকাভাবে ব্যবহার করেন না।
জেইদ আল রাদ আল হুসেইন যে এই শব্দটি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাতে বোঝা যায় যে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সহিংসতায় জাতিসঙ্ঘ কতটা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

বিবিসির ইমোজেন ফুকস বলছেন, শুধু তাই নয়, এতে আরো স্পষ্ট হচ্ছে যে এই সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনতে অং সান সু চির ব্যর্থতাতেও তারা হতাশ।

এ বছরের আগস্ট মাস থেকে এ পর্যন্ত ৬ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম মিয়ানমার ছেড়ে পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের মুখ থেকে শোনা গেছে গণহত্যা, ধর্ষণ, গ্রামে গ্রামে অগ্নিসংযোগের বর্ণনা।

জেইদ রাদ আল হুসেইন বলছেন, তাদের মুখে এসব ঘটনার বিবরণে এতটাই মিল যে জাতিসংঘ এখন মনে করছে, সেখানে যে গণহত্যা চলেছে সে আশঙ্কা আর উড়িয়ে দেয়া চলে না।
"আমরা যদি রোহিঙ্গাদের স্বতন্ত্র নৃতাত্বিক, ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক সত্ত্বার কথা ভাবি, এবং যারা সহিংসতা ঘটাচ্ছে তাদের আলাদা সত্ত্বার কথা মনে রাখি, তাহলে গণহত্যা যে ঘটে থাকতে পারে তা উড়িয়ে দেয়া চলে না ভিন্ন ভিন্ন জায়গা থেকে আসা রোহিঙ্গাদের মুখে একই রকম হত্যা-ধর্ষণ-অগ্নিসংযোগের মতো ভয়াবহ বর্বরতার খবর পাওয়া যাচ্ছে।"

আল হুসেইনি আরো বলছেন - মানবাধিকার পরিস্থিতির অব্যাহত নজরদারি এবং শরণার্থীদের নিরাপদে ও মর্যাদা নিয়ে বসবাসের পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তাদের কাউকে দেশে ফেরত পাঠানো উচিত হবে না - এটা দ্ব্যর্থহীনভাবে স্পষ্ট হতে হবে।

অবশ্য জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে মিয়ানমারের প্রতিনিধি বলেছেন, এই সহিংসতা মিয়ানমারর সরকারের নীতি নয়, বরং চরমপন্থীরা এসব ঘটাচ্ছে এবং তাদের ঠেকাতে সরকার সবকিছুই করছে।

তিনি যাই বলুন, আল হুসেইনি বলেন, বৈষম্য ও সহিংসতা অব্যাহত থাকলে রোহিঙ্গাদের নিশ্চিতভাবেই আরো দুর্ভোগের শিকার হতে হবে।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫