বৃষ্টি কি একটি হুইল চেয়ার পাবে?

মো: আব্দুল আউয়াল, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ)

গ্রামের রাস্তায় হাটছি ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন এলাকা। হাল্কা বাতাস বইছে। রাস্তায় গরম কাপড়ে মোড়ানো দেহের অনেক মানুষের সাথে দেখা হলো। এরই মধ্যে হঠাৎ চমকে গেলাম। ১০ বছরের এক শিশুকে কোলে নিয়ে রাস্তা পাড় হচ্ছিলেন এক নারী। পরে জানা গেলো তিনি শিশুটির মা। নিজের পড়নে সেলোয়ার কামিজ আর শিশুটিকে নিজের গায়ের ওড়নায় মোড়িয়ে জড়িয়ে রেখেছেন বুকের সাথে।

কাছে গিয়ে নাম জিজ্ঞেস করতেই অগোছালোভাবে বলতে লাগলেন মা লিজা আক্তার, কোলের শিশুটি শারীরিক ও বাক প্রতিবন্ধী। চেয়ার ছাড়া বসতে পারে না। কথা বলা তো দূরের কথা ইশারাও করতে পারে না। অনেক সময় হাসে, অনেক সময় কাঁদে। স্বামী খোকন মিয়া ঈশ্বরগঞ্জ পৌর সদরের একটি হোটেলে দিনমজুরের কাজ করেন।

প্রায় ১২ বছর আগে তাদের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছে। স্বামীর বাড়ি নান্দাইল উপজেলার মনাপাশা গ্রামে। তবে বিয়ের পর দুই বছর থাকতে পেরেছিলেন স্বামীর বাড়িতে। প্রতিবন্ধি শিশুটি জন্ম নেওয়ার পর থেকে বাবার বাড়িতেই থাকেন তিনি। বাবার বাড়ি গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের ধুরুয়া আগপাড়া গ্রামে। বাবার নাম সুরুজ আলী।

গত একমাস আগে ঈশ্বরগঞ্জে একটি হোটেলে দিনমুজুরের চাকুরি পান স্বামী খোকন মিয়া। তার সুবাদে ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসদরের চরহোসেনপুর জয়বাংলা মোড় এলাকায় মস্তুফা নামক এক বাড়িওয়ালার বাসায় মাসিক এক হাজার টাকা ভাড়ায় থাকেন।

স্বামী হোটেলে কাজ করে দিন ২শ’ টাকা মজুরি পান। কোনো কোনো সময় ওই টাকাও সময় মতো পান না। খুবই কষ্টে দিন কাটছে তাদের। কয়েকদিন ধরে শীতপড়ায় রাতে বাসায় ঘুমাতে পারেন না। নিজের তো নেই প্রতিবন্ধি শিশুটিরও গরম কাপড় নেই। তাই আশপাশের কয়েকটি বাড়িতে পুরান কাপড়ের জন্যে গিয়েছিলেন।

কথাগুলো এতক্ষণ খুবই মনোযোগ দিয়ে শুনছিলাম। পরে আর ঠিক থাকতে পারলাম না। তাকে ডেকে নিয়ে গেলাম নিজ বাসায়। পুরাতন একটি ছোট কম্বল হাতে ধরিয়ে দিতেই কাঁদলেন মা, সাথে কাঁদালেন আমকেও।

মা লিজা আক্তার বলতে লাগলেন, অনেক লোকজনের কাছে ঘুরেছেন মেয়েটিকে একটি প্রতিবন্ধী কার্ড করে দেওয়ার জন্যে। কেউ সাড়া দেয়নি। বাবাও একটু সোজা মানুষ।

প্রতিবন্ধি শিশু জন্ম দেওয়ায় আশ্রয় মেলেনি স্বামীর বাড়িতে। স্বামীর পরিবারের লোকজন স্বামীকে তার কাছ থেকে কেড়ে নিতে চেয়েছে কিন্তু স্বামী তাকে প্রচন্ড ভালোবাসেন। তাই বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছে।

প্রতিবন্ধি শিশু বৃষ্টি চেয়ার ছাড়া বসতে পারে না। কোলে কিংবা বিছানায় শুয়ে রাখতে হয়। একটি হুইল চেয়ার পেলে মেয়েটির বড়ই উপকার হতো। বৃষ্টি কি হুইল চেয়ার পাবে?

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.