ঢাকা, রবিবার,১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

সাতরঙ

বেণীতে সাজাই চুল : রঙের ঝলক

ফাহমিদা জাবীন

০৫ ডিসেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

দুই বেণী দুলিয়ে কিশোরীর স্কুলে যাওয়া বা লম্বা বেণী এলিয়ে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর কেশচর্চা, উৎসবে বেণীতে বেলির মালা বা গোলাপ গুঁজে দিয়ে চুলের সাজ এখন বদলে গেলেও সাজসজ্জায় বেণী কিন্তু রয়েই গেছে। চুলের সাজে নতুন রূপে, নতুন বৈচিত্র্য নিয়ে বেণী এখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। বহু পুরনো বেণীর আধুনিক সাজ নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বিন্দিয়া বিউটি পার্লারের রূপ বিশেষজ্ঞ শারমিন কচি।
চুলের সাজে বেণী এখন বেশ জনপ্রিয়। সালোয়ার, কামিজ, ফতুয়া, ওয়েস্টার্ন ড্রেস এমনকি শাড়ির সাথেও এখন চুলের সাজে মেয়েরা বেণী স্টাইল হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। বেণীতে যেহেতু অনেক বৈচিত্র্য রয়েছে তাই পোশাকের সাথে মিলিয়ে সহজেই বেণীর স্টাইল বেছে নেয়া যায়। আমাদের দেশে হেয়ারস্টাইলে যেসব বেণী রয়েছে তার মধ্যে রয়েছে লুজ বেণী, বেণী শ্রীমতী, ত্রিবেণী, বেণী চূড়া ইত্যাদি। ওয়েস্টার্ন স্টাইলেও অনেক ধরনের বেণী করা হয়। ফ্রেঞ্চ বেণী, ডাচ, রোপ, ফিশটেল, ডুয়েল টেক্সচার, ওয়াটারফল, ডাবল বান, টুইস্ট এ রকম ভিন্ন নামে ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনে বেণী করা যায়। এসব বেণী সালোয়ার কামিজ, গাউন এমনকি টপসের সাথেও মানিয়ে যায়। শাড়ির সাথে অবশ্য বেণীকে একটু আলাদাভাবে উপস্থাপন করা হয়। সে ক্ষেত্রে বানের সাথে নানাভাবে বেণী করা হয়। কখনো বেণীটা দিয়েই বান করা হয়। বিভিন্ন ধরনের বেণী বান রয়েছে। উৎসবের সাজ হলে এর সাথে বিভিন্ন ধরনের ক্লিপ, কাঁটা, ফুল এমনকি চুলের বিভিন্ন অলঙ্কারও জুড়ে দেয়া হয়। তখন বেণীটাও হয়ে ওঠে আকর্ষণীয় হেয়ারসটাইল।
ইয়ং মেয়েরা ফ্রেঞ্চ বেণীই বেশি পছন্দ করেন। এতে চুল প্রথমে বেণীর মতো তিন ভাগ করে শুরু করা হয় একবারে ওপর থেকে। এরপর দুই পাশ থেকে অল্প অল্প চুল নিয়ে বেণীটা শেষে করা হয়। এতে চুল ওপর থেকেই বেণীর ভাঁজের মতো দেখায়। ইচ্ছে হলে বেণী করার পর সামান্য টেনে দেয়া যায়। তখন এটা হয়ে যাবে লুজ বেণী। লম্বা চুলে এ ধরনের বেণী মানায় ভালো। এতে ছোট ছোট মুক্তা বা স্টোনের কাঁটা বসিয়ে নিলেই উৎসবের সাজ পূর্ণ হয়ে ওঠে।
বেণী বান-১ : পুরো চুল বেক কম্ব করে পেছনে নিয়ে উঁচু করে একটি খোঁপা করুন। এরপর ফলস চুলে বেণী করে পুরো মাথা পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে খোঁপার সাথে মিলিয়ে দিন। শাড়ি কিংবা গাউনের সাথে খোঁপা মানিয়ে যায় চমৎকারভাবে।
ত্রিবেণী : প্রথমে পুরো চুল তিন ভাগে ভাগ করতে হবে। এরপর সামনের অংশে ওপর থেকে খেজুর বেণী করে নিচ পর্যন্ত আনতে হবে। একইভাবে কানের দুই পাশ থেকে খেজুর বেণী করে মাথার পেছনে নিয়ে আসতে হবে। এরপর তিনটি বেণী এক সাথে করে পুনরায় একটি বেণী বাঁধতে হবে। এ বেণী সালোয়ার কামিজ, টপস ও স্কার্টের সাথে মানানসই।
বেণী বান-২ : সামনের চুলগুলোকে বেক কম্ব করে এক পাশে আটকে নিন। এরপর পুরো চুল নিয়ে পেছনে বানের মতো খোপা করুন। ফলস চুলে একটি বেণী করে বানের চার দিক পেঁচিয়ে দিন। এ বেণীবান শাড়ির সাথে মানিয়ে যায়।
বেণী খোঁপা : সামনের চুল এক পাশ করে টুইস্ট বেণী করে পুরো চুল পেছনে নিয়ে ফলস চুল লাগিয়ে লম্বা বেণী করে নিতে হবে। এরপর লম্বা বেণী দিয়েই পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে খোঁপার মতো করে আটকে দিতে হবে।
বেণী শ্রীমতী : ঠাকুরবাড়ির খুব জনপ্রিয় এই হেয়ার স্টাইল বেণী শ্রীমতী নামে পরিচিত। মাঝখানে সিঁথি করে দুই পাশ ফুলিয়ে দু’টি খেজুর বেণী করতে হবে। এরপর পুরো বেণী মাথার পেছনে ঘুরিয়ে কাঁটার সাহায্যে আটকে দিতে হবে।
লুজ বেণী : সামনে টুইস্ট করে পেছনে ঢিলাঢালা বেণীকেই লুজ বেণী বলা হয়।
বেণী বান-৩ : শাড়ির সাথে সাধারণত কপালের ওপর থেকেই অল্প চুল নিয়ে বেণী করে করে নিচে এসে বান করা হয়। এটা নরমাল বান হতে পারে, আবার বেণী দিয়েও বান হতে পারে। এ ছাড়া বানের সাথে নানাভাবে বেণী ব্যবহার করে করা হয় বেণীবান। পার্টি হলে সাথে অ্যাক্সেসরিজ দেয়া হয়।
বেণীর ইতিহাস বহু পুরনো। জানা যায়, খ্রিষ্টপূর্ব দুই হাজার সালেও বেণী ছিল। বেণী যে শুধু চুলের সাজ হিসেবে করা হয় তা নয়; বরং বেণী চুলকে ধুলাবালি থেকে রক্ষা করে এবং চুলের অনেক সমস্যাকে আড়াল করতেও সাহায্য করে। তাই হয়তো বেণীর হেয়ারস্টাইল আজো জনপ্রিয়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫