ঢাকা, মঙ্গলবার,১২ ডিসেম্বর ২০১৭

নিত্যদিন

কিশোর মুসা রবিনের অভিযান

রকিব হাসান

০৫ ডিসেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

তেইশ.
‘কী, সুন্দর না?’ কিটু জিজ্ঞেস করল।
‘হ্যাঁ, সুন্দর।’ কিটুর চটে যাওয়ার ভয়ে বললাম।
‘এটা আমার, পুরোটাই আমার। আমার যা ইচ্ছে, তা-ই আমি করতে পারি এখানে। খেলা করতে পারি। কেউ আমাকে বিরক্ত করে না। মা কিংবা বাবাও না।’
‘এখানে তুমি কী খেলা করো?’ জিজ্ঞেস করলাম।
‘পুতুল খেলা।’
মেয়েরাই সাধারণত পুতুল নিয়ে খেলে। তাই কিটুর জবাবটা অবাক করল আমাকে।
অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে রইলাম। কোনো পুতুল চোখে পড়ল না। ‘পুতুল তো নেই। কী নিয়ে পুতুল খেলো, কিটু?’
‘স্টাফ করা জানোয়ারগুলোকে নিয়ে। ওগুলো তো পুতুলই, তাই না?’
‘হ্যাঁ,’ আস্তে মাথা ঝাঁকালাম। স্টাফ করা জানোয়ারের প্রতি কিটুর এত আগ্রহ অস্বস্তি জাগাচ্ছে আমার।
‘এসো, আমার খেলনাগুলো দেখাই,’ কিটু বলল।
‘নিশ্চয়ই। দেখাও।’
‘পেছনের ওই আলমারিটার ভেতর রেখেছি।’
মাকড়সার জালে ভরা ভুতুড়ে চিলেকোঠাটার অন্য প্রান্তে নিয়ে চলল আমাকে কিটু।
মেঝেতে এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে অসংখ্য বৈদ্যুতিক তার। একপাশে কয়েকটা মস্ত কাচের জার রাখা আছে। হলুদ রঙের রাসায়নিক তরলে ভর্তি। মস্ত একটা শুঁয়োপোকাকে কিলবিল করে এগোতে দেখলাম। নিশ্চয় বাইরের গাছ থেকে এসে ঘরে ঢুকেছে। এগুলোকে খুব ভয় পাই আমি। দেখলেই গা শিরশির করে, কিন্তু আঙুলে আলতো করে টিপে ধরে তুলে নিয়ে গিয়ে পোকাটাকে জানালার বাইরে ফেলে দিয়ে এলো কিটু। অস্বাভাবিক এক ছেলে। ভয়ডর বলে কিছু নেই।
(চলবে)

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫