ঢাকা, শুক্রবার,১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

আমার ঢাকা

রাজধানীতে ফুলের বাজার

শওকত আলী রতন

০৫ ডিসেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট

বর্তমানে আমাদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চাষ করা হয়। সারা দেশে ফুলের চাহিদা থাকায় দিন দিন ফুল চাষ সম্প্রসারণ হচ্ছে। সেই সাথে এ কাজে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। ফলে উন্নত বাজার ব্যবস্থা ফুল চাষকে আরো সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কৃষকপর্যায়ে উৎপাদিত ফুলের পাইকারি বাজারের জন্য দিন দিন জনপ্রিয় উঠছে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পাসপোর্ট অফিসের উল্টো দিকে গড়ে ওঠা বাজারটি। বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন প্রজাতির ফুল বিক্রির জন্য এই বাজারে নিয়ে আসেন ফুল চাষিরা। ভালো দাম পাওয়ার উদ্দেশ্যে দূরদূরান্ত থেকে বাহারি ফুল নিয়ে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ভিড় জমাচ্ছেন তারা। দেশের সবচেয়ে বড় ফুলের বাজারে পরিণত হচ্ছে এই বাজারটি। এই বাজারটিতে গেলে চোখে পড়বে রঙ-বেরঙের বাহারি ফুলের বিপুল সমাহার। রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় প্রতিদিন যে ফুলের চাহিদা রয়েছে সেসব ফুলের জোগাড় দিচ্ছে আগারগাঁওয়ের ফুল বাজারের মাধ্যমে।
ব্যবসায়ীরা জানান, আগারগাঁওয়ের ফুলের বাজারের ফুল মূলত ঢাকার সাভার, মানিকঞ্জ, যশোর, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার উৎপাদিত ফুল নিয়মিত এই বাজারে বেচাকেনা হয়ে থাকে। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা ফুল বিক্রি হয়ে থাকে এখানে। এক সময়ে দেশের দেশের বৃহত্তম ফুলের বাজার যশোরের গদখালি হলেও ফুলচাষিদের সবিধা ভালো দাম পাওয়ার জন্য এখানে বাজার বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সেই আলোকে বাজারটি ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীদের জন্য সুফল বয়ে আনছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। পচা বা বাঁশি ফুল নয়, বরং টাটকা সুগন্ধয্ক্তু ফুল বাজারটিকে সুভাষিত করছে। চার পাশে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে কাঁচা ফুলের ঘ্রাণ।
প্রতিদিন ভোর ৩টার পর ফুল বিক্রির জন্য আগারগাঁওয়ের এ বাজারে আসতে শুরু করে। আর ব্যবসায়ীরা আগে থেকে সমবেত হতে থাকেন ফুল কেনার জন্য। ঢাকা ও আশপাশের ব্যবসায়ীরা ফুল কেনার জন্য জমায়েত হয়ে থাকেন। বছরের অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় শীত মওসুমে সব ধরনের ফুল পাওয়া যায় বলে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের আনাগোনায় সরগরম থাকে আগারগাঁওয়ের ফুলের বাজার। শীত মওসুমের নানা রঙের ফুল বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে খুচরা বাজারে ফুলের চাহিদা কথা থাকায় এ ব্যবসায় মন্দভাব চলছে। বিজয় দিবসকে সামনে রেখে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে জমে উঠবে ফুলের বাজার। আবার অনেকে ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, সারা দেশে স্কুল-কলেজে পরীক্ষা চলছে এ কারণে ফুল বিক্রি কম হচ্ছে। এ বছর গোলাপ, রজনীগন্ধা, দোলনচাঁপা, গাঁদা, জারবেরা, গ্লাডিওলাস, জিপসি, ক্যারন এ ছাড়া অন্যান্য প্রজাতির ফুল চাষ কমবেশি আনা হয় বিক্রির জন্য। তবে যেসব ফুল অধিক লাভজন কৃষকরা সেই ফুলের দিকে আগ্রহ বাড়ছে। অন্য যেকোনো ফুলের চেয়ে গোলাপ সারা বছর চাষ হওয়ায় এ ফুল দিয়েই চলে নানা উৎসব আয়োজন। তবে উৎসব ভেদে একেক সময় একের রকমের ফুলের চাহিদা রয়েছে বলে জানা যায়। কৃত্রিম ফুল চাষকৃত ফুলের জায়গা দখল করায় প্রভাব পড়ছে দেশীয় ফুলের বাজারে এমন অভিযোগ অনেকের। যশোর জেলার ঝিকরগাছার উপজেলার ফুলচাষি জিরাকন আলী লাভা। তিনি ৩ বিঘা জমিতে জারবেরা ফুলের চাষ করেছেন। উৎপাদিত ফুল বিক্রির জন্য ঢাকার আগারগাঁওয়ের ফুলের বাজারে নিয়ে আসেন। তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর ফুলের চাহিদা না থাকায় সঠিক দাম পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা জানান, এই ফুলের বাজারে মাথার ওপর কোনো ছাউনি না থাকায় রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে খোলা আকাশের নিচে ও রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ফুল বিক্রি করতে হয়। সরকারি উদ্যোগে একটি আধাপাকা সেট নির্মাণ করে দিলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যেত।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫