ঢাকা, শনিবার,১৬ ডিসেম্বর ২০১৭

খুলনা

সুন্দরবনে তিন দিনে ৩৮ জেলে অপহৃত

শেখ মোহাম্মদ আলী, শরণখোলা (বাগেরহাট) থেকে

০৪ ডিসেম্বর ২০১৭,সোমবার, ২০:০০ | আপডেট: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৩:৫১


প্রিন্ট
সুন্দরবনে তিন দিনে ৩৮ জেলে অপহৃত

সুন্দরবনে তিন দিনে ৩৮ জেলে অপহৃত

পূর্ব সুন্দরবনে সোমবার সকালে আবারও চাঁদপাই রেঞ্জের লাঠিমারা এলাকা থেকে বনদস্যু সুমন বাহিনী ৫ জেলেকে অপহরণ করেছে। এ নিয়ে গত তিন দিনে শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ৩৮ জন জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যু সুমন ও ছোট্ট বাহিনী। অপহৃতদের একেক জনের মুক্তিপণ হিসেবে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করছে দস্যুরা। মুক্তিপণ না পেলে তাদেরকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। অপহৃত জেলেদের অমানুষিক নির্যাতন করা হচ্ছে বলেও ফিরে আসা জেলে ও মহাজনেরা জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফিরে আসা জেলেদের বরাত দিয়ে সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শরণখোলার কয়েকজন মৎস্য ব্যবসায়ী জানান, বনদস্যু সুমন ও ছোট্ট বাহিনী গত ৩০ নভেম্বর ভোরে শরণখোলা রেঞ্জের ছাপড়াখালী ও চাঁদপাই রেঞ্জের হরমল খাল, চড়াপুটিয়া ও কলামুলা এলাকা থেকে ২০ জেলেকে অপহরণ করে। এছাড়া গত ২ ডিসেম্বর সকালে চাঁদপাই রেঞ্জের কলামুলা নামক স্থান থেকে ১৩ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বনদস্যু সুমন বাহিনী। একেক জেলের মুক্তিপণ হিসেবে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্য দাবি করছে ওই বনদস্যু বাহিনী। অপহৃত জেলেদের বাড়ি শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ, পাথরঘাটা ও মোংলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বলে মহাজনেরা জানান।

দস্যুদের কাছে জিম্মি থাকা শরণখোলা উপজেলা উত্তর রাজাপুর গ্রামের মানিক হাওলাদারের বাবা হেমায়েত হাওলাদার ও ছগির খানের বাবা আ. হামিদ খান জানিয়েছেন, বনদস্যু সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন ৩ ডিসেম্বর দুপুরে ০১৭৮১৯২৯৭০০ নম্বর থেকে কল করে দুজনের মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবি করেছে। মানিক ও ছগিরের ওপর তারা অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে। তাদের হাত পায়ের নখ তুলে দিয়েছে দস্যুরা। তাদের ছেলেদের মুখ থেকেও মুঠোফোনে নির্যাতনের বর্ণনা শুনিয়েছে দস্যুরা। এ অবস্থায় দরিদ্র ওই জেলেদের পরিবার চরম উৎকন্ঠায় রয়েছে।

অপহৃতদের মধ্যে থেকে গত রোববার বিকেলে উপজেলা উত্তর রাজাপুর গ্রামের সরোয়ার এবং মোরেলগঞ্জ উপজেলার জিউধরা এলাকার একজনসহ (নাম জানা যায়নি) দুই জেলে ৭০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসেন।

মোংলা কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন অফিসার লেফটেন্যান্ট আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে অবস্থিত তাদের ৬টি স্টেশনের কোস্টগার্ড সদস্যদের খোঁজখবর নেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বনে টহল জোরদার করা হয়েছে। দস্যুদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করে ব্যাপক অভিযান চালানো হবে।

বরিশাল র‌্যাব-৮ এর মেজর সোহেল জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে সুন্দরবেন জেলে অপহরণের খবর শোনা যাচ্ছে। এব্যাপারে র‌্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতা চলছে। বিষয়টি নিশ্চিত হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫