ঢাকা, সোমবার,১৮ ডিসেম্বর ২০১৭

রংপুর

রংপুর সিটি নির্বাচনে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু

সরকার মাজহারুল মান্নান, রংপুর অফিস

০৪ ডিসেম্বর ২০১৭,সোমবার, ২০:০০ | আপডেট: ০৪ ডিসেম্বর ২০১৭,সোমবার, ২০:০৯


প্রিন্ট

প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীদের সমর্থকদের আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে শুরু হলো রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের উৎসব। মেয়র পদে লাঙ্গল, নৌকা, ধানের শীষ, হাতি, আম ও মই প্রতীকের লড়াই হবে এই নির্বাচনে। তবে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী লাঙ্গল ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রতীক বরাদ্দের আগেই আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগ উঠেছে।

প্রতীক পাওয়ার পর জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীরা বলছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে তাদের বিজয় সুনিশ্চিত। অন্যদিকে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হওয়ার আশংকা প্রকাশ করে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী।

আজ সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিস থেকে চূড়ান্ত তালিকার ৬৫ জন সংরক্ষিত ও ২১১ জন সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়।

বিকেল ৪টায় শুরু হয় মেয়র পদের জন্য প্রতীক বরাদ্দ।

এর আগে মিছিল নিয়ে নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে আসেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টু। পরে ঢোকেন অন্য প্রার্থীরা। এসময় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সমর্থকরা শ্লোগান ও হাততালি দেয়া শুরু করলে রিটার্নিং কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার আচরণবিধি মেনে চলার জন্য মাইকে বারবার আহবান জানান।

এক পর্যায়ে সেখানে উপস্থিত হন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু রাফা মোহাম্মদ আরিফ। সাথে আসে পুলিশের একটি ভ্যান। তবুও শ্লোগান চলতে থাকে। পরে ওই মাইকেই কথা বলেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টু। তিনি সমর্থকদের নির্দেশ দিলে নৌকার পক্ষে শ্লোগান বন্ধ হয়ে যায়।

একটু পরে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার প্রতিনিধি নিচে নেমে এসে সমর্থকদের থামিয়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এরপর বেলা সাড়ে চারটায় প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে বের হয়ে আসতে থাকেন প্রার্থীরা।

রিটার্নিং কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার জানান, এই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি মনোনিত মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে লাঙ্গল, আওয়ামী লীগ মনোনিত সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টুকে নৌকা, বিএনপি মনোনিত কাওছার জামান বাবলাকে ধানের শীষ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনিত এটিএম গোলাম মোস্তফাকে হাতপাখা, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি মনোনিত সেলিম আখতারকে আম, বাসদ মনোনিত আব্দুল কুদ্দুসকে মই এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফকে হাতি প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

প্রতিক বরাদ্দ পাওয়ার পর লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, লাঙ্গল প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ায় আমি আল্লাহ তায়ালার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তিনি নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টু বলেন, বিগত দিনের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বিপুল ভোটের ব্যবধানে আমি জয়ি হবো। ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে।

এদিকে বিএনপির প্রার্থী কাওছার জামান বাবলা অভিযোগ করেন, প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার আগেই দুটি প্রধান দলের প্রার্থী যেভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘন করলেন তাতে আমরা শংকিত এই নির্বাচন নিয়ে। এভাবে চলতে থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না। এছাড়াও ২০১২ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত যত নির্বাচন হয়েছে, সবই কিভাবে করা হয়েছে দেশের মানুষ তা জানেন। এ কারণে এই শংকাটা আমার কাছে বেশি। আমি নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ভোটাররা ভোট দিতে পারলে ধানের শীষের পক্ষে ব্যালট বিপ্লব হবে। বিপুল ভোটে আমি নির্বাচিত হবো।

জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী প্রার্থী দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ বলেন, আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী। আমাকে কেন এখনও দল থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে না বিষয়টি আমার বোধগম্য নয়।

তিনি বলেন, আমি বিএনপি প্রার্থীর মতো সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানাচ্ছি না। তবে তাদের আশংকার সাথে আংশিকভাবে একমত পোষণ করি।

এদিকে প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার পর দুপুর ২টা থেকেই নগরীতে মাইকিং শুরু করেন প্রার্থীরা। শুরু হয় পোস্টার টানানো ও লিফলেট বিতরণ।

আগামী ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে এই ভোট। ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর রংপুর সিটি করপোরেশনে প্রথম নির্বাচন হয়েছিল।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫