ঢাকা, শনিবার,১৬ ডিসেম্বর ২০১৭

ঢাকা

প্রেমের টানে ঘর ছাড়ল ১১ কিশোরী!

শামীম সুমন, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)

০৪ ডিসেম্বর ২০১৭,সোমবার, ১৯:০৯


প্রিন্ট
প্রেমের টানে ঘর ছাড়ল ১১ কিশোরী!

প্রেমের টানে ঘর ছাড়ল ১১ কিশোরী!

ভালোবাসা নাকি মানে না কোনো বয়স, মানে না কোনো নিয়ম! প্রেম করে প্রেমিককে জীবন সঙ্গী করে জীবনের নতুন স্বপ্ন দেখা এবং ঘর সাজানোর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতেই ১১ কিশোরী ছেড়েছেন ঘর। 

ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলাতে গত নভেম্বর মাস থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ঘটে এমন ঘটনা।

গত এক মাসে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় পড়ুয়া ১১ কিশোরী প্রেমিকের হাত ধরে ঘর ছেড়েছেন। এদের মধ্যে বাল্যবিবাহ হয়েছে ছয় জনের। পরিবারের অভিযোগে চার কিশোরীকে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে মির্জাপুর থানা পুলিশ। এর মধ্যে পরিবারকে না জানিয়ে গোপনে প্রেমিককে বিয়ে করেন পরে তার পরিবার বিয়ে মেনে না নেয়ায় ঐ কিশোরী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে।

মির্জাপুর থানা সূত্র ও এলাকা ঘুরে জানা যায়, গত ১ নভেম্বর বাঁশতৈল ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের আবুল কাশেমের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে উর্মী আক্তার নিখোঁজ হয়। আজগানা ইউনিয়নের আজগানা গ্রামের হেলাল উদ্দিনের বাড়িতে তার সন্ধান মেলে।

নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে রবিনের সঙ্গে ঊর্মির বিয়ে হওয়ার বিষয়টি জানালে প্রেমিক রবিনের পরিবার তা মেনে নেয়নি। পরে সে বিয়ের স্বীকৃতির দাবিতে ওই বাড়িতে ওঠে বলে গ্রামবাসী জানিয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির ওই কিশোরীর সিদ্ধান্তের পরিবর্তন করাতে ব্যর্থ হলে সে এখনো ওই বাড়িতে রয়েছে বলে জানা যায়।

একই ইউনিয়নের তেলিনা গ্রামের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সিমি অসম প্রেমের টানে এক সন্তানের জনক একই গ্রামের শাহিন আলমের সঙ্গে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারে পক্ষ থেকে মামলা করলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।

অপরদিকে, উয়ার্শী ইউনিয়নের বরটিয়া দাখিল মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী তার সহপাঠীর সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করেছে। তাদের সন্ধান পাওয়ার পর উভয় পরিবার তাদের বিয়ে মেনে নিয়েছে।

মির্জাপুর পৌর এলাকার বাইমহাটী গ্রামের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় দয়ালের মেয়ে এক মুসলিম যুবকের সঙ্গে পালিয়ে যায়। পরে পরিবার মামলা করলে পুলিশ ওই মেয়েকে উদ্ধার করে। এর কয়েক দিন মধ্যে বাইমহাটি বাসা ভাড়া করে থাকা দিলরুবা নামের স্কুল পড়ুয়া ছাত্রী প্রেমের টানে পালিয়ে প্রেমিককে পালিয়ে বিয়ে করে।

দিলরুবার পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ে মেনে না নেয়ায় ওই ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। দুল্যা মনসুর গ্রামের হাবেলের কিশোরী মেয়ে শ্যামলী আক্তার প্রেমের টানে পোস্টকামুরী গ্রামের জলিল ড্রাইভারের ছেলে হাসানের হাত ধরে পালিয়ে গেছে। তার সন্ধান পাওয়ার পর জানা যায় তারা ২১ এপ্রিল নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ে করেছে। পালিয়ে যাওয়ার পর গত ২৭ নভেম্বর সদরের একটি ক্লিনিকে শ্যামলী কন্যা সন্তান প্রসব করে।

এছাড়া দুল্যা বেগম গ্রামের লাল মিয়ার নাতনি প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে গেছে। পৌর এলাকার গাড়াইল গ্রামের পাটনী পাড়ার স্বপনের স্কুল পড়ুয়া মেয়ে বিয়ের আগের দিন প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে গেলে বর পক্ষের চাপের মুখে তার ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে দেয়। বহুরিয়া গ্রামের মোবারক খানের কিশোরী মেয়ে জুই তার প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে যায়।

মির্জাপুর থানায় অভিযোগের পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
সর্বশেষ গত ১৯ নভেম্বর গোড়াইল গ্রামের শহীদ সিদ্দিকীর দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে সাদিয়া নিখোঁজ হয়। সাদিয়ার বাবা মির্জাপুর থানায় একটি অপহরণ মামলা করার পর পুলিশ সাদিয়াকে উদ্ধার করে আদালতের মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত সাদমীন বলেন, খবর পাওয়া মাত্রই বাল্যবিয়ে বন্ধে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

মির্জাপুর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) একেএম মিজানুল হক বলেন, এসবের মধ্যে চারজনকে আমারা উদ্ধার করেছি। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা সকলের জন্য জরুরি।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫