কিশোর মুসা রবিনের অভিযান

রকিব হাসান

বাইশ.

‘কোথায় যাচ্ছি আমরা?’ কণ্ঠস্বর শান্ত রাখার চেষ্টা করলাম।
‘চিলেকোঠায়।’
চিলেকোঠা খারাপ জায়গা নয়, বরং অনেক ছেলেমেয়েই চিলেকোঠায় বসে খেলতে পছন্দ করে। ছোটবেলায় আমারও ভালো লাগত।
‘এই যে, চলে এসেছি,’ গর্বিত কণ্ঠে বলল কিটু। ‘এটাই আমার খেলার ঘর।’
চিলেকোঠাটা অনেক বড়। অন্ধকার। মোমের আলোয় ভুতুড়ে সব ছায়া পড়ছে। ছাদ থেকে ঝুলে রয়েছে বড় বড় মাকড়সার জাল। মেঝের তক্তা এত পুরনো, আর এত বেশি মচমচ করছে, আমার ভয় হলো, পায়ের চাপ সইতে না পেরে ভেঙে না পড়ে যায়।
ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। কড়াত কড়াত করে বাজ পড়ছে। ঘরের একটাই মাত্র জানালা, ছোট। বাইরে থেকে বিদ্যুতের আলো সেই জানালা দিয়ে ঢুকে ঘর আলোকিত করছে। ক্ষণিকের জন্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে ঘরের সব কিছু।
লম্বা লম্বা টেবিল দেখলাম। টেস্টটিউব আর নানারকম অদ্ভুত যন্ত্রপাতিতে ভর্তি। বড় বড় কাচের জার রয়েছে, তাতে রাসায়নিক পদার্থ। বড় একটা খাঁচাও দেখলাম। বেজমেন্টের ভুতুড়ে স্টোররুমে যেটা দেখে এসেছি, সেটার মতো। একই রকম ধাতব শিক আর তার দিয়ে বানানো।
আমার কল্পনার সুন্দর খেলাঘরের মতো মোটেও লাগল না এই ঘরটা। খেলার ঘর না বলে এটাকে বরং বৈজ্ঞানিক গবেষণাগার বললেই বেশি মানাবে। ইংরেজি হরর সিনেমাগুলোতে যেমন দেখা যায়। যেগুলোতে নানারকম বীভৎস কাণ্ড ঘটানো হয়। ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইনের মতো ভয়ঙ্কর প্রাণীর জন্ম দেয়া হয়।
(চলবে)

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.