সুন্দরবনে মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছে ২ জেলে

শেখ মোহাম্মদ আলী, শরণখোলা (বাগেরহাট) 

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে মুক্তি পনের দাবিতে অপহৃত ২ জেলে রোববার সকালে মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছে। রোববার ভোর রাতেও বনের হরমাল ও চরাপেটুয়া এলাকা থেকে ৬/৭ জন জেলেকে দস্যুরা ধরে নিয়ে গেছে। দস্যুদের হাতে আটক থাকা জেলেদের মধ্যে দু'জনের মুক্তিপণ বাবদ দস্যুরা ১০ লাখ টাকা দাবি করেছে। এ ঘটনায় বনসংলগ্ন এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেদের মধ্যে নতুন করে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।

বন বিভাগ ও জেলেদের মহাজন সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাতে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন ছাপড়াখালী এবং চাঁদপাই রেঞ্জের কলামূলা এলাকায় অবস্থানরত জেলেদের বহরে বনদস্যু সুমন বাহিনী ও ছোট্ট বাহিনীর পরিচয়ে স্বশস্ত্র দস্যুরা পৃথক পৃথক ভাবে জেলেদের উপর হামলা করে শরণখোলা উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা জেলে সরোয়ার আকন (৩০), ছগির খান (৩৪), ও মানিক হাওলাদারসহ (৩২) ২০ জন জেলেকে জন প্রতি ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে। ঘটনার দু’দিন পরে অপহৃতদের মধ্যে উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের আঃ হক আকনের পুত্র সরোয়ার দস্যুদের ৩০ হাজার টাকা ও মোরেলগঞ্জের গুলিশাখালী গ্রামের এক জেলে ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে রোববার সকালে ফিরে এসেছেন বলে উত্তর রাজাপুর এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী ও ইউপি সদস্য জাকির হোসেন জানিয়েছেন। দস্যুরা ওই জেলেদের বেদম মারধর করে আহত করেছে। রোববার ভোর রাতেও বনের হরমাল ও চরাপেটুয়া এলাকা থেকে শরণখোলার দক্ষিণ রাজাপুর মাঝেরচর গ্রামের নাছির তালুকদারসহ ৬/৭ জন জেলেকে দস্যুরা ধরে নিয়ে গেছে বলে ফিরে আসা জেলেরা জানিয়েছে।
এদিকে দস্যুদের হাতে আটক জেলে ছগির ও মানিকের মুক্তিপণ বাবদ দস্যুরা ১০ লাখ টাকা দাবী করেছে বলে মানিকের পিতা হেমায়েত হোসেন জানিয়েছেন। রোববার দুপুরে মোবাইল ফোনে দস্যুদের সাথে তার কথা হয়েছে এবং দাবিকৃত টাকা না পেলে তাদেরকে হত্যা করা হবে এ হুমকি দস্যুরা দিয়েছে বলে তিনি জানান।
দস্যুদের হাতে বন্দি হওয়া অন্য জেলেদের বাড়ি বরগুনা ও পাথরঘাটা সহ বনসংলগ্ন উপকুলীয় এলাকার বিভিন্ন গ্রামে বলে জেলেদের সূত্রে জানা যায়।
কোষ্টগার্ড পশ্চিম জোন মোংলা অপারেশন কর্মকর্তা লেঃ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, জেলে অপহরনের বিষয়টি তাদের জানা নেই, তবে খোঁজ নিয়ে দেখছেন। এছাড়া জেলেদের নিরাপত্তার জন্য তাদের টহল ব্যবস্থা সর্বদা জোরদার রয়েছে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.