মৃত্যুর পাঁচ ঘন্টা পর লাশ পেলেন স্বজনরা

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

হাসপাতালে পড়ে আছে লাশ। স্বজনদের মধ্যে কেউ বলছেন স্ট্রোক করেছে আবার কেউ বলছেন হত্যা করা হয়েছে। লাশ নিয়ে এমন দ্বন্দ্ব তৈরি হওয়ায় পাঁচ ঘণ্টা পর লাশ পেলেন স্বজনরা। শনিবার রাতে এ ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ হাসপাতালে।

জানা যায়, উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের হারুয়া গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের দুই ছেলে আলাল উদ্দিন (৪০) ও হেলাল উদ্দিনের (৩৫) মাঝে মা জুবেদা খাতুনকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে শনিবার বিকেলে বাড়ি সালিশ বসে। সালিশে মাইজবাগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার পারভেজ তা মিটিয়ে দেন।

মাকে নিয়ে সালিশের এ বিষয়টি আলাল উদ্দিনের মনে দাগ কাটে। বিকেল ৫টার দিকে বাড়ি থেকে বাজারে যাওয়ার পথে অসুস্থ হয়ে পড়েন আলাল উদ্দিন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যু সংবাদ চারদিকে ছড়িয়ে গেলে স্বজনরা হাসপাতালে ভিড় জমান। সেখানে মৃত্যুকে ঘিরে স্বজনদের মাঝে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। বিষয়টি সমাধানে যেতে সময় লাগে ৫ঘন্টা। রাত ১১টায় স্বজনরা একমত হলে তাদের কাছে লাশ হস্তান্তর করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মৃত আলাল উদ্দিনের বড় বোন জহুরা খাতুন জনান, ‘মাকে ভরণপোষণ ও মায়ের নামে থাকা দুই কাঠা জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। সেটি চেয়ারম্যান মধ্যস্থতা করে সমাধান করে দিয়েছে। লাশ নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই।’

ছোট ভাই হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমার মায়ের নামে থাকা ২০ শতাংশ জমি আমি বর্গা চাষ করতাম। বিষয়টি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হলে চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সমাধান হয়। সন্ধ্যায় স্ট্রোক করে ভাই মারা যান।’

কর্তব্যরত চিকিৎসক এসএম সাগর জানান, ‘রোগী হাসপাতালে আনার পথেই স্ট্রোক করে মারা যান। ৫টা ৫০মিনিটে লাশটি হাসপাতালে আনা হয়। স্বজনদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হওয়ায় হাসপাতালে ৫ঘন্টা লাশ পরে থাকে। রাত ১১টায় দ্বন্দ্বের অবসান হলে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’

মাইজবাগ ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার পারভেজ জানান, বৃদ্ধ মাকে ভরনপোষণ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। বিকেলে এক সালিশ বৈঠকে সমাধান হয়। পরে রাতে আলাল উদ্দিনের মৃত্যু সংবাদ পেয়েছেন।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বদরুল আলম খান জানান, লাশটি নিয়ে স্বজনদের কোনো অভিযোগ না থাকায় তাদের কাছে লাশটি হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.