ঢাকা, শুক্রবার,১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

আগডুম বাগডুম

বন্ধু

খোন্দকার শাহিদুল হক

০২ ডিসেম্বর ২০১৭,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

রাজা জিনজির এবং রানী তাদের একমাত্র রাজকন্যাকে নিয়ে সেই সকালে বেড়াতে বেরিয়েছেন। আজ যে রাজকন্যার ছুটির দিন! রাজকন্যার ছুটির দিন হলেই রাজা-রানী তাকে নিয়ে নানা জায়গায় ঘুরতে বের হন। রাজকন্যা তাতে অনেক কিছু দেখতে পারে, জানতে পারে এবং শিখতেও পারে। আজ তারা ঘুরতে ঘুরতে এক সময় খুব সুন্দর একটা নদীঘেরা বনের কাছে গিয়ে পৌঁছল। তখন তো প্রায় বিকাল হয়ে গেছে। কী সুন্দর বন! বনের ওপর বিকেলের মিষ্টি রোদ এসে পড়েছে। বনে কত শত রঙবেরঙের বিচিত্র ধরনের ফুল ফুটে আছে! সেসব ফুল থেকে কী সুন্দর সুঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ছে। আর নানা জাতের নানা রঙের হাজারও পাখি তো আছেই সেই বনে। তাদের কলধ্বনীতে মুখর হয়ে উঠেছে বন। আহা! দেখলেই যেমন মনটা ভরে যায়, তাদের হাজারও কণ্ঠের গান শুনলেও প্রাণ জুড়িয়ে যায়। এমন বনাঞ্চল দেখে রাজকন্যা দারুণভাবে মুগ্ধ হলো।
ও মা, এ কী! এ বনে কী সুন্দর সুন্দর প্রজাপতি গো! তারা মনের সুখে এ ফুলে সে ফুলে নেচে নেচে ঘুরে বেড়াচ্ছে। খুব সুন্দর তো! অপূর্ব! প্রজাপতি দেখে রাজকন্যা তন্ময় হয়ে গেল। এত সুন্দর সুন্দর প্রজাপতি সে আর আগে কখনো দেখেনি। সে একটা প্রজাপতিকে ছুঁয়ে দেখতে গেল। আর অমনি ঐ প্রজাপতিটাও উড়ে এসে তার হাতে বসল। রাজকন্যা তাকে পেয়ে খুশিতে যেন আটখানা! সে মনের আনন্দে বলে উঠল, ‘বাহ! তুমি তো খুব সুন্দর! কী সুন্দর তোমার পাখা। এত সুন্দর করে কে গো তোমার পাখায় রঙ লাগিয়ে দিয়েছে?’
প্রজাপতিও রাজকন্যার মুখে প্রশংসা শুনে খুব খুশি হলো। রাজকন্যা খুব মিষ্টি মেয়ে। কী সুন্দর করে কথা বলে! কী সুন্দর মায়া তার চেহারায়! প্রজাপতিও যেন তাকে দেখে একেবারে মুগ্ধ হয়ে গেল! এবার প্রজাপতিটা তাকে বলল, ‘কেন, আমার আম্মু! তুমি তো জান না, আমার আম্মু খুব সুন্দর করে ছবি আঁকতে পারেন। দেখছই তো, তিনিই আমার ডানাতে এত সুন্দর করে রঙ লাগিয়ে দিয়েছেন। আর জানো? আমাদের বনে একটা ছবি অঙ্কন শিার স্কুল আছে। আমি সেখানে ছবি আঁকা শিখি। আমার আম্মু প্রতিদিন আমাকে সেখানে নিয়ে যান। আর ছুটির দিনে আমরাও এই বনে ঘুরে বেড়াতে আসি। আমি যখন আরো বড় হবো, তখন আমিও আমার আম্মুর মতো করে অনেক সুন্দর সুন্দর ছবি আঁকব।’
রাজকন্যা বলল, ‘তুমিও খুব ভালো। আমিও তো ছবি আঁকি। আর আমার আম্মুও ছবি আঁকতে পারেন। তিনিই আমাকে খুব যতœ করে ছবি আঁকা শেখান। আমিও তোমার মতো ছবি আঁকা শেখার জন্য অঙ্কন স্কুলে যাই।’
‘তোমারও বুঝি অনেক বন্ধু আছে সেখানে?’ জানতে চাইল প্রজাপতি।
‘হ্যাঁ গো, হ্যাঁ, আমারও অনেক বন্ধু আছে সেখানে। তারাও আমার মতো ছবি আঁকা শেখে। তারাও খুব ভালো ছবি আঁকতে পারে।’ রাজকন্যা বলল তাকে।
‘তা হলে তোমার আঁকা ছবি আমাদের দেখাও না গো?’ আবদার করল প্রজাপতিটি।
রাজকন্যা বলল, ‘একটু দাঁড়াও বাপু, ছবিগুলো আবার আমার কাছে নেই। ঐ যে আমার আব্বু আর আম্মু গাছের ছায়ায় বসে আছেন, ছবিগুলো তাদের কাছেই আছে। আমি এুণই নিয়ে আসছি।’
প্রজাপতি রাজকন্যার হাত থেকে উড়ে একটা গাছের ডালে গিয়ে বসল। আর রাজকন্যা তার আম্মুর কাছে ছবিগুলো আনার জন্য গেল।
‘আম্মু, আমার আঁকা ছবিগুলো দাও না। ঐ যে, ঐ ফুল গাছটার ডালে যে সুন্দর প্রজাপতিটা বসে আছে, সে কিনা আমার আঁকা ছবিগুলো দেখতে চাচ্ছে।’ বললো রাজকন্যা।
রাজা রানী তো হেসেই অস্থির। ‘তাই নাকি’? রানী বললেন, ‘ঠিক আছে, ঠিক আছে। এই নাও তোমার আঁকা ছবি।’ তিনি ছবিগুলো রাজকন্যার হাতে দিলেন।
রাজকন্যা তার ছবিগুলো নিয়ে সেখানে গিয়ে তো আরো অবাক হয়ে গেল! বাহ! এরই মধ্যে অনেক প্রজাপতি এসে ছবি দেখার জন্য ভিড় করেছে। রাজকন্যা খুব খুশি হয়ে তাদেরকেও স্বাগত জানাল। তারপর তার ছবিগুলো একটি একটি করে মেলে ধরে তাদের দেখাতে লাগল। প্রজাপতিগুলো তার আঁকা ছবি দেখে খুব খুশি হয়ে এ ফুলে সে ফুলে উড়ে উড়ে আনন্দে নাচতে লাগল।
তারপর ঐ প্রজাপতিটা তাকে ডেকে বলল, ‘সত্যিই তুমি খুব ভালো ছবি আঁকতে পারো! তোমার আঁকা ছবিগুলো খুব সুন্দর হয়েছে। যে ছবি আঁকে তার মন খুব ভালো আর কোমল হয়। তুমি কি তাহলে আমাদের বন্ধু হবে গো?’
রাজকন্যা ঘাড় নেড়ে বলল, ‘হ্যাঁ গো হ্যাঁ। আজ থেকে তোমরা সবাই আমার বন্ধু।’

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫