ঢাকা, সোমবার,১১ ডিসেম্বর ২০১৭

আগডুম বাগডুম

ঘুম ভাঙানো ভোরের দোয়েল

আবুল হোসেন আজাদ

০২ ডিসেম্বর ২০১৭,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

আজ ভোরে ঘুম ভাঙেনি রাখির। মায়ের ডাকে ঘুম থেকে উঠল। চোখ কচলাতে কচলাতে পুবের জানালাটা খুলতেই এক ঝলক রোদ হুড়মুড় করে ঘরে এসে ঢুকলো। মনটা খারাপ হয়ে গেল রাখির। আজ ভোরের দোয়েলটা ওকে গান শুনিয়ে কেন ঘুম ভাঙায়নি! কোথায় গেল দোয়েলটা? কেন আজ ভোরে ওকে ঘুম থেকে জাগায়নি? এসব ভাবতে ভাবতে দরজা খুলে সোজা সিঁড়ি বেয়ে ছাদে উঠে গেল। ছাদের টবে লাগনো গোলাপ রজনীগন্ধার ঝাড়ে ফুল ফুটেছে। একটা প্রজাপতি এফুল থেকে ওফুলে উড়ে উড়ে যাচ্ছে। সকালের ঝিরি ঝিরি বাতাসে ফুলগুলো দোল খাচ্ছে। দেখে রাখির খুব ভালো লাগে।
কিন্তু দোয়েলটার কথা কিছুতেই মন থেকে যাচ্ছে না। মনটা ওর অজানা ভয়ে শিউরে উঠল। দোয়েলটা কোনো অসুখে পড়ে নিত? কিংবা সাপ বা অন্য কেউ ওকে ধরে নিয়ে যায় নিত? সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে ছাদে পায়চারী করছে রাখি। মা নিচু থেকে ডাক ছাড়েনÑ রাখি তাড়াতাড়ি নিচে চলে এসো। স্কুলে যেতে হবে। তৈরি হয়ে নাও। রাখি গ্রামের স্কুলে টুতে পড়ে। পাড়ার বন্ধুদের সাথে ও স্কুলে যায়।
মায়ের ডাক শুনে রাখি নিচে নামতে যায়। ঠিক সেই সময় দোয়েলটা উড়ে এসে ছাদের কার্নিশে বসল। রাখি অবাক হয়ে প্রশ্ন করে দোয়েলকে : আজ ভোরে ঘুম ভাঙাওনি কেন বন্ধু? দোয়েলটা এবার কান্না জড়িত গলায় বলল : তোমাকে আজ গান শুনিয়ে ঘুম ভাঙাতে না পারার কষ্টটা আমারও। দোয়েলটাকে দেখে প্রজাপতিটা ফুড়–ত করে পালিয়ে গেল।
দোয়েলের কথায় অবাক হয়ে রাখি বলল : কী হয়েছে আমায় বলো? আমি না তোমার বন্ধু। দোয়েলটা গলা খাকারি দিয়ে বলল : কাল সকালে তুমি যখন স্কুলে ছিলে ঠিক সেই সময় তোমার আব্বু একটা লোক নিয়ে এলো। তোমাদের বাড়ির সামনে বড় আমগাছটার ডালে বসে আমি যে গান শোনাই সেখানে এখন আর বসার উপায় নেই। রাখি বলল : কেন কেন? দোয়েল বললÑ আমগাছের সামনেই তোমাদের শাকসবজির তে আর এই েেত পোকামাকড়ে নষ্ট করবে বলে লোকটা কড়া কীটনাশক বিষাক্ত ওষুধ ছিটিয়েছে। তার ঝাঁঝালো বিষাক্ত গন্ধে আমি আসতে পারিনি। কীটপতঙ্গ পোকামাকড় খুঁজে খুঁজে আমরা পাখিরাই তো ওদের খেয়ে ধ্বংস করি। কীটনাশক ছিটানোর কোনো প্রয়োজনই পড়ে না। আমি উত্তরের ওই ঘন বাঁশঝাড়ের একটি কঞ্চিতে বসে সারা রাত কাটিয়েছি। আজ ভোরে আমি কোনো গান গাইনি। কেন না যে গান তুমি শুনতে পাবে না সে গান গেয়ে লাভ কী? ততণে রাখির কাছে ঘটনাটা পরিষ্কার হলো।
রাখি এক রকম ছুটতে ছুটতে নিচে নেমে এসে আব্বুর কাছে গেল। আব্বুকে জিজ্ঞেস করল কেন েেত ওষুধ ছিটিয়েছো? কীটপতঙ্গ পোকামাড়ক ধ্বংস করার জন্য পাখিরাই তো যথেষ্ট। তা ছাড়া আমার বন্ধু দোয়েল পাখিটা ওই গাছে বসে আমাকে ভোরে গান গেয়ে শোনায়। তোমার কর্মকাণ্ডে আজ ঘুম ভাঙাতে আসেনি। আব্বু রাখির কথাটা বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হলো। রাখিকে বুকে টেনে নিয়ে আদর করতে করতে বলল : এমন ভুল কখনো আর হবে না মা। দোয়েলটা উড়ে এসে জানালার পাশে বসে রাখি ও ওর আব্বুর কথা শুনে খুশিতে গেয়ে উঠল।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫