ঢাকা, শুক্রবার,১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

ইউরোপ

ইউরোপে নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

পার্সটুডে

০১ ডিসেম্বর ২০১৭,শুক্রবার, ১৭:৩৮


প্রিন্ট
 ইউরোপে নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

ইউরোপে নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের সম্পর্কের ইতিহাসে এ ঘটনা খুব কমই ঘটেছে যে, দুই দেশের শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে পরস্পরের সমালোচনা করে বক্তব্য রেখেছেন; তাও আবার কোনো বাণিজ্যিক বা সামরিক বিষয়কে কেন্দ্র করে নয় বরং একটি ভিডিও বার্তা রিটুইট করাকে কেন্দ্র করে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি ইসলাম-বিদ্বেষী কয়েকটি ভিডিও রিটুইট করার পর ব্রিটেনের সরকারি ও বিরোধী উভয় দলের নেতারা এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি এতদূর গড়িয়েছে যে, আরেকবার ট্রাম্পের ব্রিটেন সফর স্থগিত করার বিষয়টি নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।

ব্রিটিশ রাজনৈতিক নেতাদের আপত্তি ইসলাম-বিদ্বেষ নিয়ে নয়। তারা বরং এই ভিডিওকে কেন্দ্র করে ব্রিটেনের সামাজিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি দেশটিতে উগ্র চিন্তাধারার বিস্তার ঘটতে পারে বলে শঙ্কিত। কারণ, এই ভিডিও বার্তাগুলো প্রথম টুইট করেছিলেন ব্রিটিনেরই “ব্রিটেন ফার্স্ট” রাজনৈতিক দলের উপ প্রধান জেইডা ফ্রান্সেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের টুইটার একাউন্ট থেকে সেগুলো শেয়ার করেছেন মাত্র।

ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘ব্রিটেন ফার্স্ট’ দলকে ঘৃণা ও সহিংসতা ছড়িয়ে দেয়ার প্রচেষ্টার দায়ে অভিযুক্ত করেছে। অবশ্য পরিসংখ্যান বলছে, এই উগ্র দলে যোগ দেয়া লোকের সংখ্যা তেমন একটা উদ্বেগজনক নয়। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের টুইটার একাউন্টের ফলোয়ারের সংখ্যা চার কোটি ৪০ লাখ হওয়ায় তিনি ফ্রান্সেনের ভিডিওগুলো রিটুইট করায় ব্রিটেনের এই উগ্র দলের চিন্তাধারা কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে।

এদিকে রিটুইট করা তিনটি ভিডিও’র মধ্যে দু’টি থেকে প্রমাণিত হয়েছে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংসতার যে অভিযোগ করা হয় তা সত্য নয়। উদাহরণস্বরূপ একটি ভিডিওতে একটি উঁচু ভবন থেকে এক যুবককে ফেলে দেয়ার যে দৃশ্য রয়েছে তাকে ফ্রান্সেন ইরাকের উগ্র গোষ্ঠীগুলির কাজ বলে প্রচার চালালেও আসলে সেটি ছিল মিশরের গণবিপ্লবের সময়কার দৃশ্য।

ব্রিটেনের পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলো এই ভেবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে যে, ট্রাম্প এসব ভিডিও রিটুইট করে ধর্ম, বর্ণ ও গোষ্ঠীগত সংঘাতকে উস্কে দিয়েছে যা শেষ পর্যন্ত ইউরোপ মহাদেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। ইউরোপে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নানা সমস্যা বিদ্যমান থাকায় যেকোনো সময় এই মহাদেশে নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।

তাদের আরো আশঙ্কা, ট্রাম্পের ইসলাম বিদ্বেষী প্রচারণার কারণে ইউরোপের মুসলমানরা পাল্টা আঘাত হানার চেষ্টা করতে পারেন কিংবা ‘ব্রিটেন ফার্স্ট’ দলের মতো উগ্র রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ঘৃণা উদ্রেককারী তৎপরতা বাড়িয়ে দিতে পারে। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সাবেক প্রধান লিওন প্যানেট্টা এ সম্পর্কে বলেছেন, ট্রাম্প উগ্র একটি গোষ্ঠীর ভিডিও টুইটারে ছড়িয়ে দিয়ে আগুন নিয়ে খেলেছেন।

ব্রিটেন যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে তখন ট্রাম্পের ছড়িয়ে দেয়া ধর্মীয় উস্কানি ব্রিটিশ সমাজকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ফেলে দিতে পারে। একারণে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে থেকে শুরু করে গির্জার পাদ্রীরা পর্যন্ত কঠোর ভাষায় ট্রাম্পের এ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন। কিন্তু এতকিছুর পরও ব্রিটেনের সঙ্গে আমেরিকার কৌশলগত সম্পর্ক ধরে রাখার স্বার্থে হলেও ট্রাম্প যে তার ইসলাম বিদ্বেষী তৎপরতা বন্ধ করবেন তেমনটি আশা করছেন না কোনো পর্যবেক্ষক।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫