আবুল মাল আবদুল মুহিত (ফাইল ফটো)
আবুল মাল আবদুল মুহিত (ফাইল ফটো)

চালের কেজি ৪০ টাকায় নামাতে চান অর্থমন্ত্রী

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, চালের দাম কেজি প্রতি ৪০ টাকায় নেমে আসবে। তিনি বলেছেন, চালের দাম কমিয়ে কেজিপ্রতি ৪০ টাকার মধ্যে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক এক আলোচনায় তিনি একথা বলেন।
উল্লেখ্য, বর্তমানে এই চালের কেজিই প্রকারভেদে ৫৫ টাকা থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, শেষ ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে শুধু এই বছরেই আমরা খাদ্য সমস্যায় পড়েছি। অসময়ের বন্যার কারণে এবার ফসলের ক্ষতি হয়েছে, চালের দাম বেড়ে গেছে। আমরা এটাকে কমিয়ে ৪০ টাকার মধ্যে রাখার চেষ্টা করছি। এবারের বন্যায় হাওর এলাকায় প্রচুর ফসলহানি হয়েছে। এতে কয়েকলাখ টন খাদ্য শস্য বিনষ্ট হয়েছে।

চালের দাম কমানোর বিষয়টিকে সরকার খুব গুরুত্বের সাথে নিয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেন, ইতোমধ্যে চাল আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, সেগুলো চালের দাম কমাচ্ছে। আমরা বিষয়টিকে খুবই গুরুত্বে সাথে নিয়েছি।

‘অ্যাচিভিং এসজিডিস : এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফুড সিকিউরিটি ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট (ইফাদ) আয়োজিত পলিসি ডায়ালগে মন্ত্রী বলেন, এক দশক ধরে আমাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ছয় শতাংশে রয়েছে। আর শেষ তিন বছরে আমরা সাত শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি।

তিনি বলেন, ২০০৯ সলে বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দার সময় আমরা অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে চাঙা করার নীতি গ্রহণ করি, যাতে বাজারে পণ্য সরবরাহ কমে না যায়। এ নীতি অবলম্বন করে আমরা বেশ ভালো সফলতা পেয়েছি।

মুহিত বলেন, বাংলাদেশে ৩০ মিলিয়ন (তিন কোটি) মানুষ দারিদ্র্যসীমায় রয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচন করা আমাদের প্রধান পলিসি। শেষ আট বছরে আর প্রতিবছরই এক শতাংশ করে কমিয়েছি। আমার ধারণা, আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র বিমোচন করতে পারব।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৯৭৮ সাল থেকে ৩২টি প্রকল্পে বাংলাদেশে ইফাদ সরাসরি ৭১ কোটি ৭২ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছে। এর উপকার ভোগ করেছে এক কোটি সাত লাখ পরিবার।

বর্তমানে ইফাদ বাস্তবায়নাধীন ছয়টি প্রকল্পে অর্থায়ন করছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধি, বাজার ও অর্থ প্রবাহে অভিগম্যতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় জীবিকার সন্ধানে সহযোগিতা দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রকল্পগুলোর কাজ এগোচ্ছে।

বিনিয়োগে ইফাদের সহযোগীদের মধ্যে বিশ্ব ব্যাংক, এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংক, নেদারল্যান্ডস সরকার, স্পেন সরকার, জার্মানির কেএফডব্লিউ ডেভলপমেন্ট ব্যাংক, কোরিয়া, নোরাড, ড্যানিডা, ইউএসএইড এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ও দেশী এনজিও রয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.